

রংপুর অফিসঃ দায়মুক্তি আইনের আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সম্পাদিত সকল বিনিয়োগ ও ক্রয় চুক্তি বাতিল এবং জ্বালানি খাতে সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), রংপুর জেলা শাখা।আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে রংপুর জেলা প্রেসক্লাবের সামনে ক্যাব রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ক্যাবের নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোক্তারা অংশগ্রহণ করেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দায়মুক্তি আইন বাতিল, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানান।মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ক্যাব রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দায়মুক্তি আইন জ্বালানি খাতে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এই আইনের সুযোগ নিয়ে বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অস্বচ্ছ বিনিয়োগ, অপ্রয়োজনীয় চুক্তি এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ লোপাট হয়েছে। যার প্রত্যক্ষ বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বারবার বৃদ্ধি পেলেও সেবার মান বাড়েনি। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত খাতে যদি জবাবদিহিতা না থাকে, তাহলে রাষ্ট্র ও জনগণ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দায়মুক্তি আইনের আড়ালে যেসব চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে জনাব মোঃ আব্দুর রহমান সংশ্লিষ্ট সকলকে এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার জন্য আকুল আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই আন্দোলন শুধু ক্যাবের নয়, এটি দেশের সকল ভোক্তার অধিকার রক্ষার আন্দোলন। ভোক্তারা ঐক্যবদ্ধ হলে যে কোনো অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বাংলাদেশের সকল নাগরিক ও জনসাধারণকে ভোক্তা হিসেবে ক্যাবকে সমর্থন, সহায়তা এবং ক্যাবের পক্ষ অবলম্বন করার জন্য আবেদন জানান।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাবের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।মানববন্ধনে ক্যাব রংপুর জেলা শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি দেশের সার্বিক উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করছে। অবিলম্বে দায়মুক্তি আইন বাতিল করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।মানববন্ধন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং কর্মসূচি শেষে নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
আপনার মতামত লিখুন :