শিরোনাম

নিশ্চিত মৃত্যুর কাছ থেকে ফেরার পর…

2016_07_11_14_05_20_lFUxUQYL33K15F0uoetq9TAAdfVzsd_originalআমাদের জীবনকে এখন বোনাস লাইফ বা দ্বিতীয় জীবন বলাই যায়। যেভাবে বাসটি ৩৬০ ডিগ্রি উল্টে আবার কাত হয়ে খাদে পড়েছিল তাতে বেঁচে থাকাটাই মিরাকল। I reapet miracle!!

টানা তিনরাত ঘুম হয়নি তাই গাড়িতে উঠেই দিলাম ঘুম। ওটাই হতে পারতো আমার শেষ ঘুম বা মরণের ঘুম। কারণ পুরো ফাঁকা রাস্তায় প্রচণ্ড গতিতে চালকের খামখেয়ালিতে বাসটি যখন উল্টে গেল তখনও আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ৮৫ কেজি ওজনের এই শরীরটা কয়েকটা ডিগবাজি খেয়ে কাত হয়ে থাকা বাসের জানালা বরাবর হাটু পানিতে নাকি অচেতন পড়েছিল। একদম সোজা হয়ে থেকে আমি নাকি হা করে ছিলাম। দিপা ডাকতেছিল… এক্সিডেন্ট ঘটার মিনিট তিনেক আমার কোনো রেসপন্স ছিল না। আমার অজান্তে সব ঘটনা ঘটে যাবার পর যখন বাইরে বের হয়ে আসি তখন আমি হতবিহ্বল হয়ে যাই। এরপরের মিনিট পনেরো ছিল এক ভয়াবহ ঘোর। জ্ঞান হারানো আর ফেরার মাঝামাঝি অবস্থা।

উদ্ধার পর্ব : প্রাথমিকভাবে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় একটি বৌদ্ধ মন্দিরে আশ্রয় পাই। মানুষের মাঝেই স্রষ্টার বসবাস। এরপর আমার দুই ভাই রুহুল ও মোজাম্মেল একযোগে গাড়ি নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই স্পটে হাজির। তারপর আর আমাদের কিছু করতে হয়নি। হসপিটাল, চেকআপ, খাবার, পোশাক সবকিছু থেকে ফ্লাইট পর্যন্ত তুলে দেয়া সবকিছু যেনো ম্যাজিক। কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আপনারা কখনোই পার্টনার না, একজীবনে আপনারা শুধুই ভাই।

মানুষ পশু : জলকাদায় একাকার হয়ে শুয়ে আছি। একজন উদ্ধারকারী আসলো। পরিচয় জানার পর মোবাইল নাম্বার চাইলো। বল্ল ‘স্যার আমার ভাই কাস্টমসে দরখাস্ত করছে..একটু দেখবেন।’ পরে ফোন দেবনে। আমরা তো মাননীয় স্পিকার। ভাগ্য ভালো কাস্টিং চায় নাই। ভোদাই পরে ফোনও দিছিল আপাতত ব্লক লিস্টে আছে।

ইমাম ভাই, ভাবিকে স্বশ্রদ্ধ সালাম দিবেন। তার অবদান চিরদিন মনে থাকবে।
রুহুল ও মোজাম্মেল ভাইদের পরিবার তথা আমার ভাবিরা যা করেছে তা শুধুই আপন বোনরাই করে। দিপাকে কাপড়-চোপড় দেয়া, আমাদের জন্য রোজার মাসেও খাবার রেডিসহ যা যা দরকার সবকিছু। হয়ে গেলাম আজন্মের ঋণী।

জীবন-মরণে যে জন : গভীর ঘুমজনিত কারণে আমি অ্যাক্সিডেন্টের বেশ কিছু সময় পর পর্যন্ত blank headed থাকলেও শারীরিকভাবে বেশি আঘাত পেয়েছে দিপা। যে কারণে ওর ১০টা এক্সরে ও সিটি স্ক্যান করাতে হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর প্রায় ঘণ্টাদুয়েক পেরিয়ে গেলেও বুঝতে পারেনি যে ও কী পরিমাণ আহত। তাইতো আমি যে অজ্ঞান ছিলাম এটা বলে একটু পর পর কেঁদে উঠেছিল। ও নাকি ভেবেছিল আমি হয়তো আর নাই। ওই পরিমাণ অসুস্থ হয়েও শুধু আমার কথা ভেবে ডুকরে কেঁদেছিল। আমার কোনো দুঃখ থাকা উচিত না। জীবনেও দিপা, মরণেও সেই তো পাশে…।

বাবা-মাকে শুধু বলেছিলাম একটু ছোট অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। হসপিটাল এ ভর্তি-টর্তি এগুলো বলিনি। তাতেই খাওয়া দাওয়া বন্ধ। কাটিয়েছে নির্ঘুম রাত। বাসায় আসার পর এখন একটু স্বাভাবিক।

কাউকেই জানানো হয়নি। তবুও যেসব বন্ধুরা, স্বজন, সহকর্মীরা জেনেছে তাদের ভালোবাসায় ধন্য। কৃতজ্ঞতা অসীম। সবার দোয়ায় এখন পর্যন্ত মোটামুটি সুস্থ আছি। ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর হসপিটাল থেকে ছাড়া পেয়েছি। ঢাকা এসে পৌঁছেছি। এখন পর্যন্ত বেঁচে আছি। তবে জানি না দীর্ঘমেয়াদী কোনো যন্ত্রণা অপেক্ষা করছে কিনা। বরাবরের মতোই দোয়া করবেন।

কাজ কখনোই জীবনের চেয়ে মূল্যবান নয়। নিয়তির কাছে আমরা অসহায়। কতো মানুষ প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। জীবন কতো ঠুনকো…।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: মুক্ত কলাম

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*