• ঢাকা
  • শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগে ১৫ বছরের দুর্নীতির সিন্ডিকেট : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগ ব্যর্থ করতে চক্রান্তের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ৮:২৮ অপরাহ্ন / ৩২৮
বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগে ১৫ বছরের দুর্নীতির সিন্ডিকেট : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগ ব্যর্থ করতে চক্রান্তের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সবচেয়ে অর্থবহ ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সেক্টর হিসেবে পরিচিত ড্রেজিং বা খনন বিভাগে গত দেড় দশক ধরে একটি শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, এই সিন্ডিকেট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম ও সংস্কার উদ্যোগ ব্যর্থ করতে সুপরিকল্পিত ভাবে সক্রিয় রয়েছে। যার নেতৃত্বে রয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান।

একাধিক সূত্র অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান দীর্ঘ প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর ধরে একই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে ড্রেজিং বিভাগের প্রায় সব বড় বড় প্রকল্প নিজে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এ সময়ের মধ্যে সারাদেশের ৫৩টি নৌপথের ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল তার অধীনে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দপ্তরের একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

ড্রেজিং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মূল পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) হিসেবেও সাইদুর রহমানের নাম বার বার উঠে এসেছে। প্রকল্প অনুমোদন, ঠিকাদার নির্বাচন, বিল পরিশোধ ও কাজের মান যাচাই-বাছাইসহ সব ক্ষেত্রেই তার একক আধিপত্য ও প্রভাব ছিল বলে ব্যাপক অভিযোগ।

সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্নঃসরকারি চাকুরি বিধি অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সাধারণত তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করার কোন বিধান নেই। তবে সাইদুর রহমান দীর্ঘ সময় একই দপ্তরে বহাল থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য মতে, এই দীর্ঘ অবস্থানই একটি সংঘবদ্ধ স্বার্থান্বেষী চক্র গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগঃ অভিযোগে আরও বলা হয়, সাইদুর রহমান অতীতে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের নিজস্ব লোক হিসেবে অভিযুক্ত। তিনি আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ ও বলিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে বেশি পরিচিত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও পদ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।

দুদককে নিয়েও প্রশ্নঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার দাবি, সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ ও মামলার তথ্য রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে—দুদকের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা তার শুভানুধ্যায়ী হওয়ায় সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণেই তার দুর্নীতির প্রভাব দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভঃ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও যদি একই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে বহাল থাকে, তাহলে পরিবর্তনের জন্য এত আন্দোলন ও ত্যাগের প্রয়োজন কী ছিল?

উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনাঃ অভিযোগকারীরা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে ড্রেজিং বিভাগে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনিক রদবদল এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্যঃ এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের বক্তব্য জানতে বার বার যোগাযোগ করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে তা প্রকাশ করা হবে।

(আসছে দ্বিতীয় পর্বে)