• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন

দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যু দিনে সরকারী শোক ও ছুটির দিন হলে খুলনা ওয়াসা ডিএমডি ঝুমুর বালা অফিসে উৎসব দিন পালন করলেন


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ৯:৪০ অপরাহ্ন / ১৬০
দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যু দিনে সরকারী শোক ও ছুটির দিন হলে খুলনা ওয়াসা ডিএমডি ঝুমুর বালা অফিসে উৎসব দিন পালন করলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাঃ রাষ্ট্রীয় ভাবে তিনদিন শোক দিবস এবং একদিন সরকারী ছুটি ঘোষনা থাকলেও খুলনা ওয়াসার বহুল আলোচিত ডিএমডি ঝুমুর বালা তার কতিপয় সহযোগিদের দিয়ে অফিস করেছেন। বাইরের থেকে খাবার এনে অফিসে ভূরিভোজের ব্যবস্থা করেছেন।

অপরদিকে এই ঘটনায় ওয়াসাতে সাংবািদকদের প্রবেশে বাধা দেয়া এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে ডিএমডি ঝুমুর বালা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পানি জরুরী পরিসেবাার মধ্যে থাকায় তারা অফিস ওর্য়াক করেছেন। তবে প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তা নয় কর্মীদের কথা বলা আছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যূতে সরকারী ভাবে তিন দিনের শোক এবং আজ বুধবার সরকারী ছুটি ঘোষনা করা হয়। কিন্তু বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকার আমলে চালু হওয়া এবং খুলনার শেখ বাড়ীর ঘনিষ্ট জন হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তরা কোন কালো পতাকা/ ব্যাচ ছাড়াই বুধবার খুলনা ওয়াসাতে অফিস করেন।

সরেজমিনে ডিএমডি ঝুমুর বালার অফিস কক্ষে গিয়ে তার কক্ষ তালা খোলা এবং ভিতরে কাজ করছেন বলে দেখা যায়। এই সময় তার অফিস কক্ষে ভিডিও করা হয়। তখন তিনি একের পর এক ফাইল স্বাক্ষর করছিলেন।

এ ব্যাপারে ডিএমডি ঝুমুর বালার সাথে হোয়াটসঅ্যাপ এ যোগাযোগ করে শোকের দিনে আপনি অফিস করছেন কেন ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনপ্রশান মন্ত্রনালয়ে প্রজ্ঞাপনে জরুরী পরিষেবা হিসাবে পানি সরবরাহকে ছুটি বর্হিভূত রাখা হয়েছে।কিন্তু তিনি তখন অফিসে ফাইল ওয়ার্ক করছিলেন।

প্রকৌশলী বা এমডি বা অন্য কেউত অফিসে আসেন নি? এমন প্রশ্ন করলে তিনি নিরব থাকেন। এমডি ঝুমুর বালার কাছে পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি গোপালগঞ্জে বাড়ী আর শেখ বাড়ী ঘনিষ্ট তাই অফিস করছেন ? এমন প্রশ্নে তিনি নীরব থাকেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে বিধি অনুবিভাগ ৩০ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার নির্বাহী আদেশে একদিনের সরকারী ছুটি ঘোষনা করা হয় ছুটি কালিন সময় সকল সরকারী ,আধা সরকারী,স্বায়ত্বশাসিত আধা স্বায়ত্ব শাসিত এবং বেসরকারী অফিস বন্ধ থাকবে। ক, অনুষদে ব্যাখায় বলা হয়েছে, যে জরুরী পরিসেবা যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, অন্যান্য জ্বালানী, ফাযারসার্ভিস, বন্দর সমুহের কার্ষক্রম, পরিচ্ছনতা কার্যক্রম, টেলিফোন ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যাববাহন ও কর্মীগন এই ছুটির আওতা বর্হিভূত থাকবে।

এই প্রজ্ঞাপন অনুয়ায়ী খুলনা ওয়াসা পানি সরবরাহ কাজে নিয়জিত কর্মীরাই শুধু ছুটির আওতা মুক্ত থাকার কথা। কোন কর্মকর্তা কোন পানির লাইন ঠিক করেন না। মূলত ডিএমডি নিজে টেন্ডার বানিজ্যতে আগ্রহ থাকায় শোকের দিনে অফিস করে সহকর্মীদের নিয়ে ভূরি ভোজ করেছেন।

এদিকে নগরীতে বহুল আলোচিত ওয়সার ডিএমডি ঝুমুর বালার অফিস করার খবরে সাংবাদিকরা গেটে এসে ভীড় করলেও তাদের নিরাপত্তা কর্মীরা প্রবেশ করতে দেয়নি। এমনকি ৭১ টিভি সহ কয়েক জনের সাথে ধস্তাথস্তির চিত্র দেখা যায়। ওয়াসা ফ্লাগ ষ্টান্ডে প্রথম পুনাঙ্গ পতাকা উড়ানো থাকলেও পরে অর্ধনমিত করা হয়। অন্য ফ্লাগষ্টান্ড কোন কালো পতাকা ছিল না।

এ ব্যাপারে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের মোবাইলে একাধিক বার কল করে এবং ক্ষুদে বার্ত দিলেও তিনি ফোন ধরেননি বা কোন জবাব দেননি। তবে এমডি নিজে শোক দিবসে বুধবার অফিসে আসেননি।

এ ব্যাপারে খুলনা ওয়াসার সিবিএ নেতা আব্দুল গাফফার দাবি করেন, তারা শোকের দিনে আনন্দ উল্লাস করে নিয়োগ বানিজ্য যাচাই-বা্চাই করছেন। জাতির কাছে দিনটি শোকের হলেও তাদের তাছে উৎসব দিন পালন করেছে। এমন কি শোকের কালো পতাকা পযর্ন্ত ফ্লা্গষ্টান্ডে উঠেনি।