শিরোনাম

ক্ষমতাশীনরা জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র মানছে না : সন্তু লারমা

আজকের বিডি ন্যাশনাল ডেস্ক: আদিবাসীরা তাদের সংস্কৃতি দিয়ে পরিচয় বহন করে তাই আলাদা করে স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।একই অনুষ্ঠানে আদিবাসী ফোরামের সভাপতি সন্তু লারমা অভিযোগ করেন ক্ষমতাশীনরা জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র মানছে না। তারা আদিবাসীদের অস্তিত্ব বিলীন করে সেখানে সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আজ দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আদিবাসী ফোরাম কর্তৃক আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস এবং আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।সন্তু লারমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংয়ের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, খুশি কবির এবং শ্রী রবীন্দ্রনাথ সরেন প্রমুখ।larma

রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি বাঙালি এটা কেউ বলে দেবে, কেউ আলাদা করে স্বীকৃতি দেবে, এটা আমি কেন মানব? আমি বাঙালি এটা আমার অধিকার। বাঙালি যেমন তার সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য, প্রথা ও বৈশিষ্ট্য দিয়ে বাঙালি পরিচয় বহন করে, তেমনি আদিবাসীরাও তাদের সংস্কৃতি দিয়ে পরিচয় বহন করে। আলাদা করে স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না। তবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া উচিত।পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য শান্তি চুক্তি করা হয়। কিন্তু এখনও শান্তি নিশ্চিত হয়নি। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা যথেষ্ট এগিয়েছি। পাহাড়ে ভূমি সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে জাতীয় সংসদে অনেক লড়াই-সংগ্রাম করে ভূমি কমিশন করা হয়। ভূমি কমিশন এখনও কার্যকর হয়নি। এটা দুঃখজনক।ভূমি কমিশনের মাধ্যমে দ্রুত পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি সমস্যার সমাধান হবে। সেনা প্রত্যাহারসহ মৌলিক সমস্যার সমাধান হলেই পাহাড়িদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়াও সমতলের আদিবাসীদের জন্য আলাদা ভূমি কমিশনের গঠন করা এখন সময়ের দাবি বলেও জানান তিনি।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ১০ বছর আগে এই দিনকে আদিবাসী দিবস হিসেবে জাতিসংঘ ঘোষণা করে। তারপর থেকে বিভিন্ন দেশ এই দিনকে পালন করে আসছে। যখন জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছিল তখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ অন্য বেশ কয়েকটি দেশ এই দিবসের বিরোধিতা করেছিল। অথচ আজ তারাই এই দিবসটি উদযাপন করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি উদযাপন করে না।

সন্তু লারমা বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র কিন্তু ক্ষমতাশীনরা জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র মানছে না। তারা পাহাড়ে আদিবাসীদের অস্তিত্ব বিলীন করে সেখানে সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক পন্থায় নিজেদের অধিকার রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। নয়তো নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং লিঙ্গ বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

সমাবেশে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০০৭ সালে জাতিসংঘের স্বীকৃতি দেয়া ঘোষণাপত্র অবিলম্বে বাস্তবায়ন, এসডিজি ২০৩০ বাস্তবায়নে আদিবাসী জনগণের পূর্ণ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত, আদিবাসীদের ঐহিত্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে।সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহীদ মিনার থেকে দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি, টিএসসি হয়ে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: গ্রাম গঞ্জের খবর, প্রধান খবর - ২

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*