

রুবেল মাদবর, মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মানিকপুর এলাকায় বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গৃহবধূ নুসরাত জাহান অপির বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয়নি। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়ায় বাদী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নুসরাত জাহান অপি মানববন্ধনে বলেন, গত ৭ জানুয়ারি তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু মামলার কাগজপত্র হাতে পাওয়ার আগেই ৮ জানুয়ারি প্রধান আসামি সফিকুর রহমান মাস্টার জামিনে মুক্তি পান। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুসরাত জাহান অপির সঙ্গে সফিকুর রহমান মাস্টারের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৫ জানুয়ারি তিনি নিজ বসতঘরে তালা দিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরদিন ৬ জানুয়ারি সকালে প্রতিবেশীর মাধ্যমে খবর পান, একদল লোক তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালাচ্ছে।
খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে তিনি দেখতে পান, অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাধা দিলে তাঁকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পরে ঘর তল্লাশি করে দেখা যায়, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল লুটপাট হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে মানিকপুর এলাকায় তাঁর বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে ভবন ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। একই সঙ্গে একটি এলইডি টিভি, ফ্রিজ, স্টিলের আলমারি, দেয়াল সুকেস, দুটি খাট, ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ আড়াই লাখ টাকাসহ প্রায় ২০ লাখ ৫৭ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীদের কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :