শিরোনাম

জেএসসিতে সবচেয়ে খারাপ ফল কুমিল্লায়

04bbe421c64c22c682ee62ec6a6d42f4-5a4783d9cb311নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএসসি, এইচএসসির পর এবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায়ও ফল বিপর্যয় হয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে। পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় কুমিল্লায় গড় পাসের হার সবচেয়ে কম।

আজ শনিবার জেএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। কুমিল্লায় পাসের হারে ছেলেরা এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে মেয়েরা এগিয়ে আছে। সারা দেশে গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক ১০। কিন্তু কুমিল্লায় পাসের হার ৬২ দশমিক ৮৩।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এই বোর্ডে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫৬ জন। ছেলেদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৬ ও মেয়েদের পাসের হার ৬১ দশমিক ৩৯। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলে ৩ হাজার ৩৭৫ জন ও মেয়ে ৫ হাজার ৫০০ জন। কুমিল্লা বোর্ডের অধিভুক্ত ৬ জেলার ১ হাজার ৮৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৬১।

এবার কুমিল্লা বোর্ডের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম জগৎপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তবে গত বছর এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৬৮। ছেলেদের পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৬৬ ও মেয়েদের ছিল ৮৮ দশমিক ৯৭। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৯ হাজার ১৮৬ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১০ সালে জেএসসিতে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে এ বছরই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমেছে।

এদিকে সারা দেশের আটটি বোর্ডের গড় পাসের তুলনায় কুমিল্লার ফল খারাপ হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগরের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কুমিল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে এ বোর্ডের শতকরা পাসের হারে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় গলদ থাকার কারণে এমন অবস্থা হচ্ছে। অবিলম্বে এটি খতিয়ে দেখা উচিত।’

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম এনালিস্ট বিকাশ মল্লিক বলেন, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক পাসের হারে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও জেএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত মো. বাহাদুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের পাসের হার কম হওয়ায় সার্বিক পাসের ওপর প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রে নজরদাড়ি বেশি থাকায় এবং পরীক্ষার খাতা দেখায় কড়াকড়ি থাকায় পাসের হারে প্রভাব পড়েছে।’

চলতি বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায়ও খারাপ ফল হয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে। ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ০৩। অন্যদিকে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৪৯ দশমিক ৫২।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: পড়া-লেখা

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*