শিরোনাম

শ্যাভেজহীন ভেনেজুয়েলার বেহাল দশা

আজকের বিডি রিপোর্ট : হাসপাতালের অনিয়মের কথা অনেক শোনা যায়। সঠিক সেবা এবং দরকারি ঔষুধ ঠিকমতো সরবরাহ না করাসহ আরো কত অভিযোগ। বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর চিত্র দেখলে মনে হবে এর চাইতে খারাপ অবস্থা এবং অনিয়ম মনে হয় পৃথিবীর আর কোন হাসপাতালে হয় না। কিন্তু যদি বলা হয় বাংলাদেশের হাসপাতালের চাইতেও খারাপ অবস্থা পৃথিবীর অন্য দেশেও আছে তাহলে অবাক হবার কিছুই নেই। আর এমন একটি দেশ হলো ভেনেজুয়েলা। ভেনেজুয়েলার পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাই এখন হুমকির মুখে। আর দিন দিন এর যেন আরো পতন হচ্ছে। এবার ভেনেজুয়েলার হাসপাতালের কিছু চিত্র তুলে ধরা যাক।

রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালের প্রবেশের মুখে লম্বা একটি লাইন চোখে পড়বে যা হাসপাতালের সদর দরজা অতিক্রম করে গেছে। তবে এতো বড় একটি লম্বা লাইনে তারা কিসের জন্য অপেক্ষা করছে প্রথম দেখায় আপনি কিছুই বুঝে উঠতে পারবেন না। কিছুক্ষণ পর উপর থেকে একটি লিফ্ট নীচে নেমে এলে বোঝা যায় এটি লিফ্ট দিয়ে উপরে উঠার লাইন। তবে এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালের দুর্লভ এই লিফটে লিফটম্যানসহ কেবল একজনই প্রবেশ করতে পারে। হাসপাতালের অন্যান্য লিফটগুলোর মধ্যে এটাই কেবল সচল আছে, তাই বুঝে শুনে কম লোক নেয়া হয়। অন্যথায় লিফটটি ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবার হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর দিকে এগিয়ে গেলে দেখা যাবে একটি ওয়ার্ডে যে পরিমান বিদ্যুৎ থাকার কথা তার কিছুই নেই তাতে। দিনের আলো নিভে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ডের রোগীরাও অন্ধকারে মোম জ্বালিয়ে বসে থাকে। এমনকি রাত হলে সিড়িঘর দিয়েও চলাফেরার কোন উপায় নেই। হাসপাতালের বাথরুমেও নেই কোন বিদ্যুতের ব্যবস্থা। একমাত্র বিশ্রামঘর তাতেও নেই একদণ্ড বসে থাকার উপায়। দেয়ালে বিদ্যুতের তার সব ঝুলন্ত অবস্থায় পরে আছে। এমনকি কার্ডিয়াক ওয়ার্ডেও রোগীদের বেহাল অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের এই বেহাল অবস্থা নিয়ে সেখানকার একজন চিকিৎসক এলিজাবেথ বলেন, ‘আমাদের সবকিছুরই ঘাটতি আছে। এখানে প্রতিটি দিন কাটে অনেক কষ্টে কিন্তু এখানে নেই কোন সমাধান। এখানে রোগীরা অনুভূতিহীন এক একটি দিন পার করে। এখানকার চিকিৎসকরা তাদের মোবাইল ফোনের লাইট ব্যবহার করে রোগীদের এক্স-রে ইমেজ পরীক্ষা করে। হাসপাতালের এমন বেহাল অবস্থার কারণে অনেক চিকিৎসকই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।’

শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলার এই হাসপাতালটির দৃ্শ্যই এমন নয়। এমন বেহাল অবস্থা গোটা দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার। আর এর পিছনে যে কারণটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। পাবলিক সেক্টরের ওয়াকার্সদের কেবল মাত্র সপ্তাহে দুদিন কাজ করার জন্য আসতে বলা হয় যাতে করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। শুধু তাই নয় দেশটির ঘড়ির কাঁটাও এক ঘণ্টা এগিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে করে দেশের জনগণ দিনের আলোর মধ্যেই তাদের সব দরকারি কাজ সেরে ফেলতে পারে।

ভেনিজুয়েলার অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ভর করে তেল রপ্তানির ওপর। এটাই দেশটির জাতীয় আয়ের একমাত্র উৎস। এদিকে খড়ার কারণে বিদ্যুৎ এর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কারণ খড়ার কারণে বৃষ্টি না হওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে গোটা দেশটি বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছে। তবে সরকারের একজন সমালোচক হেলেনা একেডা বিদ্যুৎ উৎপন্ন না হওয়ার এই কারণটি মেনে নিতে পারছে না। তিনি বলছেন, ‘এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে সরকার আমাদের জন্য বিকল্পভাবে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করছে না।’ এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছেন, আমি স্বীকার করছি আমারা এখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি্ তবে এই সমস্যা বেশিদিনের জন্য নয় আমরা জলদিই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবো।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার সাবেক শাসক ছিলেন লাতিন আমেরিকার অবিসংবাদিত নেতা হুগো শ্যাভেজ। কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শ্যাভেজ মৃত্যুর পরবর্তীতে রাতারাতি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গণে অন্ধকার নেমে আসে। অথচ শ্যাভেজ থাকাকালীন সময়ে দেশটির অবস্থা উন্নত না হলেও, মানুষ তাদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিতভাবেই পেত। কিন্তু দেশটির কমিউনিস্ট কাঠামোর কারণে শ্যাভেজের মৃত্যুর পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা একের পর এক ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং অনেক অবরোধ জারি করে। শুধু তাই নয়, বলা হয় ইতোমধ্যেই মাদুরো সরকারকে কয়েক দফায় উৎখাতের জন্য বহির্শক্তি চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাতে সফল না হলেও দেশটির অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: ফিচার

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*