শিরোনাম

প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত প্রধানের সাংবিধানিক পদে নিয়োগের রেখে বিল

283518_132নিজস্ব প্রতিবেদক: অবসরে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাহিনী (সেনা নৌ ও বিমান) প্রধানকে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের বিধান রেখে মঙ্গলবার সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন দ্বারা বাধা আরোপিত না হয়ে থাকলে অবসরপ্রাপ্ত কোনো বাহিনী প্রধান সাংবিধানিক কোনো পদে নিয়োগ লাভের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন না।

প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের (নিয়োগ, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাদি) আইন ২০১৮ নামে বিলটি মঙ্গলবার সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুর হক। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, উপ-ধারা ৯৩-এর বিধান সাপেক্ষে বাহিনী প্রধানের নিয়োগের মেয়াদ হবে একসঙ্গে বা বর্ধিতকরণসহ নিয়োগ প্রদানের তারিখ থেকে অনুর্ধ্ব চার বছর। এছাড়া বিলে প্রতি মাসে বাহিনীপ্রধানের বেতন ৮৬ হাজার টাকা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাহিনী প্রধানদের পুনঃনিয়োগ প্রসঙ্গে বিলে বলা হয়েছে, বাহিনী প্রধান অবসরপ্রাপ্ত হওয়া বা স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করার পর প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো সামরিক বা বেসামরিক পদে পুনঃনিয়োগ লাভে অযোগ্য হবেন। এ বিষয়ে শর্ত উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে আবশ্যক মনে করলে অবসরপ্রাপ্ত কোনো বাহিনী প্রধানকে চুক্তি ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো বেসামরিক পদে নিয়োগ দান করতে পারবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬২ অনুচ্ছেদ-এর বিধানমতে, সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগদান ও তাদের বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ করার বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগ ও বেতন-ভাতাদি সম্পর্কিত কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। বর্তমানে প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগ ও বেতন-ভাতাদিও বিষয়টি সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবস্থিত না হয়ে বর্তমানে যৌথ বাহিনী নির্দেশনাবলী নামীয় ইন্সট্রুমেন্ট দ্বারা অন্য সকল সামরিক কর্মচারির সঙ্গে একীভূতভাবেই ব্যবস্থিত হচ্ছে। এ ধরনের যৌথ বাহিনী নির্দেশনাবলীর পাঠোদ্ধার অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ আইন প্রণয়ন করে বাহিনী প্রধানদের নিয়োগ এবং বেতন ও ভাতাদি সম্পর্কিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাহিনী প্রধানগণ চাকরিকালীন যে সকল আর্থিক সুবিধাদি প্রাপ্য হন, কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়া, তাদের হুবহু অন্তর্ভুক্ত করে আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করা হয়। এতে বলা হয়েছে, খসড়াটির বিষয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং কন্ট্রোলার জেনারেল অব ডিফেন্স ফাইন্যান্স-এর মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আইন, বিধি, বিধান, নির্দেশনাবলি ও আদেশসমূহ সংশোধন/রহিতকরণ নতুনভাবে প্রণয়নপূর্বক যুগোপযোগী ও হালনাগাদ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের জন্য গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির একাধিক সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়।

প্রস্তাবিত খসড়াটি আইনে রূপান্তরিত হলে প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধান পদে (নিয়োগদান ও মেয়াদ) আদেশ, ২ ০১৬ সম্পূর্ণ রহিত হবে এবং যৌথ বাহিনী নির্দেশনাবলী ১/২০১৬ আংশিক অকার্যকর হবে। বিলের খসড়াটি ভেটিং সাপেক্ষে মন্ত্রিসভার চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের পর লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং গ্রহণ করা হয়েছে। বিলটিতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত থাকায় সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সানুগ্রহ সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: প্রধান খবর - ২

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*