শিরোনাম

বাংলাদেশ সীমানায় মাইন পুঁতছে বর্মি বাহিনী

251372_161বান্দরবান সংবাদদাতা : বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে মাইন পুঁতে যাচ্ছে বর্মি বাহিনী। এই মাইন বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশী নাগরিকেরাও এখন সেসব এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ওই মাইন অতিক্রম করে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে সীমান্ত অতিক্রম করে এখনো রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। তবে বাংলাদেশে ঢুকে বর্মি বাহিনীর মাইন পুঁতে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের সিও লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম।
অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা ও কষ্টের মধ্যেও যারা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে পেরেছেন সেসব রোহিঙ্গা এখন আর জীবন নিয়ে শঙ্কিত নন। তারা যে বেঁচে আছেন এটাই তাদের সান্ত্বনা। চোখের সামনে তাদের বাবা-মা, ভাইকে হত্যা ও বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সন্তানকে কোল থেকে কেড়ে নিয়ে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে। পালিয়ে এসে নিজেদের জীবন বাঁচাতে পারলেও পরিবার পরিজনের অনেককেই হারিয়ে তারা শোকাচ্ছন্ন। আর পরিবার বা আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে এখনো যারা ওপারে আটকে আছেন তাদের জন্য দুশ্চিন্তায় কেবলই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।

গতকাল মঙ্গলবার বরশনখোলা ক্যাম্পে গেলে সেখানকার রোহিঙ্গারা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হয়তো এখন আর কেউ বেঁচে নেই। আর বেঁচে থাকলেও পাহাড় ও জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে থাকতে না খেয়ে হয়তো একদিন তারা এমনিতেই মারা যাবেন। এ দিকে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল মংডুর রোহিঙ্গাদের অনেকে জীবন নিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারলেও বুচিডংয়ের বেশির ভাগ রোহিঙ্গাই সেখানে আটকে পড়ে আছেন বলে জানা গেছে। সীমান্ত এলাকায় এখনো বর্মি বাহিনী হেলিকপ্টার নিয়ে মহড়া দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে মাইন পুঁতে যাচ্ছে : গত সোমবার বিকেলে নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা বরশনখোলা সীমান্তে বর্মি বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন মুক্তার নামে এক রোহিঙ্গা। ওই স্থানের পাশেই মাইন বিস্ফোরণে মারা গেছে তিনটি মহিষ। মহিষগুলোর মালিক বাংলাদেশী নাগরিক বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ সীমানার প্রায় এক শ’ গজ ভেতরে এই মাইন বিস্ফোরিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নাইক্ষংছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা আলম বলেন, যখন মাইন বিস্ফোরণ হয় তখন তিনি ওই ক্যাম্পেই রোহিঙ্গাদের সহায়তা করছিলেন। তিনি বরশনখোলা অস্থায়ী ক্যাম্পের উঁচু পাহাড়ে উঠে দেখেন এক লোক তাকে বাঁচানোর জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু ভয়ে কেউ যাচ্ছেন না। পরে তিনি জানতে পারেন ওই ব্যক্তির নাম মুক্তার এবং তিনি একসময় মারা যান। মুক্তার যে স্থানে মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন ওই স্থানটি বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে। বর্মি বাহিনী যে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে তা থেকে অন্তত এক শ’ গজ বাংলাদেশের ভেতরে। স্থানটি বাংলাদেশের মধ্যেই পড়েছে।

ওই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা আবু তাহেরসহ অনেকেই বলেছেন, মাইনটি ফুটেছে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে। এর খানিক দূরে বিকেলে মাইন বিস্ফোরণে তিনটি মহিষ মারা যায়। এ ঘটনাও ঘটেছে বাংলাদেশ সীমানায়। তবে এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি বরশনখোলা অস্থায়ী ক্যাম্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা অসিত। গতকাল দুপুরে ওই ক্যাম্পে গিয়ে তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলব না। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’ বিকেলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় বজিবি নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ ব্যাটালিয়নের সিও লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে। বাংলাদেশ সীমানায় বর্মি বাহিনীর মাইন পুঁতে রাখার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে মিয়ানমারের মধ্যে। মুক্তার নিহত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মুক্তার মিয়ানমারের মধ্যেই নিহত হয়েছে। বিষয়টি তিনি চেক করবেন বলে জানান।
মাইন বিস্ফোরণের ভয়ে এখন অনেকেই আসছেন না : স্থানীয় সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি দিয়ে যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে এসেছিলেন মাইন বিস্ফোরণের ভয়ে তাদের অনেকেই এখন সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হচ্ছেন না। তারা ওপারের পাহাড়ের বিভিন্ন জঙ্গলে লুকিয়ে আছেন। গতকাল সকাল থেকে অল্প কয়েকজন এপারে এসেছেন। তারা বলেছেন, এখনো কাঁটাতারের ওপারে জঙ্গলে অনেকে পরিবার নিয়ে লুকিয়ে আছেন।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জেলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*