শিরোনাম

ডাটা সাশ্রয়ী অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

263435_121আজকের বিডি প্রযুক্তি ডেস্ক: অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোনে সঠিক অ্যাপ ব্যবহার করা হলে প্রতি মাস বা সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত মোবাইল ডাটা ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। বিশেষ করে যারা মোবাইলে অল্প ডাটা কিনে ব্যবহার করেন, তাদের সামান্য ডাটা বাঁচলেও লাভ। তবে বেশির ভাগ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এমন কিছু অ্যাপ ব্যবহার করেন, যেগুলোর কারণে খুব দ্রুত মোবাইল ডাটা ফুরিয়ে যায়। মোবাইল ডাটা সাশ্রয়ের পাশাপাশি ডিভাইস স্টোরেজ খালি রাখতে সহায়তাকারী অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ নিয়ে লিখেছেন সুমনা শারিমন

ফেসবুক লাইট
টুজি বা এর চেয়ে ধীরগতির ইন্টারনেটে যাতে ফেসবুক ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যে ২০১৫ সালে মূল ফেসবুক অ্যাপের একটি লাইট সংস্করণ উন্মোচন করেছিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এই লাইট সংস্করণে মূল অ্যাপের সব ফিচার পাওয়া যায়। তবে মাত্র ৫ মেগাবাইটের এই ফেসবুক লাইট অ্যাপ আপনার মোবাইল ডাটা সাশ্রয়ের পাশাপাশি ডিভাইস স্টোরেজ খালি রাখতে সহায়তা করবে। এটি গুগল প্লে স্টোর থেকে সহজেই ডাউনলোড করা যায়।

টুইটার লাইট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে অনুসরণ করে চলতি বছর এপ্রিলে মূল অ্যাপের একটি লাইট সংস্করণ চালু করেছে টুইটার। টুইটার লাইট অ্যাপ অনেকটাই ফেসবুক লাইট অ্যাপের মতোই। টুজি ও থ্রিজি নেটওয়ার্কে দ্রুত পেজ লোড এবং স্বাভাবিক গতিতে মাইক্রোব্লগিং সেবা দিতে টুইটার এ অ্যাপ এনেছে। টুইটার লাইট অ্যাপ মোবাইল ডাটা সাশ্রয়ের পাশাপাশি এর আকার ছোট হওয়ায় খুব বেশি ডিভাইস স্টোরেজ পূরণ করে না।

লিংকডইন লাইট
পেশাজীবীদের সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট লিংকডইনের সক্রিয় ব্যবহারকারীদের জন্য লিংকডইন অ্যাপ চালু করেছে। পেশাজীবীদের জন্য মাত্র ১ মেগাবাইটের এই অ্যাপে লিংকডইন মূল অ্যাপের সবগুলো ফিচারই পাওয়া যাবে। লিংকডইন লাইট অ্যাপে মেসেজিং ফিচার থেকে শুরু করে চাকরি ও সংবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলো রয়েছে। আপনার ফোনকে আরো বেশি সচল রাখতে সহায়তা করবে লিংকডইন লাইট।

মেসেঞ্জার লাইট
হোয়াটস অ্যাপ মেসেঞ্জারে বেশ কিছু বিল্টইন ডাটা সেভিং ফিচার থাকলেও মেসেঞ্জার লাইট অ্যাপের আকার একটু বড়। তবে মেসেঞ্জারের মূল অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে ডিভাইসে ৬০ থেকে ১০০ মেগাবাইট জায়গা নেবে। এ ক্ষেত্রে সক্রিয় মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীরা মেসেঞ্জার লাইট অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন। মাত্র ৫ মেগাবাইটের এই অ্যাপ ডাটা সাশ্রয়ের পাশাপাশি আপনার ডিভাইসের খুব বেশি জায়গা নেবে না। ফলে ডিভাইস বেশি সচল থাকবে।

স্কাইপ লাইট
অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মের জন্য স্কাইপ লাইট দারুণ এক ডাটা সাশ্রয়ী অ্যাপ। এটি ক্ষুদ্রাকৃতির হলেও ধীরগতির ইন্টারনেটেও ভালো কাজ করবে। স্কাইপ লাইটে সম্প্রতি গ্রুপ ভিডিও কলিং ফিচারের পাশাপাশি ‘রূহ’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবট যুক্ত করা হয়েছে। গুগল প্লে-স্টোর অ্যাপটি পাবেন।

অপেরা ম্যাক্স
মোবাইল ডাটা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে এ অ্যাপটি। এর মাধ্যমে সহজেই জানা যাবে কোন ব্রাউজার বা অ্যাপে কী পরিমাণ ডাটা খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া ইউটিউব থেকে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের সময়েও অপেরা ম্যাক্স ব্যবহার করে ডাটা খরচ কমানো যাবে। অপেরার দাবি, ব্যবহারকারীদের কাছে ভিডিওর মান ঠিক রেখে এবং বাফারিং ছাড়াই প্রদর্শনের সুবিধা দিতে অপেরা ম্যাক্স উন্নয়ন করা হয়েছে। গুগল প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে এ অ্যাপ।

ইউসি ব্রাউজার
জনপ্রিয় মোবাইল ব্রাউজার এটি। বিশেষত, ডাটা কমপ্রেশন প্রযুক্তির জন্য ইউসি ব্রাউজার ব্যাপক পরিসরে ব্যবহৃত হয়। ব্রাউজারটি ব্যবহার করে মোবাইল ডিভাইসের বিভিন্ন অ্যাপের জন্য ডাটা খরচ নির্ধারণ করে দেয়া যাবে। এ ছাড়া ইউসি ব্রাউজারের ‘ফাস্ট মোড’ ফিচার বিভিন্ন অ্যাপের গতি বৃদ্ধির সাথে ডাটা খরচ কমাবে। বিনামূল্যে গুগল প্লে-স্টোর থেকে ব্রাউজারটি পাওয়া যাবে।

গুগল ক্রোম
গুগল ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহারের বড় সুবিধা হলো এর মাধ্যমে ডেস্কটপ সংস্করণের সব তথ্য মোবাইল সংস্করণে সিঙ্ক করে নেয়া যাবে। অবশ্য বেশির ভাগ অ্যান্ড্রয়েডচালিত মোবাইল ডিভাইসে গুগল ক্রোম বিল্টইন ব্রাউজার হিসেবে দেয়া থাকে। তবে অনেক ব্যবহারকারীই জানেন না, গুগল ক্রোম দিয়ে ব্রাউজ করার সময় ডাটা সাশ্রয় করা সম্ভব। ডাটা সাশ্রয়ের জন্য ব্রাউজারটি খুলে উপরের ডান পাশে তিনটি ডট চিহ্নে ক্লিক করতে হবে এবং সেটিংসে গিয়ে ডাটা সেভার চালু করে নিতে হবে।

ই-কমার্স অ্যাপ
অনলাইন কেনাকাটার জন্য অনেকেই এখন মোবাইল ডিভাইসে বিভিন্ন ই-কমার্স অ্যাপ ডাউনলোড করে রাখে। এসব অ্যাপের জন্য প্রচুর পরিমাণে ডাটা খরচ হয়। তবে এখন প্রায় সব ই-কমার্স সাইটের লাইট সংস্করণ চালু করা হয়েছে। কাজেই অনলাইন কেনাকাটার জন্য ই-কমার্স অ্যাপগুলোর লাইট সংস্করণ ব্যবহার করলে ডাটা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

ডাটা ব্যবস্থাপনা অ্যাপ
বিভিন্ন অ্যাপের লাইট সংস্করণ ব্যবহারের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মের জন্য অনেক ডাটা ব্যবস্থাপনার অ্যাপ পাওয়া যায়। এ ধরনের যেকোনো অ্যাপের মাধ্যমে ইন্টারনেট ডাটা সাশ্রয়ের পাশাপাশি যে অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থেকে ডাটা খরচ করে, সেগুলো বন্ধ করে রাখা যাবে। এ ছাড়া ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ জানার পাশাপাশি নির্দিষ্ট অ্যাপে কী পরিমাণ ডাটা ব্যবহার করতে চান, তা নির্ধারণ করতে পারবেন।

ট্রায়াঙ্গল
ডাটা ব্যবস্থাপনা ও বাঁচানোর সুবিধাযুক্ত নতুন একটি অ্যাপ নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে গুগল। ট্রায়াঙ্গল নামের অ্যাপটি বর্তমানে ফিলিপাইনে পরীক্ষা চলছে। গুগল প্লেস্টোরে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের জন্য ওই অ্যাপটি পরীক্ষা করছে গুগল। গুগলের ওই অ্যাপটি ইন্টারনেট ডাটা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যেসব অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থেকে ডাটা খরচ করে, তা বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া বর্তমান ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ ও প্রিপেইড ডাটার অবস্থা জানাতে পারে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট অ্যাপকে ডাটা ব্যবহারের জন্য সময় ঠিক করে দেয়ার সুবিধাও আছে। অবশ্য এই অ্যাপটি কবে নাগাদ অন্য দেশগুলোতে চালু হবে, সে তথ্য এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি গুগল।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: প্রযুক্তির খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*