শিরোনাম

ভারতের অর্থমন্ত্রী জেটলী ঢাকা আসছেন আজ

256724_163নিজস্ব প্রতিবেদক: চারশ’ পঞ্চাশ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে ভারতীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলী আজ মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন।

তিনদিনের এ সফরে তিনি বুধবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সাথে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করবেন। এ সাক্ষাতের পরই ঋণচুক্তিটি সই করা হবে।

ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিটের তৃতীয় ধাপের এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে আরো দুই দফায় ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
এর আগে ২০১০ সালের পর থেকে দুই দফায় মোট ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

তবে সাত বছরে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণের মধ্যে আক্ষরিকভাবে অর্থ পাওয়া গেছে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।

মূলতঃ কঠিন শর্ত, প্রতিযোগিতার অভাব, দরপত্রের জটিলতা এবং জমি নির্বাচন দীর্ঘসূত্রিতা কারণে ভারতীয় ঋণ ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

শর্তের কারণে, এই ঋণের বাস্তবায়িত প্রকল্পের যাবতীয় কেনাকাটার ৭৫ ভাগ করতে হবে ভারত থেকে। এবং প্রকল্পগুলোর সরাসরি তদারকি করবে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি বছর এপ্রিলে ভারত সফরের সময় ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের একটি সমঝোত স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এখন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলী বাংলাদেশের আগমনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঋণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ঋণের এ অর্থ মোট ১৭টি প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্পভিত্তিক পৃথক পৃথক ঋণ চুক্তি সই হবে। এরপর অর্থ ছাড়করণ শুরু হবে।

পূর্বে দুটি ধাপের পর এই ধাপের শর্ত একই ধরণের হচ্ছে। ঋণের সুদের হার হবে এক শতাংশ। থাকবে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিওড, এ সময়ে ঋণের কোনো কিস্তি পরিধোধ করতে হবে না। মোট ২০ বছরের এইঋণ পরিশোধ করতে হবে।

তবে প্রস্তাবিত এ ঋণে নেয়া প্রকল্পের ৭৫ ভাগ কেনাকাটা ভারত থেকে করতে হবে। বাকি কেনাকাটা অন্য উৎস থেকে করা যাবে।
প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে ভারতীয় ঠিকাদার কোম্পানি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ঋণের অর্থ প্রদান করবে সে দেশের ‘এক্সিম ব্যাংক’। ব্যাংকটি এজন্য এদেশে একটি শাখা খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সূত্র জানায়।

ইআরডি সূত্র জানায়, প্রথম দফায় ২০১০ সালে ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী (পরে রাষ্ট্রপতি) প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এসে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ ঋণের আটটি প্রকল্পের বিপরীতে এ পর্যন্ত ৫৭ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। এর মধ্যে ২০ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে সফরে আরো ২০০ কোটি ডলারর ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মোট ১৪টি প্রকল্পে এই ঋণ ব্যবহার করার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, ভারতীয় অর্থমন্ত্রীর তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পাড় করবেন।

সফরের প্রথমদিনে তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র আমন্ত্রণে এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিবেন।

মঙ্গলবার চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) আমন্ত্রণে এক অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: বিশেষ প্রতিবেদন

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*