শিরোনাম

রাতে আকাশ জুড়ে নামবে চোখ ধাঁধানোর আলোর বৃষ্টি

আজকের বিডি ন্যাশনাল ডেস্ক: পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে উল্কাবৃষ্টি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাতে আকাশ জুড়ে নামবে আলোর ফুলঝুরি। ছড়িয়ে পড়বে আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত। বিজ্ঞানীরা যাকে বলছেন চোখ ধাঁধানোর আলোর বৃষ্টি। আকাশ ম-লী আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে বায়ুম-লের আলোর এই ফুলঝুরিতে। তবে আকাশ পরিষ্কার থাকলেই কেবল এটা দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশ এ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এফআর সরকার বলেন, শ্রাবণ মাসে সাধারণত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে। এ কারণে এবার উল্কাবৃষ্টি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকলে এটি দেখা যাবে।

এফআর সরকার বলেন, উল্কাবৃষ্টি মূলত শুরু হয়েছে জুলাইয়ের ১৭ তারিখ থেকে। তা চলবে আগস্টের ২৪ তারিখ পর্যন্ত। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এটি পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে। যে কারণে এটি এই দু’দিন রাতের আকাশে খালি চোখেই দেখা যাবে। তবে তিনি বলেন, আকাশে ৪ তারিখে নতুন চাঁদের জন্ম নেয়ার কারণে ওইদিন রাত ১টার আগে এটি দেখা যাবে না। রাত ১টার পর চাঁদ ডুবে গেলে উল্কাবৃষ্টি খালি চোখেই দেখা যাবে। তবে শহর জুড়ে আলোর বাতির কারণে শহর থেকে ভালভাবে দেখা যায় না। শহরের বাইরে অন্ধকার যে কোন স্থানে গেলেই এটি ভালভাবে প্রত্যক্ষ করা যাবে। আকাশের উত্তর-পূর্ব দিকে তাকিয়ে উল্কা বৃষ্টি প্রত্যক্ষ করার কথা বলেন তিনি।uolka

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, উল্কাবৃষ্টি সাধারণত মধ্য রাত থেকে শেষ রাতের দিকে অন্ধকার সময়ে ভালভাবে প্রত্যক্ষ করা যাবে। এবারের উল্কাবৃষ্টি আগামীকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ভোররাত আবার শুক্রবার মধ্যরাত থেকে পরদিন ভোররাত পর্যন্ত যে কোন সময়ে আকাশে খালি চোখেই আলোর এই ফুলঝুরি দেখা যাবে। যাকে বিজ্ঞানীরা উল্কাবৃষ্টি নামে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, সুইফ টার্টল নামের এ ধরনের ধূমকেতুর কণা থেকেই মূলত জন্ম নেয় এই উল্কাবৃষ্টি। এটি আগস্টের এই সময়ে পৃথিবীর আবর্তন পথে পথে ঢুকে পড়ে। তখন এই ধূমকেতু থেকে এক ধরনের ডাস্ট বা বস্তু কণা বায়ুম-লে ছড়িয়ে পড়ে। বায়ুম-লে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি আলোক উজ্জ¦ল হয়ে এদিক ওদিক বৃষ্টির মতো ছুটতে থাকে।

তাদের মতে, পৃথিবীতে উল্কাপাতের ঘটনা নতুন নয়। অন্ধকার রাতে তারা ঝলমল আকাশের দিকে তাকালে অনেক সময়ে আলোক উজ্জ¦ল কিছু বস্তুর পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে দেখা যায়। এটা বিজ্ঞানীরা উল্কাপি- বা উল্কাপতন বলে থাকেন। কিন্তু এই উল্কাপতনই মাঝে মাঝে বৃষ্টির মতো বায়ুম-লে আলো ঝলমলে হয়ে ঝড়তে দেখা যায় যাকে উল্কাবৃষ্টি হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা।

তাদের মতে, উল্কা হলো মহাকাশে পরিভ্রমণরত পাথর বা ধাতু দ্বারা গঠিত ছোট মহাজাগতিক বস্তু। যা পৃথিবীর বায়ুম-লে প্রবেশ করলে বায়ুর সংঘর্ষে জ্বলে ওঠে। তখন একে উল্কাপাত বলে। এই উল্কাপাতের জন্য দায়ী বস্তুগুলোকে উল্কা বলে। উল্কাপি- গ্রহাণুর তুলনায় আকারে অনেক ক্ষুদ্র। আকারে এরা ছোট ধূলিকণা থেকে ১ মিটার দৈর্ঘের হয়ে থাকে। এর চেয়েও ছোট বস্তুকে মহাজাগতিক ধূলিকণা বলে। তারা বলছেন, এসব উল্কার বেশিরভাগই গ্রহাণু বা ধূমকেতুর অংশবিশেষ। বাকি অংশ মহাজাগতিক বস্তুর সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ। যখন কোন উল্কা পৃথিবীর বায়ুম-লে প্রবেশ করে তখন এর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ২০ কিমি বাড়তে থাকে। এ সময়ে এ্যারোডাইনামিক্স তাপের কারণে উজ্জ্বল আলোক ছটার সৃষ্টি হয়। কিছু কিছু উল্কা একই উৎস হতে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভেঙে প্রজ্ব¡লিত হয়। যাকে উল্কা বৃষ্টি বলা হয়। প্রায় ১৫ হাজার টন পরিমাণ উল্কা, ক্ষুদ্র উল্কাকণা এবং মহাজাগতিক ধূলিকণা প্রতিবছর পৃথিবীর বায়ুম-লে প্রবেশ করে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, রাতের মেঘমুক্ত আকাশে অনেক সময় নক্ষত্রের মতো ছোট উজ্জ¦ল বস্তু পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে দেখা যায়। আর তাই হলো উল্কাবৃষ্টি। রাতের আকাশে তারা গুনতে যেমন মজার তেমনি মজার উল্কাবৃষ্টি দেখা। মেঘহীন রাতের আকাশে আমরা হঠাৎ উল্কাপাত দেখি। ঝাঁকে ঝাঁকে, দলে দলে উল্কা যখন পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে তখন তাকে উল্কাবৃষ্টি বা উল্কাঝড় বলে। দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতি উৎসবে মেতেছে। উল্কাপাতের ঘটনাকে বলা হয় ‘ইটা এ্যাকুয়ারাইডস’। পৃথিবীর সব জায়গায় সমানভাবে এটি দেখা যায় না। উত্তর গোলার্ধের লোকজন প্রতি ঘণ্টায় ১০টি উল্কাপাত আর দক্ষিণ গোলার্ধের লোকজন প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি উল্কাপাত দেখতে পারে। এফআর সরকার বলেন, এবার আর বেশি পরিমাণ উল্কপাতে দেখা পাওয়া যাবে। যা আকাশের এদিক ওদিক ছুটে পড়তে থাকবে।

তবে বর্ষার মেঘ অনেকটা উল্কাবৃষ্টি দেখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিজ্ঞানীর বলেন, বর্ষার ভারি মেঘে আকাশ ঢেকে না থাকলে বা ওই দুই রাতে জমাট বাঁধা অন্ধকার এলাকায় থাকলে আকাশে দেখা যাবে ওই আলোর ফুলঝুরি। একটি ধূমকেতুর সৌজন্যে। যার নাম- ‘সুইফ টার্টল’। প্লুটোর পর এই সৌরম-লের প্রায় শেষ সীমায় যে ‘ক্যুইপার বেল্ট’ রয়েছে, সেখান থেকে ছুটে আসছে ওই ধূমকেতু কণা। এই কণাগুলো শনশন করে ছুটে আসতে থাকে পৃথিবীর দিকে। ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার মাইল গতিবেগে। কিন্তু পৃথিবীর ওপর বিছানো রয়েছে যে বায়ুম-লের চাদর, যা বায়ুর কোটি কোটি কণা দিয়ে ভরা। ধূমকেতুর নিউক্লিয়াসের খ-বিখ-গুলোর সঙ্গে বায়ুম-লের কণাগুলোর ধাক্কাধাক্কি হয় সজোরে। জোরে ধাক্কাধাক্কির কারণে জ্বলে ওঠে আগুন। অত্যন্ত গরম হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। আর আমরা আকাশে দেখতে পাই আলোর ফুলঝুরি বা আলোর ঝর্ণাধারা। এটাই উল্কাবৃষ্টি।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: ভিন্ন রকম খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*