

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খুলনার মেয়ে সুজানা জলি। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে ও তার পরিবারকে পোহাতে হয়েছে নানা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
তা সত্ত্বেও দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এই নেত্রী। ছাত্ররাজনীতি করা এই নারীর রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। নব্বইয়ের দশকে খুলনার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তার।
এরপর ২০১৬ সালে জেলা মহিলা দলের সদস্য হন। বর্তমানে তিনি জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্দোলন সংগ্রামে প্রথম সারির সৈনিক সুজানা নিজের জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করে গেছেন ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে। এর জন্য তাকে ও তার পরিবারকে পড়তে হয়েছে নানা প্রতিকুলতায়। তার পরেও শহীদ জিয়ার আদর্শ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শ থেকে দুরে থাকেননি এক পলকও।
বিএনপির রাজনীতির পাশাপাশি সুজানা জলির রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয়ও তাকে দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। সুজানা জলি ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্বের অনুসারী।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় রাজপথে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় আপোষহীন তৃনমূলের নেত্রী। তিনি বর্তমানে খুলনা মহানগর খ্রিস্টান ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও তিনি খুলনা সম্মিলিত নারী অধিকার ফোরাম ও ইয়ং উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের মতো সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন শিক্ষিত নারী নেত্রীর পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকায় সুজানা জলি দিন দিন সকলের মনে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংরক্ষিত নারী আসন।
জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। এবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড, দীর্ঘদিনের ত্যাগী, রাজপথের সক্রিয় কর্মী, শিক্ষিত এবং অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তির নেত্রীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই মানদণ্ডে খুলনায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রাজপথের লড়াকু নেত্রী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মুখ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সুজানা জলি।
সকলের প্রত্যাশা খুলনা থেকে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন সুজানা জলি দলের অবস্থান দৃঢ় রেখে জনমানুষের আকাঙ্খা পুরণে সক্ষম হবেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল যদি আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করে, তবে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে খুলনার মানুষের সেবা করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের অধিকার আদায় এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে আমি কাজ করে যাব।
আর এ লক্ষ বাস্তবায়নের রুপরেখা নিয়ে তিনি একবার মুখোমুখি হতে চান জনমানুষের প্রাণের স্পন্দন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
তিনি আশা করেন আমি একবার প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ পেলে আমি নিশ্চয়ই আমার ও আমার এলাকার অবহেলিত নারী সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সক্ষম হবো।
উল্লেখ্য নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জোটগতভাবে বিএনপি পেতে পারে ৩৬টি আসন।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১২টি, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পেতে পারেন। আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :