শিরোনাম

ঢাবিতে ছাত্রলীগ নেতার রুম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার

244335_172নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগ নেতার রুম থেকে ৪টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অস্ত্রগুলো রোববার উদ্ধার করা হলেও মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সামনে আনে হল কর্তৃপক্ষ। পরে তা নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর সাহেব আলীর হেফাজতে থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে এ ঘটনায় কউকে আটক করা হয়নি।

হল প্রশাসন জানায়, রবিবার রুটিন পর্যবেক্ষণের সময় হলের যমুনা ব্লকের ৭০০৬ নম্বর রুম থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করেন তারা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক আরিফ শেখের খাটের নিচ থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজের ছাত্রত্ব শেষ হলে গত মাসে হল থেকে চলে যান আরিফ। অভিযোগ ছিল, ওই রুমে ইংলিশ স্পিকার্স ফর আদার ল্যাংগুয়েজ বিভাগ এবং ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের দুই ছাত্রকে অবৈধভাবে স্থান দিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে রুম পরিদর্শনে যেয়ে একটি বক্স দেখে সন্দেহ হয়। তাদের খুলে দেখাতে বললে পরে দেখা যায় বক্সে অস্ত্র রয়েছে।

ওই দুই ছাত্র আরিফ শেখের সাথে রাজনীতি করতেন বর্তমানে তারা হলের সাধারণ সম্পাদক নয়ন হাওলাদারের অনুসারী। তবে নয়ন প্রথমে তাদের কথা স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, আমি তাদের চিনি না। পরে আবার সবার সামনে ওই দুই শিক্ষার্থীর যখন বলেন যে আমরা নয়ন ভাইয়ের সাথে রাজনীতি করি এবং পরে আবার সবার সামনে ওই দুই শিক্ষার্থীর যখন বলেন, আমারা নয়ন ভাইয়ের সাথে রাজনীতি করি তখন তিনি বলেন, ওরা মাঝে মাঝে প্রোগ্রাম করে।

হল সভাপতি ফকির রাসেল আহমেদ বলেন, আমরা তাদের চিনি না। শুনেছি আরিফ ভাইয়ের সাথে রাজনীতি করতো।

এদিকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো আরিফ শেখের বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই রুমে থাকা ছাত্রলীগের আরেক নেতা। তিনি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্রলীগের সভাপতি খোরশেদ। খোরশেদ গণমাধ্যমকে বলেন, “অস্ত্রগুলো আরিফ ভাইয়ের। তিনি থাকাকালীন সময় থেকেই ওগুলো ছিল। তিনি আরো বলেন, সে সময় আরিফকে একটি ছোট পিস্তলও বহন করতে দেখা যেত। সেটা নিয়ে তিনি হলেই অবস্থান করতেন। তবে অস্ত্রের বিষয়টি অস্বীকার করেন আরিফ।

তিনি বলেন, এগুলো আমার নয়। আমি এ ব্যাপারে জানি না। আরিফ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের অনুসারী। সাংবাদিক পরিচয়ে সোহাগের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ব্যস্ত আছি। টুঙ্গিপাড়া আছি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অস্ত্রের খবর যাতে কেউ না জানে এবং যাতে সেগুলো নিরাপদে থাকে সেজন্য হল প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ওই দুই শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে নিজের সিটে ঘুমাতে দেন আরিফ। তবে তাদেরকে দিনের বেলায় সেখানে না গিয়ে শুধু রাতে ঘুমানোর জন্য বলা হয়। ওই দুই ছাত্রের অজান্তেই তাদের মাধ্যমে অস্ত্রের পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা করেন আরিফ। শিক্ষার্থীদের সিট না
থাকায় সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের নিজের সিটে তুলে দেন আরিপ। সূত্র জানায়, উপযুক্ত সময়-সুযোগে অস্ত্রগুলো অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা ছিলো তার।

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভুইয়া বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে বিষয়গুলো জানিয়েছি। অস্ত্রগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ বলেন, অস্ত্রের বিষযে যারা রুমে থাকে প্রথমে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হবে। যারা এনেছে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, অস্ত্রের বিষয়ে আমি জানি না। তবে বিষয়টা দেখবো।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: পড়া-লেখা, প্রধান খবর - ২

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*