শিরোনাম

ভোলার ‘আইফেল’ টাওয়ার ঘিরে পর্যটনস্বপ্ন

2016_04_29_19_46_58_vsJ1GjN102sR7CTa7CE2ladomW9dAV_originalজেলা সংবাদদাতা : দ্বীপের রানী ভোলার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা চরফ্যাশনে নির্মিত হচ্ছে উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। চরফ্যাশন শহরের প্রাণকেন্দ্র খাসমহল মসজিদ ও ফ্যাশন স্কোয়ারের পাশে প্রায় বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ১৯ তলা বিশিষ্ট টাওয়ারটি।

টাওয়ারটিতে সংযোজন করা হয়েছে লিফটের। থাকছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাইনোকুলার। যাতে চারপাশের একশ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত সবকিছু থাকবে নজরদারিতে। পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করবে দৃষ্টিনন্দন এ টাওয়ারটি। এজন্য ইতোমধ্যে ইকোপার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে চর কুকরি-মুকরি, ঢালচরসহ আশপাশের বনাঞ্চলে। আর ইকোপার্ক সংলগ্ন স্থানেই ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল রেস্ট হাউসও।

বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ারের আদলে দ্বীপের রানী ভোলায় গড়ে তোলা টাওয়ারের স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। তার নাম অনুসারেই আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, ভোলা-৪ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এর নাম রেখেছেন জ্যাকব টাওয়ার।

জ্যাকব টাওয়ারে দাঁড়ালেই পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদীর শান্ত জলধারা, পূর্বে মেঘনা নদীর উথাল-পাতাল ঢেউ, দক্ষিণে চর কুকরি-মুকরিসহ বঙ্গোপসাগরের বিরাট অংশ নজরে আসবে।

চরফ্যাশন উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ারের আদলে নির্মিত হচ্ছে এই জ্যাকব টাওয়ার। এটি চরফ্যাশনসহ ভোলাকে বিশ্বদরবারে আলাদা পরিচিতি দিবে।

জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘চরফ্যাশনের দক্ষিণে সাগর মোহনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুকরি মুকরি, ঢালচর, তারুয়া সৈকত প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। কয়েক বছরে এই স্পটগুলো ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন এখানে। চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে রয়েছে হরিণ, বানর, বন মোরগসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও বণ্যপ্রাণী। রয়েছে বন বিভাগের গবেষণা কেন্দ্র। কিন্তু পর্যটকদের খাকা খাওয়া কিংবা নিরাপত্তা দেয়ার মতো কোনো স্থাপনা গড়ে ওঠেনি। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চরফ্যাশনে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এই টাওয়ারটি।’

চরফ্যাশন পৌরসভার মেয়র শ্রী বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে চরফ্যাশন পৌরসভা, খাসমহল মসজিদ ও ফ্যাশন স্কোয়ার সংলগ্ন স্থানে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। টাওয়ারটির ডিজাইনার হচ্ছেন বিশিষ্ট স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর মধ্যেই প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে টাওয়ারটি উদ্বোধন করা হতে পারে।

চরফ্যাশন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ৭৫ ফুট মাটির নিচ থেকে ৭০টি পাথর ডালাই পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত টাওয়ারটি সম্পূর্ণ স্টিলের তৈরি। ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ওই টাওয়ারের চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি থাকবে ১৬ জন ধারণ ক্ষমতার অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ারের চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস থাকবে। এক হাজার বর্গফিটের ১৭তম তলায় থাকবে বিনোদনের নানা ব্যবস্থা।
একসঙ্গে দুশ পর্যটক সেখান থেকেই শক্তিশালী বাইনোকুলারের সাহায্যে কুকরি-মুকরি, তারুয়া দ্বীপসহ চারপাশের একশ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত দেখতে পাবেন। এ ছাড়াও থাকবে বিশ্রাম, প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারের সুব্যবস্থা।

চরফ্যাশন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, চরফ্যাশনের টাওয়ারটির মূল উচ্চতা ১৮৫ ফুট। এর ওপর রয়েছে ৩০ ফুট দীর্ঘ সুদৃশ্য ফলক। ঢাকার কারওয়ান বাজার হাসনা টাওেয়ারের আর্কিটেক্ট ফোরাম নামের একটি প্রতিষ্ঠান ওই প্রকল্পের কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইউনুছ-আল মামুন জয়েন্ট ভেঞ্চার সরকার স্টিল কারওয়ান বাজার, ঢাকা।

ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাংলামেইলকে বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে চরফ্যাশন ও মনপুরাকে সারাবিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলতে এই টাওয়ারটি নির্মিত হচ্ছে। সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা চরফ্যাশনের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয়, বিদেশ থেকেও বহু পর্যটক এখানে আসবে। পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে সরকারও এখান থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে বলে মনে করছে এখানকার মানুষ।’

দৃষ্টিনন্দন এই টাওয়ারের রূপকার পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি বাংলামেইলকে জানান, দক্ষিণ এশিয়া ও উপমহাদেশের সবচেয়ে সুউচ্চ এই টাওয়ারের ৯০ ভাগ নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে টাওয়ারের মধ্যভাগে স্বচ্ছ গ্লাস যুক্ত ব্লু-কালার লিফটের কাজ চলছে। টাওয়ারের স্ট্রাকচারে ত্রিমুখী ব্লু-গ্লাসের কাজ চলছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে টাওয়ারের শতভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জেলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*