শিরোনাম

বিশ্বের মারাত্মক প্রাণীরা

আজকের বিডি রিপোর্ট : বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এবং ভয়ংকর প্রাণী কোনটি? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই আসতে পারে হাঙর, বাধ কিংবা কুমিরের নাম। এইতো কয়েকদিন আগেই অস্ট্রেলিয়াতে এক ব্যক্তিকে কুমির হত্যা করেছে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, কুমিরের হাতে বিশ্বব্যাপী বছরে প্রায় এক হাজারেরও কিছু বেশি মানুষ মারা যায়। কিন্তু পৃথিবীতে এমনও প্রাণী রয়েছে যাদের হত্যার সংখ্যা গননাতীত। বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা এবং পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে শেষমেষ ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর এবং প্রাণঘাতী প্রাণীটির নাম ‘মশা’। এই মশার কামড়ে বিশ্বব্যাপী বছরে অনেক মানুষ মারা যায়, যার সঠিক হিসেব এখনও জানা যাচ্ছে না।

মশা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ মশার কামড়ে মারা যায়। মশার কামড়ে যেসব রোগের সৃষ্টি হয় সেই রোগই মূলত এই হত্যার জন্য দায়ি। শুধুমাত্র ম্যালেরিয়াতেই প্রতিবছর ২০০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয় এবং এই আক্রান্তদের মধ্যে মারা যায় প্রায় ৬ লাখ মানুষ। ম্যালেরিয়া ছাড়াও ডেঙ্গু, পীতজ্বর এবং মস্তিস্কপ্রদাহজনিত রোগও সৃষ্টি হয় মশার কামড়ে। মশাদেরও রয়েছে কিছু প্রকারভেদ। পৃথিবীর এমন কোনো স্থান পাওয়া যাবে না যেখানে মশা নেই। পিঁপড়া এবং উইপোকা ছাড়া প্রাণীকূলের অন্য সকলের চেয়ে প্রজনন হার বেশি মশার।

সাপ
প্রতি বছর সাপের কামড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়। বিশ্বের সবচেয়ে বিষধর সাপ বাস করে তাইপানে। ওই দ্বীপের সাপেদের বিষ এতটাই প্রকট যে কামড় দেয়ার ৪৫ মিনিটের মধ্যে মানুষের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত এই সাপের কামড়ে আহত হওয়া মানুষদের ৮০ শতাংশরেই মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই সাপ খুব সচরাচর মানুষকে কামড়ায় না। সব সাপই যে মানুষকে কামড়ায় এমনটা নয়, সাপেদের প্রজাতির মধ্যে মাত্র দশ শতাংশ বিষধর। কিন্তু সাপেরা মানুষের বাসস্থানের কাছাকাছি অবস্থান করে বলে সাপের হাতে মানুষের কামড় খাবার ঘটনা শোনা যায় বেশি। পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার একাংশ এবং ইকুয়েডরের উত্তরাংশে সর্বাধিক সাপের বসবাস।

কুকুর
মানুষের প্রকৃত বন্ধু কে? এই প্রশ্নের উত্তরে নিশ্চিত থাকুন কোনো মানুষকে পাবেন না। কিন্তু প্রাণীকূলের মধ্যে দেখতে গেলে মানুষের সবচেয়ে প্রকৃত বন্ধু হলো কুকুর। প্রতিবছর কুকুরের কামড়ে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কুকুরের কামড়ে সৃষ্ট রোগের কারণেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কারণ প্রকৃতপক্ষে কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা কিন্তু খুব একটা দেখা যায় না। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর সাড়ে চার মিলিয়ন মানুষ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলেও, ৩০ শতাংশ মানুষ কেবল মারা যায়।

আফ্রিকার মাছি
আমাদের বাসা বাড়িতে সচরাচর যে মাছি দেখা যায় তাদের সঙ্গে আফ্রিকার মাছির খুব একটা পার্থক্য নেই। কিন্তু দৃশ্যত পার্থক্য না থাকলেও অ্যাকশনে রয়েছে বিস্তর ফারাক। এই মাছিরা প্রাণীদের কামড় দিতে বিশাল শুড় ব্যবহার করে এবং ওই শুড় দিয়েই তারা রক্ত চুষে খায়। ঘুম রোগ, লিভারের সমস্যা, মাথাব্যথা, হাড়ে ব্যথা, বমি, মস্তিস্কে প্রদাহ এবং ঘুমের সমস্যা এই মাছির কামড়ে হয়ে থাকে। প্রতিবছর বিশ থেকে ত্রিশ হাজার মানুষের ঘুমের সমস্যার কারণ এই মাছি। গত বছর সাব-সাহার অঞ্চলে এই মাছির কামড়ে দশ হাজার মানুষ মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

কুমির
খুব একটা ঠেকা না পরলে কুমির মানুষ শিকার করে না। কিন্তু নিঃসন্দেহে কুমির খুবই সুযোগসন্ধানী হত্যাকারী। আফ্রিকায় প্রতিবছর শতাধিক মানুষ কুমিরের আক্রমনের শিকার হয়। প্রতিবছর কুমিরের হাতে এক হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। হাঙরের কামড়ে যত মানুষ মারা যায় তারচেয়ে বেশি মারা যায় কুমিরের কামড়ে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: ফিচার

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*