শিরোনাম

আলতাফ ভাই রাজনীতি করতেন মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্য ; মানুষটি ছিলেন নির্ভীকতার প্রতীক

আলতাফ মাহমুদ/বুলবুলচির বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ । সংগ্রামী এই নেতার সঙ্গে পরিচয় ২০০৬ সালে। তখন স্থানীয় একটি পত্রিকায় কাজ করি। সে সময় নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক ইউনিয়ন বলতে কোন সংগঠন ছিলনা। উঠতি বয়সেন উন্মাদনা থেকে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেই । পরামর্শ করি সে সময়কার সহকর্মী চিরবিদায় নেয়া মোহাম্মদ পলাশ (মার্শাল পলাশ) এর সাথে। যাই হউক দুইজনে মিলে এক বড়ভাইয়ের পরামর্শে দেখা করি আপষহীন এই নেতা আলতাফ মাহমুদের সঙ্গে। তার পরামর্শ অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে প্রথম সাংবাদিক ইউনিয়ন গঠন করি স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের নিয়ে। আলতাফ ভাইয়ের পরামর্শে কৌশলে নেতৃত্ব ছেড়ে দেই সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছে।

কপালমন্দ, যাদের কাছে সংগঠনের হাল ছেড়ে দিলাম তাদের সঙ্গে নিজেদের মতবাদ পার্থক্য চিন্তা করিনি । কিছুেদিন না যেতেই সিনিয়রদের সঙ্গে আমাদের কয়েকজন জুনিয়রের সম্পর্ক সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছিল। সংগঠন থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।  বার্তা সংস্থা এনএনবি’র নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুবাদে আরেক নেতা মোল্লা জালাল ভাইয়ের সঙ্গে রয়েছে আমার গভীর সখ্যতা। জালাল ভাইয়ের সঙ্গে গিয়ে আলতাফ ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের আরো উন্নতি হয়। আলতাফ ভাই নারায়ণগঞ্জের সোহেল হিসেবে চিনতেন। পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত জানাই আলতাফ ভাই  ও জালাল ভাইকে। তারা দুজনেই বললেন মূল ধারার সংগঠকদের সঙ্গে থাকতে হবে।

Exif_JPEG_420

Exif_JPEG_420

সে সময় সংহঠিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন। এ সংগঠনে থাকছেন দেশের খ্যাতিমান পত্রিকা , টিভি চ্যানেলের সিংহ ভাগ সাংবাদিকরা। সব মূল ধারার সাংবাদিকরা রয়েছেন যে সংগঠনে জেলার সব প্রভাবশালী সাংবাদিকদের একাট্টা। স্থান হলো বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নভুক্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নে (এনইউজে) । যে সাংবাদিক ইউনিয়ন আজ একটি মডেল। কেন্দ্রীয় নেতারা খুব সু-সংগঠিত ই্উনিয়ন হিসেবেই নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন (এনইউজে)কে। আমি দারস্থ হলাম আমার এ পেশার গুরুজনদের কাছে। তারাও আমাকে যায়গা করে দিলেন । বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

খুব কম সংখ্যকবার আলতাফ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা ও কথাবার্তা হলেও বুঝতে পেরেছি আলতাফ ভাই তার সহকর্মীদের জন্য রাজনীতি, আন্দোলন সবকিছুতেই এগিয়ে থাকতেন ।  মত নিয়ে দ্বিমত থাকলেও সাংবাদিকদের এমন কেউকে পাওয়া যাবেনা যিনি তার সততা, আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। আলতাফ মাহমুদ রাজনীতি করতেন মাঠপর্যায়ের সাংবাদিক সহকর্মীদের জন্য। সাংবাদিক সমাজে আলতাফ মাহমুদের ভাবমূর্তি ছিল  ভোগ-বিলাস থেকে দুরে থাকা । মানুষটি ছিলেন নির্ভীকতার প্রতীক।
নেতৃত্বের শীর্ষে থাকলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের তেমন একটা যোগাযোগ থাকেনা এখানে এটাই স্বাভাবিক। তবে এই নেতা  মফস্সল সংবাদকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে গড়েছিলেন বিশাল একটি নেটওয়ার্ক।  নিজেকে দিয়েই বুঝেছি  আলতাফ মাহমুদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল সহকর্মীদের মতো , সিনিয়র বা বড় নেতা হিসেবে কোন ভাব বিলাসকে তিনি পছন্দ করতেন না

IMG_20160125_195202আলতাফ ভাই একবার আমাকে বলেছিলেন হতাশ হওয়ার কিছু নেই , লেগে থাকেন হয়ে যাবে। দায়িত্ববোধ থেকে এ পেশায় কাজ করলে অস্বচ্ছলতাতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। আপনি যখন তথ্যের ভান্ডর সাজিয়ে বসতে পারবেন তখন আপনার থেকে বেশি কেউ স্বচ্ছল নয়।

প্রিয় নেতার প্রতি রইলো সহস্র শ্রোদ্ধা,আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন ( আমীন)।

বুলবুল আহমেদ সোহেল,

সম্পাদক ও প্রকাশক ,আজকের বিডি টুয়েন্টিফোর ডট কম। সংবাদকর্মী (নারায়ণগঞ্জ) , একাত্তর টিভি।

কোষাধ্যক্ষ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন।##

 

Be Sociable, Share!
বিভাগ: মুক্ত কলাম, সারা বাংলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*