শিরোনাম

শরীয়তপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত

274277_172শরীয়তপুর সংবাদদাতা: শরীয়তপুরের সখিপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নুর আলম দেওয়ান (৩২) নামে এজকজন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরো অন্তত আরো ১৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের বাবা মোস্তফা দেওয়ান, সখিপুর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন ডিএম খালী ইউনিয়নের চরচান্দা দেওয়ানকান্দি গ্রামের মোস্তফা দেওয়ান ও তারই চাচাতো ভাই মোয়াজ্জেম দেওয়ানগংদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিস দরবার হলেও কোন সুরাহা হয়নি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মোয়াজ্জেম দেওয়ান বিরোধীয় জমিতে ছাগল চড়াতে যায়। এ সময় মোস্তফা দেওয়ানের ছেলে কৃষক নুর আলম দেওয়ানের সঙ্গে মোয়াজ্জেন দেওয়ান, মানিক দেওয়ান ও মোশারফ দেওয়ানের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

কথাকাটাকাটির এক পর্যায় উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে নুর আলম দেওয়ান, মোস্তফা দেওয়ান, আসাদ দেওয়ান, নুর মোহাম্মদ দেওয়ান, শাহ আলম দেওয়ান, হনুফা বেগম, তানিয়া বেগম ও অপর পক্ষের মোয়াজ্জেম দেওয়ান, মানিক দেওয়ান, আহসান দেওয়ান, আবু কালাম দেওয়ানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।

স্থানীয় লোকজন আহতদের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গুরুতর আহত কৃষক নুর আলম দেওয়ানের অবস্থার অবনতি দেখে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সদর হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর আলম দেওয়ানকে মৃত ঘোষণা করে। আজ বুধবার সকালে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে সখিপুর থানা পুলিশ দুলাল সরদার, ইসহাক দেওয়ান, মোয়াজ্জেন দেওয়া, আহসান দেওয়ান ও আমানুননেছাকে আটক করেছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত সখিপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিহতের বাবা আহত মোস্তফা দেওয়ান কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘মোস্তফা দেওয়ান, মানিক দেওয়ান ও মোশারফ দেওয়ান গংরা আমাদের জমিতে ছাগল ছেড়ে দিয়ে ফসল নষ্ট করছিল। এ সময় আমার ছেলে নুর আলম বাধা দিলে তারা আমার ছেলের উপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে আমাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৭/৮জনকে পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে এম মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নুর আলম নামের একজন কৃষক নিহত হয়েছে। আমরা সংবাদ পাওয়া সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫জনকে আটক করেছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জেলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*