

নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জঃ পূর্ব শত্রুতার জেরে শূণ্য বাড়ি থেকে ২৮ গৃহপালিত গরু লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বাংলাবাজার ইউনিয়নের চর বাংলাবাজার গ্রামে।সেখানে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে এই গরু লুটের অভিযোগ আনে।
জানা গেছে, চর বাংলাবাজার গ্রামে গত ৩ তারিখে স্বামী -স্ত্রীর ঝগড়া থামাতে গিয়ে নিজাম মিজির সাথে বাকবিতন্ডায় হয় মনি মোল্লার। পরে দুই জনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে গুরুত্ব আহত হয় মনি মোল্লা তার দুইদিন পর (৫ মার্চ) অসুস্থ থাকা অবস্থায় মারা যান মনি মোল্লা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (১১ মার্চ) বিকালে নিজাম মিজির বাড়ি থেকে গৃহপালিত ২৮ টি গরু লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠে মনি মোল্লা পক্ষের লোকজনদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, নিজাম মিজি দীর্ঘদিন ধরে গরু- লালন পালন ও কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ঘটনার দিন বুধবার বিকেলে গ্রামের দক্ষিন মাঠে ঘাস খাওয়ানোর পর গরু- বাড়িতে ফিরিয়ে এনে গোয়াল ঘরে রাখা হলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মনি মোল্লার পক্ষের লোকজন একে একে সব গরু গুলো নিয়ে যায়।
এ সময় স্থানীয়রা বাঁধা দিতে এগিয়র আসলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়। লুট হওয়া পশুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় থানা লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা।
গরুর মালিক পারুল বেগম (রুপা) বলেন, আমার প্রবাসী ছেলে পাপ্পু ১০টি গরু কিনে নিজাম মিজির কাছে লালনপালন করতে দেয় সেই গরু সহ ২৮টি গরু লুট করে নিয়ে যায় মনি মোল্লার লোকজন।আমরা এখন এই গরুগুলোর সন্ধান পাচ্ছিনা।
উল্লেখ্য স্বামী মনি মোল্লা তার স্ত্রী তানজিরা বেগমের সাথে ঝগড়া থেকে মারামারি লেগে যায় নিজাম মিজি মারামারি থামাতে এলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্ডকোষে আগাত পেয়ে গুরুত্ব আগত হয় মনির মোল্লা। পরে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসলে দুইদিন পরে সে মারা যায়। সেই ঘটনার সূত্র ধরে মানুষ শূন্য হয়ে পরে নিজাম মিজির বাড়ি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মনির মোল্লার লোকজন নিজাম মিজি ২৮টি গরু লুটে নেয়।
এই বিষয়ে মনি মোল্লার ছেলে মোঃ শ্যামল জানান, নিজাম মিঝি ও তার দুই ছেলে মেয়ে আমার বাবাকে প্রচন্ড পরিমান মারছে, মারার পর ওনি বাচাও বাচাও বলে চিৎকার করছে তার পর ও মারছে। এক পর্যায় আমার বাবা উঠতে পারছে না, মাইরা রাস্তায় ফালাইয়া রাখছে পরে আমার চাচা খবর পেয়ে এসে মাথায় পানি ডালছে এরপর কোন নরাচার করছে না। পরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার করে বাড়িতে আনলে পরদিন আবার বাবা অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপতাল নেওয়ার পথে মারা যান।
গরু তো আমরা আনি নাই তানা নিজেরা সরাইয়া আমাদের নামে মামলা দিতে চাইছে লুট মামলা। তখন আমরা এক কাজ করছি তাদের গরু ঠিক আছে কিনা তার ছেলের কাছে বুঝাইয়া দিয়ে আসছি। বলছি গরু ২৮ টা ঠিক আছে কিনা তার ছেলে বলছে ঠিক আছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মমিনুল ইসলাম জানান, গরু চুরির ঘটনায় এখনো কেউ কোন অভিযোগ করে নাই, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নিবো।
আপনার মতামত লিখুন :