শিরোনাম

প্রজাপতির পাখায় ট্রান্সমিটার!

244305_170আজকের বিডি প্রযুক্তি ডেস্ক : প্রজাপতিরা পাখিদের মতো পরিযায়ী হতে পারে, উড়ে উড়ে পাহাড়-পর্বত নদীনালা পার হয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে পারে৷ বিজ্ঞানীরা প্রজাপতির পিঠে ট্রান্সমিটার বেঁধে তাদের সেই যাত্রাপথের হদিশ পেতে চান৷

মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর অর্নিথোলজির পাখিবিজ্ঞানী মার্টিন ভিকেলস্কি-র জীবনের স্বপ্ন হলো, প্রাণীদের আচার-আচরণের রহস্য ভেদ করা৷ জীব জীবনধারণ করে কীভাবে, তা জানতে চান মার্টিন ভিকেলস্কি। সেজন্য তিনি বিশ্বের সর্বত্র যেতে ও সব কিছু করতে প্রস্তুত৷

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল নিয়ে তিনি পরিযায়ী পাখি ও অন্যান্য জীবজন্তুর মাইগ্রেশান বা অভিপ্রয়াণের পথ নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ এ কাজে সহায়তা করছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি৷ ট্রান্সমিটার যে সব তথ্য পাঠাচ্ছে, বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে তা নিয়ে কাজ করা চলবে –প্রণালীটি আবিষ্কার করেছেন ভিকেলস্কি স্বয়ং৷

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের এভাবে একসাথে কাজ করা, তাদের এই বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষণ প্রণালীর ফলে আমরা এই প্রথমবার গোটা জীবজগতের ‘জীবনধারা’ বুঝতে সমর্থ হবো৷”

মার্টিন ভিকেলস্কি যা করতে চাচ্ছেন, তা এর আগে কখনো করা হয়নি। প্রজাপতিরা কীভাবে আল্পস পর্বতমালা পার হয়ে দক্ষিণে যায়, কোন পথে, তিনি সেটা চার্ট করতে চান৷ এজন্য তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ট্র্যাকিং ট্রান্সমিটার তৈরি করতে হবে৷ কিন্তু বেতার সংকেত প্রেরণের যাবতীয় সাজসরঞ্জাম কি আধ গ্রাম ওজনের একটা ট্রান্সমিটারের মধ্যে ঢোকানো সম্ভব?

ভিকেলস্কি বলেন, ‘‘প্রযুক্তি সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের অবশ্যই নানা দিক রয়েছে৷ ট্রান্সমিটারটার জন্য আমাদের সেরা প্রযুক্তি দরকার, যেমন আক্সিলারেশান সেন্সর, ব্যাটারি আর সৌরশক্তি৷ কিন্তু সব কিছু অতি ছোট আকারের হবে, যাতে ট্রান্সমিটারটা প্রজাপতিদের ওপর বসানোর মতো হয়৷ এখন প্রশ্ন হলো, প্রজাপতির শরীরের ঠিক কোন জায়গায় ট্রান্সমিটারটা বসানো যায়?”

সেই পরীক্ষা করা হবে একটি বিশেষ স্থানে, লেক কনস্টানৎস-এর মাইনাউ দ্বীপে৷ দ্বীপটি তার গাছপালা আর পশুপাখির জন্য বিখ্যাত৷ প্রজাপতিদের গায়ে ট্রান্সমিটার বসানোর জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর নেই৷

‘পেন্টেড লেডি’ প্রজাতির প্রজাপতিগুলো যা ভাবা গিয়েছিল, তার চেয়েও ছোট৷ মার্টিন ভিকেলস্কি কি অসম্ভবকে সম্ভব করতে চাচ্ছেন?

প্রথমে অতি সন্তর্পণে এক ধরনের আঠা দিয়ে অতি খুদে ট্রান্সমিটারটা প্রজাপতির পেটে এঁটে দিতে হবে৷ এই ট্রান্সমিটারের ফলে প্রজাপতিটা যে কোনো মুহূর্তে ঠিক কোথায় আছে, অ্যান্টেনার সিগনাল থেকে তা জানা যাবে৷

প্রথমবার ওড়ার চেষ্টা…
ট্রান্সমিটারটা কি বড় বেশি ভারি, নাকি গুটি থেকে বেরনো প্রজাপতিটা ঠিকমতো উড়তে পারেনি?

ট্রান্সমিটারের ওজনের কারণেই প্রজাপতিটা মাটিতে পড়ে গেছে, বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা৷

Be Sociable, Share!
বিভাগ: প্রযুক্তির খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*