শিরোনাম

বজ্রপাতে ১২ জন নিহত

indexবিশেষ সংবাদদাতা কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে আজ মঙ্গলবার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত সাতজন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোরগঞ্জে মা-ছেলে, টাঙ্গাইলে বাবা ও দুই ছেলে, মানিকগঞ্জে এক কৃষক, এবং সুনামগঞ্জে দুই উপজেলায় তিনজন করে ছয়জন রয়েছেন।

গতকাল সোমবারও কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা, বগুড়া, নাটোর ​ও রাজশাহীতে বজ্রপাতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানোর খবর

কিশোরগঞ্জ: করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির রাব্বানী এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে করিমগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী গোজাদিয়া ইউনিয়নের পূর্বচর করনশী এলাকায় মারুফ মিয়ার টিন শেডের বসত ঘরের ওপর বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারুফের স্ত্রী ললিতা বেগম ও ছেলে রিমনের মৃত্যু হয়। এ সময় গুরুতর আহত হয় ললিতার মেয়ে বিউটি আক্তার। তাকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল: মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভোর ৪টার দিকে মধুপুর গড় এলাকার মাগন্তিনগরের আদিবাসী কৃষক নিখিল হাজংয়ের টিনের ছাপড়া ঘরের চালে বজ্রপাত হয়। এতে ওই ঘরে ঘুমিয়ে থাকা নিখিল হাজং (৪২) এবং তাঁর দুই ছেলে জজ সিমসাং (১০) ও লোটন সিমসাং (৮) মারা যায়। এ ঘটনায় নিখিলের স্ত্রী জনতা সিমসাং আহত হয়। তাঁকে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মানিকগঞ্জ: সাটুরিয়া উপজেলার রাইল্যা গ্রামে সকালে বজ্রপাতে মইজুদ্দিন (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল নয়টার দিকে বাড়ির উঠানে গরুর দুধ দোহাচ্ছিলেন মইজুদ্দিন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে ওই কৃষকের বাছুরও মারা যায়। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মুর্তজা মাসুম বলেন, পারিবারিকভাবে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা হবে।

সুনামগঞ্জ: পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের একদল লোক সকাল আটটার দিকে নৌকায় করে দিরাই বাজারে যাচ্ছিল। পথে বজ্রপাত হলে শামীম মিয়া (৪৫) ও তহুর মিয়া (৩৫) মারা যান। এ ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে হামিদ ও রুবেলকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের ভর্তি করা হয়েছে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
বেলা ১১টার দিকে একই ইউনিয়নের টুক দিরাই গ্রামে বজ্রপাতে কিশোর শেমরান মিয়া (১১) মারা যায়। ঘটনার সময় সে বাড়ির পাশের রাস্তায় ছিল।

অন্যদিকে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামের পাশের বেড়া মোহনা বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে মারা যান হৃদয় মিয়া (১৮), ইমান মিয়া (২০) ও খাইনুল হক (২২)।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল জলিল ও শাল্লা থানার ওসি বজলার রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: বিশেষ প্রতিবেদন

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*