শিরোনাম

টানা প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত সারাদেশ; চট্টগ্রামসহ দেশের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী

borsaশওকতে এ.সৈকত॥ টানা প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত সারাদেশ। চট্টগ্রামসহ দেশের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ভারি বর্ষণে বন্দরগুলোতে পণ্য বোঝাই ও খালাস কাজ বিঘ্নিত হয়। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, জলাশয়, পুকুর ও চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত একর ফসলী জমি পানির নিচে। বৈরী আবহাওয়ায় অভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ ও ফেরি চলাচলও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য দেয়া তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত বহাল রয়েছে। আজ সোমবারও দেশের অধিকাংশ জায়গায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত থাকতে পারে। রাজধানীতেও টানা চারদিন ধরে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। রবিবার সারাদিন নগরীর আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে। রাস্তাঘাট ও ফুটপাথ কর্দমাক্ত হয়ে উঠে। অনেক জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং মেঘনা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। খবর স্টাফ রিপোর্টার, নিজস্ব সংবাদদাতা ও আবহাওয়া অফিসের।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রিপন কর্মকার জানান, মুহুরী নদী পরশুরামে বিপদসীমার ২০ সেঃমিঃ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ব্যতীত সকল নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকল প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং মেঘনা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। পর্যবেক্ষণাধীন ৮৪টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে রবিবার ৫৭টির পানি বৃদ্ধি পায়, হ্রাস পায় ১৮টির বলে জানান রিপন কর্মকার।
দিনভর বৃষ্টিতে রবিবার চরম দুর্ভোগে পড়ে রাজধানীবাসী। রবিবার সকালে কর্মজীবী নগরবাসীদের বের হতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে কর্মজীবী মানুষ। বাসা থেকে বের হয়েও যানবাহনের সমস্যায় পড়তে হয়। বৃষ্টির অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করে রিক্সা, অটোরিক্সা ও ট্যাক্সিক্যাবের চালকরা। পাবলিক যানবাহনে উঠতে গিয়েও দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে নগরবাসীদের। অফিসের তাগিদে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে গেছে অনেক নগরবাসীকে। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে উঠেছে নগরীর অধিকাংশ রাস্তাঘাট, ফুটপাথ ও নিচু খোলা জায়গা। সংস্কারের অভাবে রাস্তাঘাট ও ফুটপাথে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। পানিভর্তি ওইসব গর্তে পা ফেলতে গিয়ে অনেক পথচারীকে হতে হয়েছে দুর্ঘটনার শিকার। নগরীর অনেক রাস্তাঘাট ও অলিগলিতে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। ওই সব স্থান আরও বেশি কর্দমাক্ত হয়ে উঠেছে। অব্যাহত বৃষ্টি ও কাদার কারণে ফুটপাথ থেকে অনেক ভাসমান দোকানপাট উঠে যায়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পুরাতন ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে জমে উঠে হাঁটু পানি। থমকে যায় পথচারীদের চলাচল। রিক্সা ও অটোরিক্সায় উঠেও পানি স্পর্শ পেতে হয়েছে যাত্রীদের। গলির দুই পাশের অনেক দোকানপাটেও পানি প্রবেশ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের সামনেও জমে উঠে পানি। এভাবে পুরাতন ঢাকার, লালবাগের নবাবগঞ্জ, শেখ সাহেব বাজার, ভাট মসজিদ এলাকা, শহীদনগর, আমলীগোলা, কামালবাগ, ইসলামবাগ, হোসেনিদালান, জেলখানার পাশে, সোয়ারিঘাটে বৃষ্টির পানি জমে। ঝিগাতলা কাঁচাবাজার থেকে হাজারীবাগ বাজার পর্যন্ত রাস্তা খননে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বর্ষা মৌসুমে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হয় এলাকায়। মিরপুর শেওড়াপাড়া, তালতলা ও কাজীপাড়াবাসীরাও জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাননি। পানি জমে থাকায় ওই সব এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। নগরীর কালাচানপুর, বাড্ডা, নদ্দা, কুড়িল, শাহজাদপুর এলাকাতেও সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নগরীর বিভিন্ন রাখা ডাস্টবিনগুলোর ময়লা আবর্জনা বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাটের অনেক অংশে ছড়িয়ে পড়ে। যা এলাকাটায় অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের কারণে মগবাজার, মৌচাক ও মালিবাগ এলাকা মারাত্মকভাবে কর্দমাক্ত হয়ে উঠে। নিউ ইস্কাটন রোডের বিয়ামের গলির সামনে থেকে মৌচাক পর্যন্ত রাস্তা কাদার কারণে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আর সাত রাস্তা মোড় থেকে মগবাজার মোড় পর্যন্ত রাস্তারও একই অবস্থা। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী।
বুক পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টিগ্রাম:
টানা তিনদিনের প্রবল বর্ষণে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা দফায় দফায় পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। রবিবার জলাবদ্ধতার আকার আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। ঢল, বৃষ্টি ও ব্যবহার্য পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে বিভিন্ন স্থানে পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে নতুন করে বহু বাড়িঘর আক্রান্ত হয়। হাঁটু থেকে বুক পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর অনেক এলাকা। এ পর্যন্ত কোন সময় নিচতলায় পানি ঢুকে যাওয়ার রেকর্ড না থাকলেও রবিবার তা ভেঙ্গে যায়। রীতিমতো বন্দরনগরী চট্টগ্রামের এক-তৃতীয়াংশ নাগরিক পানিতে নিমজ্জিত এবং বাকিদের প্রায় পানিবন্দী হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। বৃষ্টিজনিত জলজট ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম এখন অনেকটা বসবাস অযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি এখন বাংলাদেশের ভূভাগে রয়েছে। এটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বরাবর সক্রিয় থাকায় প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। উত্তর বঙ্গোপসাগরে তীব্র মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তার সঙ্গে লঘুচাপ যোগ হওয়ায় শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারাদেশেই প্রবল বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে আরও ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকালের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে চলতি সপ্তাহে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় বর্ষণের মাত্রায় তারতম্য আসতে পারে। আবহাওয়া বিভাগ সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত এবং মাছ ধরার নৌযানগুলোকে উপকূলের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানকারীদের জন্য ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জনদুর্ভোগ ॥ অঝোর বর্ষণ যেন থামছেই না। আর সে সঙ্গে বাড়ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার সব পেশাজীবী মানুষের দুর্ভোগ। পানিতে নিমজ্জিত হয়নি এমন বাড়িও রবিবারের বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতে বাড়তি জোয়ারের সময় দুপুরে বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আরও বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্বাভাবিক বৃষ্টি একেকার হয়ে জলজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে আগের এলাকাগুলো ছাড়াও যেসব বাড়িঘর এবং ছোট ছোট অফিস পাড়া ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল সেগুলোতেও পানি প্রবেশ করতে থাকে।
শনিবার রাতে বৃষ্টির তীব্রতা হ্রাস পেয়েছিল। এতে বিভিন্ন স্থানে জলজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। শুধু নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা অব্যাহত থাকে। কিন্তু রবিবার সকাল থেকে ভারি বর্ষণ শুরু হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এ সময়ের মধ্যে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর তাতেই বেগতিক দুর্দশায় পড়েন সাধারণ নগরবাসী। চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, রাজাখালী, ঘাটফরহাদবেগ, পাথরঘাটা, সদরঘাট, গোসাইলডাঙ্গা, হালিশহর, বড়পুল, ছোটপুল, আগ্রাবাদ, মুহুরিপাড়া, বেপারীপাড়া, দেওয়ানহাট, পতেঙ্গা, বন্দরটিলা, সাগরিকা, সরাইপাড়া, কাচারাস্তা, ঈদগা, ফইল্যাতলী বাজার, নাসিরাবাদ, ষোলশহর, মুরাদপুর, অক্সিজেন, আতুরার ডিপো, বিবিরহাট, মোহাম্মদপুর, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, খাজা রোড, মোহরা, বহদ্দারহাট, কেবি আমান আলী রোড, কাপাসগোলা, ডিসি রোড, চকবাজার এবং বাকলিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে থৈ থৈ করছিল। এসব এলাকার রাস্তাঘাট ২/৩ ফুট পানিতে ডুবে যায়। কোন কোন জায়গা কোমর পানিতে ডুবে যায়। বহু আবাসিক এলাকার বহু বাড়িঘরের নিচতলার ফ্ল্যাট পানিতে ডুবে যায়। এ যাবতকালে পানি প্রবেশ করতে পারেনি এমন উচ্চতার নিচের ফ্ল্যাটে পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অনেকে। পানির কারণে জিনিসপত্র নষ্ট হওয়া ছাড়াও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ছিল অবর্ণনীয়। রান্নাবান্না ছিল বন্ধ। বাড়িঘর থেকে বের হতে পারেননি অনেকে। কারণ সিএনজিচালিত ট্যাক্সি, প্রাইভেটকার শূন্য রাস্তাঘাট। পানি নিমজ্জিত রাস্তাগুলো পাড়ি দেয়ার একমাত্র বাহন রিক্সা ভ্যান। চড়া ভাড়ায় চলাচল এবং যানবাহনের অভাবে অনেকে অফিস আদালতে পর্যন্ত যেতে পারেননি। জোয়ারের সময় বৃষ্টিতে নগরীর জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করলে চন্দপুরা প্রেসপাড়ার কয়েকটি প্রেস পানিতে নিমজ্জিত হয়। এতে ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। চাক্তাই খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তেও দ্বিতীয় দফায় পানি প্রবেশ করেছে।
ভূমিধস ॥ চট্টগ্রামের কয়েকটি পাহাড়ে রবিবার পর্যন্ত ছোট ছোট ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাগঘোনা, মতিঝর্না, টাইগারপাসসহ বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ের কয়েকটি টিলা প্রবলবর্ষণে ধসের শঙ্কায় রয়েছে। রবিবারও কয়েকটি স্থানে ছোট ছোট ধসের ঘটনা ঘটে। এর আগে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন ৬৬৬টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সরিয়ে নেয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় বাগঘোনায় একটি টিলার আংশিক ধসে পড়েছে পার্শ্বস্থ পাঁচতলা ভবনের ওপর। তাৎক্ষণিক কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা ॥ তিন নম্বর সতর্কতার কারণে সাগর উত্তাল এবং প্রবল বর্ষণের মুখে দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি এবং বহির্নোঙ্গরে অপারেশন বিঘ্নিত হচ্ছে। রবিবারও বন্দরে জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। রাতের বেলায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও সকালে জোয়ারের সময় বৃষ্টির মুখে কর্ণফুলী নদী চ্যানেলে স্রোত বেশি থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে সিডিউলে থাকা ৬টি জাহাজ চলাচল করেনি। এর মধ্যে চারটি জাহাজ বহির্নোঙ্গর থেকে জেটিতে ভেড়ার কথা ছিল। কর্ণফুলী নদীতে চলাচলরত সব ধরনের নৌযানকে সাবধানে চলাচলের সতর্কতা জারি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টির কারণে জেটিতে পণ্য হ্যান্ডলিং বন্ধ রয়েছে। শুধু কন্টেনার জাহাজে কন্টেনার ওঠানামা সীমিতভাবে করা হয়। শেড থেকে কোন ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হয়নি ভারি বর্ষণের কারণে। বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিং বন্ধ থাকায় বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে ট্রাক চলাচলও সীমিত ছিল। বহির্নোঙ্গরে জোয়ার জলোচ্ছ্বাস এবং সাগর তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এতে মাদার ভেসেলগুলোর কাছে সহজে ভিড়তে পারছে না লাইটার জাহাজ। সেখানেও মাদার ভেসেলে লাইটারিং কাজ তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ তীব্রভাবে সক্রিয়। তাই গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টির আশঙ্কায় বন্দর ঝড় হাওয়ার মুখে পড়তে পারে। এতে সতর্কতার জন্য ৩ নম্বর সঙ্কেত উত্তোলনের জন্য বন্দর কর্র্র্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। নদী চ্যানেলগুলো মারাত্মক তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ থাকায় চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন শিল্প ইউনিটের কাঁচামাল নিয়ে লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা, খুলনা এবং বিভিন্ন শিল্প জোনে অভ্যন্তরীণ নৌরুটে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। পণ্য নিয়ে কর্র্ণফুলী নদীতে প্রায় ২শ’ লাইটার জাহাজ অলস বসে আছে।
ফিশিং বন্ধ ॥ গত ৪/৫দিন ধরে চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকায় অলস বসে আছে শত শত ফিশিং ট্রলার। দেশীয় প্রযুক্তির এসব ট্রলার সতর্কতা সঙ্কেতের কারণে সাগরে যেতে না পারায় হাজারও জেলে এখন বেকার অবস্থায়। ঝড় জঞ্ঝার পর সাধারণত বঙ্গোপসাগরে ইলিশের ঝাক ধরা পড়ে। এ আশায় সীতাকুন্ড, পতেঙ্গা, আনোয়ারা, বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকার জেলেরা অপেক্ষা করছে। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটে যাবে সাগরে। এখন জোয়ারের সঙ্গে ২/৩ ফুট বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাস রয়েছে। ঢেউয়ের উচ্চতা অনেক বেড়ে যাওয়ায় গভীর এবং কাছে সাগরে ফিশিং ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সব ধরনের ফিশিং নৌযান উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। বড় বড় আধুনিক ফিশিং ট্রলার নোঙ্গর করে আছে কর্র্ণফুলীর পোতাশ্রয়ে। বঙ্গোপসাগরে স্বল্প পাল্লায় ফিশিং না হওয়ায় খোলা বাজারে মাছের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এতে দামও বেড়ে যায়।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ॥ শুধু ভারি বর্ষণের সময় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দৃষ্টিসীমার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতার সঙ্গে বিমান উঠানামায় সহায়তা করে কর্তৃপক্ষ। ফলে রবিবারও কোন ফ্লাইট বাতিল করা হয়নি। আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ও অন্যান্য বেসরকারী সংস্থার ফ্লাইটগুলো আসা-যাওয়া করেছে। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এসব ফ্লাইট সিডিউল ঠিক রাখতে পারেনি। বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন রাস্তায় জলজট এবং যানজটের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ॥ প্রবল বর্ষণের তোড়ে নৌপথের পাশাপাশি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে রেল এবং সড়ক পথের যোগাযোগ। চট্টগ্রামের সঙ্গে প্রায় ৫ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিঘ্নিত হচ্ছে টেলিকমিউনিকেশনও। বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ল্যান্ডফোনে সৃষ্টি হচ্ছে ত্রুটি। আবার মোবাইল অপারেটরদের টাওয়ারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়ায় নেটওয়ার্ক বিঘিœত হয়।
রেল যোগাযোগ ॥ রেল কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সীতাকুন্ডের মাদাম বিবিরহাট নেভি গেট এলাকায় পাহাড়ি ঢল রেল লাইনের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে ভাটিয়ারি ও কুমিরার মাঝামাঝি ৩৪ নম্বর ব্রিজটি পুরো ডুবে যায়। ঢলের কারণে স্লিপার ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্রিজের পিলারের মাটি সরে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঝুঁকি এড়াতে রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে রেলের প্রকৌশল বিভাগের সংস্কার দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সীতাকুন্ডের ওই অংশকে ঝুঁকিমুক্ত করার পর বেলা সাড়ে ৫টার দিকে রেল চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ও চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস এবং ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস আটকা পড়ে। পরীক্ষামূলকভাবে উদয়ন এক্সপ্রেসকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটি পার করিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। রেল কন্ট্রোল রুম অব্যাহত বর্ষনের কারণে চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটে চলাচলকারী সবকটি ট্রেনকে সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: গ্রাম গঞ্জের খবর, প্রধান খবর - ২

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*