শিরোনাম

কাঁচের চুড়ি তৈরির কৌশল

2015_11_30_11_39_16_MY7hnhd31kvNMxY0Fvw2P0rObbozIB_originalকথায় আছে নারীর সাজের পূর্ণতা পায় চুড়ির পরার মধ্য দিয়ে। শাড়ির সঙ্গে হাতে চুড়ি না হলে নারীর সাজসজ্জার যেন পূর্ণতা পায় না। নারী-শাড়ি আর চুড়ি যেন একই সূত্রে গাঁথা। সুন্দর হাতের চুড়ির রিনিক ঝিনিক শব্দ সত্যিই প্রিয়জনের মনে তীব্র অনুরণনের সৃষ্টি করে। যুগ যুগ ধরে বাঙালি নারীর সাজে চুড়ি অন্যতম পছন্দের উপকরণ। সারা বছরই নারীরা সাজসজ্জায় চুড়ি পরতে পছন্দ করেন। আর উৎসব অনুষ্ঠানেতো হাত ভরা চুড়ি না হলে বাঙালি নারীদের যেন চলেই না। তবে এই চুড়ি কিভাবে তৈরি হয় এ সম্পর্কে তথ্য অনেকেরই অজানা।

পাকিস্তানের হায়দরাবাদে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর সব কাঁচের চুড়ি। পুরুষ, নারীসহ কিশোরীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয় চুড়ি তৈরি কারখানাগুলোতে। কাঁচ কেটেই তৈরি করা হয় ঝলমলে, চকমকে রিনিঝিনি চুড়ি। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে হায়দরাবাদই চুড়ি তৈরির জন্য সুনাম রয়েছে। হায়দরাবাদের চাঁদ রাতে চুড়ির বাজারগুলোতে ঘুরলে দেখা যাবে তার প্রকৃত চিত্র। ঈদের পোশাকের পরিপূর্ণতা দিতেই নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয় এসব চুড়ি। এবারে আসুন জেনে নেই কিভাবে তৈরি হয় সাজসজ্জার অন্যতম অনুষঙ্গ চুড়ি।

চুড়ি তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় কাঁচ। কাঁচ কেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী, পুরুষ এমনকি কিশোরীরা তৈরি করছে বাহারি কাঁচের চুড়ি। প্রথমে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয় কাঁচের বোতল এরপর এগুলোকে ভেঙ্গে ১৪’শ ডিগ্রী ফারেনহাইট আগুনের তাপে গলানো হয়। গলিত কাঁচ তখন তরলে পরিণত হয়। এরপর তা মেশিনে প্রেরণ করে চুড়ির আকৃতি দেয়া হয়। আর এ ধাপকে হায়দরাবাদের স্থানীয় ভাষায় বলা হয় সাদাই। এখানেই শেষ নয়। উত্তপ্ত চুড়িগুলোকে পরবর্তীতে ঠান্ডা করে আগুনের সাহায্যে ফাঁকা অংশ জোড়া লাগানো হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় জুরাই অর্থাৎ জোড়া লাগানো। আর এর জন্য বেশ কিছু সময় আগুনের কাছে বসে থাকতে হয় নারীদের। অবশেষে তৈরি হয় বাহারি চুড়ি।

চুড়ি উৎপাদনের জন্য হায়দ্রাবাদের আবহাওয়া বেশ উপযোগি। পাকিস্তানের চুড়ি শিল্পের কেন্দ্রস্থল হায়দরাবাদ। এখানে প্রায় ৩২টি কাঁচ ও চুড়ি উৎপাদনের কারখানা রয়েছে। প্রতিটি কারখানায় গড়ে ৫-৬ মিলিয়ন রুপি বিনিয়োগ করা হয়। চুড়ি উৎপাদন শিল্পের সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ নারী, পুরুষ ও কিশোরির জীবিকা নির্ভর করছে। এই শ্রমিকরা ডেজিং, প্যাকেজিং ও পরিবহন কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে নানান রঙ্গের বাহারি চুড়ি দেশিয় ও বিদেশি বাজারে সরবরাহ করেন।

জীবন বাঁচানোর জন্য এসব শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজের প্রতি দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমী করে থাকে। চুড়ি কারখানায় যেসব শ্রমিক রয়েছে তারা অধিকাংশই ১৫ বছর ধরে কাজ করছেন। চুড়ি তৈরির কারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীরা চুড়ি তৈরি করে যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করেন। কিন্তু মালিকপক্ষ লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শ্রমিকরা। সাধারণত ১৫ দিন পরপর শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়। যা তাদের পরিশ্রমের তুলনায় খুবই সামান্য। তবুও এত ত্যাগ স্বীকারের পরেও চুড়ি শ্রমিকরা দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তৈরি করে যাচ্ছে মনোমুগ্ধকর চুড়ি।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: টুকিটাকি খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*