শিরোনাম

বীর বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের বিজয়ের মাস : আজ ১ ডিসেম্বর

sa_led_3বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ‘পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে/ জ্বলন্ত ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে, নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগি¦দিক/ এই বাংলায়/ তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।’ দেশের শ্রেষ্ঠ কবি প্রয়াত শামসুর রাহমানের এই কবিতা একাত্তর সালের এ মাসেই সত্যি হয়ে দেখা দিয়েছিল বাঙালীর জাতীয় জীবনে। বছর ঘুরে আবার ফিরে এসেছে বিজয়ের মাস। আজ ১ ডিসেম্বর। আজকের দিনটিতেই সূচনা ঘটতে যাচ্ছে বাঙালীর কাক্সিক্ষত মুক্তি সংগ্রামের বিজয় অর্জনের মাস ডিসেম্বরের। পূর্তি হলো স্বাধীনতার ৪৩ বছর।

এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছে বিজয়ের মাস। ইতোমধ্যে একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। একাত্তরের গণহত্যাকারী ও রাজাকার শিরোমনিরা এখন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। কসাইখ্যাত ঘৃণ্য হন্তারক কাদের মোল্লার ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতচক্র ও তাদের দোসর বিএনপির রাজনৈতিক অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে। স্বাধীনতা বিরোধীদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে একাত্তরের মতোই যেন জেগে উঠেছে স্বাধীনতার পক্ষের বীর বাঙালী জাতি। বহু কাক্সিক্ষত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করার মাধ্যমে গত ৪৩ বছরের লজ্জা ঘোচানোর সম্ভাবনায় তাই সারা জাতি এখন উদ্বেলিত।
ডিসেম্বর মাসটি রাষ্ট্র পাওয়ার মাস, কষ্ট পাওয়ার মাস। বাঙালী জাতির একটি নিজস্ব রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাস ডিসেম্বর। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার এ দেশীয় দোসরদের পরাস্ত করার মাস। আবার ৩০ লাখ মানুষ হারানোর দুঃসহ কষ্টের মাস। একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াকু বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধ এ মাসে বিজয়ের সুমহান মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিখরা সেসব দিনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র যুগিয়েছিল মুক্তির লড়াইয়ের অনিঃশেষ প্রেরণা। সে সময়ের গানে গানে বিধৃত আছে লাঞ্ছিত-নিপীড়িত, মুক্তিপাগল সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর প্রাণের উচ্ছ্বাস, ত্যাগ, লড়াই ও মুক্তির মন্ত্র। উনিশ শ’ একাত্তরে দীর্ঘ ন’টি মাস পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালীর মৃত্যুপণ জনযুদ্ধ শেষে অর্জিত হয়েছিল প্রত্যাশিত বিজয়। লাখো শহীদের আত্মদান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী অবদান, ত্যাগ এবং অসংখ্য মা-বোনের মহামূল্যবান সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ নিজের স্থায়ী আসন অর্জন করে নেয় বিশ্ব মানচিত্রে। তাই কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি এই ডিসেম্বর মাসজুড়ে স্মরণ করবে লাখো শহীদানকে। তাঁদের অপূর্ণ স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা বাস্তবায়নের শপথে নতুন করে উজ্জীবিত হবে।
জীবনের গভীরতম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ৪৩ বছর পার করা এ দেশের মানুষের কাছে এবারের ডিসেম্বর শুধু বছর-পরিক্রমায় আরও একটি মাস নয়; এবারের ডিসেম্বর নতুন ভাবনা ও চেতনা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। যে দলটি নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশটিকে স্বাধীন করেছিল, সেই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। সর্বত্রই এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দীপ্ত পথ চলা। তাই এবার নতুন ভাবনা স্বপ্ন আর বাস্তবতাকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়ার শপথ নিয়েই বাঙালী জাতি মাসব্যাপী উদযাপন করবে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর।
স্বাধীনতা প্রিয় বাঙালী জাতি আজ নতুন আশায় বুক বেঁধেছে, ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতাকে অর্থপূর্ণ করে তুলতে দীর্ঘ পথচলায় দুর্নীতি-অপশাসন ও স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মতো হাজারো জঞ্জালে ভরে যাওয়া স্বপ্নের জাল ঝেড়ে পরিষ্কর করার সময় এসেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকরের মধ্যে দিয়ে জাতি অভিশাপমুক্ত হয়েছে। একাত্তরের ক্ষতগুলোকে সারিয়ে ফেলা বা রোধ করার এখনই সময়। অচিরেই যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন হবে, বাঙালী জাতি আরও একটি কলঙ্কের হাত থেকে মুক্তি পাবে, দেখতেই এখন অধির অপেক্ষা দেশের কোটি কোটি মানুষের।
মহান বিজয়ের মাস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নিয়েছে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচী। বিজয় দিবস উদযাপনে গঠিত জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ডিসেম্বরে সারাদেশে মাসব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। জাতীয় কমিটি পহেলা ডিসেম্বরকে ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ হিসাবে পালন করবে। জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ৭-৩০ মিনিটে মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা করবস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল ৯-৩০ মিনিটে শাহাবাগ প্রজন্ম চত্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের জমায়েত এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন অভিমুখে বিজয় শোভাযাত্রা। জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: বিশেষ প্রতিবেদন

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*