শিরোনাম

সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে বললেন ফারুক

a16d38ceadfc6fd61668767abda4ca4c-59b285dd95a3bআজকেরবিডি বিনোদন ডেস্ক: চলচ্চিত্র পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শাকিব খানের যে দ্বন্দ্ব ছিল, গত ২৯ আগস্ট রাতে চিত্রনায়ক ফারুক তাঁর উত্তরার বাসায় পরিবারসংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে এনে তার সমাধান করে দেন। এতে করে শাকিবের ওপর যে বহিষ্কারাদেশ ছিল, সব বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু পরদিন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকনের একটি বক্তব্য নিয়ে আবার বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ৬ সেপ্টেম্বর চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন ভিন্ন কথা। শাকিব প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র পরিবারের অবস্থান জানাতে আজ শুক্রবার সকালে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন বরেণ্য অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক ফারুক। জানালেন বহিষ্কারবিষয়ক সবকিছুর আদ্যোপান্ত আর চলচ্চিত্রের মানুষদের সামনের দিনের করণীয় কিছু বিষয়ে।

আপনার বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করার পরই তো শাকিব খানের ব্যাপারে চলচ্চিত্র পরিবারের যে আপত্তি ছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
একদমই তা-ই। আমি কিন্তু বহিষ্কার জাতীয় সবকিছুর বিপক্ষে। এই পরিবার সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত কাউকে বহিষ্কার করেনি। বলা হয়েছে, আমরা কাজ করব না। এটাও অবশ্য ইন-ডাইরেক্টলি বহিষ্কারই বলা যায়। আমি বলব, শাকিব হয়তো সেদিন স্বাভাবিক ছিল না, কেউ হয়তো তাকে ফুসলিয়েছে আর এতে হয়তো মুখ ফসকে কিছু কথা বলেছে। আমাদের কিছু লোকজনও রংচং দিয়েছে। আমি কিন্তু ওকে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কিছুই বলিনি। সবাই মিলে ওর সঙ্গে কাজ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাকে বয়কট করবে। ঘটনা আসলে অন্যখানে।

কী সেই ঘটনা?
যৌথ প্রযোজনা নিয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়া যেভাবে কাজ করছিল, তা নিয়ম না মেনেই। এতে করে চলচ্চিত্রের কিছু লোকজন বলা শুরু করল, এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা খাব কী? একটা সময় ৯০ ভাগ লোক আমাদের (চলচ্চিত্র পরিবার) দিকে চলে আসে। যারা নোংরা রাজনীতির, তারা এটা নিয়ে খেলা শুরু করল। সবার পক্ষ থেকে হঠাৎ করে আমাকে আহ্বায়ক হওয়ার অনুরোধ করে। আমি ওদের বললাম, আহ্বায়ক হতে পারি, তবে আমি যেটা করব সবার ভালোর জন্যই করব। তাই সবাইকে মেনে নিতে হবে। সবাই একবাক্যে তা স্বীকার করল। আহ্বায়ক বানিয়ে নানানজন নানান কথা মিডিয়াতে বলবেন, এটা হতে পারে না। আহ্বায়কের অনুমতি নিয়েই বলতে হবে। তারাও আমার কথা মেনে নিয়েছে। যৌথ প্রযোজনায় নিয়ম না মেনে সিনেমা নির্মাণ বন্ধের আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন হঠাৎ করে প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখারউদ্দিন নওশাদের সঙ্গে একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেল। চলচ্চিত্র পরিবারের বড় অংশ প্রদর্শক সমিতি। তারা ছাড়া চলচ্চিত্র পরিবার হতে পারে? তাঁর সঙ্গে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তার সমাধান করলাম। এর মধ্যে সন্সের বোর্ড পুনর্গঠন, প্রিভিউ কমিটি নিয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ জানালাম। তথ্যমন্ত্রী সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিলেন।

শাকিব খানের ব্যাপারে বলুন।
আমি ভাবলাম, সামান্য ভুল না হয় সে করেই ফেলেছে। সবাইকে বললাম, ওরে ক্ষমা করে দাও। এফডিসির এমডিও আমাকে শাকিবের প্রসঙ্গে বললেন। যা-ই ঘটুক না কেন, নায়ক হিসেবে সে-ও তো জনপ্রিয়, তারও তো মানসম্মান থাকতে পারে। তাই চাইলেও অনেক কিছু করা সম্ভব না। এরই মধ্যে আবার সাংবাদিক এফ আই দিপু ও প্রযোজক আরশাদ আদনান আমার সঙ্গে আলাদাভাবে শাকিব খানের বিষয়টি সমাধানের ব্যাপারে কথা বলে। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর আমি বললাম, ওকে নিয়ে তোমরা আমরা বাসায় আসো। শাকিব এসেই দুঃখ প্রকাশ করল। আমরা সবাই একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করলাম। সবকিছু শেষ। সবার সামনে আমি শাকিবকে এ-ও বললাম, তুই কিছুই করিসনি। তুই আমার ছোট ভাই। তোর ওপর আমার কোনো রাগ নেই। তাকে শুধু এটুকই বললাম, যদি পারিস পরদিন এফডিসি গিয়ে সবার সঙ্গে দেখা করে নিস।

চলচ্চিত্রে কয়েক মাস ধরে যে অস্থিরতা ছিল, তা তো মিটে গেছে। এখন কী করণীয়?
সবাইকে এখন দেশের সিনেমার উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কিছু কথা বলেছেন, তা অনুসরণ করতে হবে। সিনেমা হলে যে ৫০টি ডিজিটাল মেশিন বসানোর কথা ছিল, তা বাস্তবায়নে খোঁজ নিতে হবে। ডিজিটাল সিনেমা বানানোর উদ্যোগ নিতে হবে। চলচ্চিত্রের তৃতীয় পক্ষের কাউকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া যাবে না। সিনেমার গল্পের দিকে নজর দিতে হবে। সিনেমাসংশ্লিষ্ট লোকজনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: বিনোদন

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*