শিরোনাম

পেটের সন্তানকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখলেন রোহিঙ্গা নারী

251413_196কক্সবাজার সংবাদদাতা: সীমান্ত পয়েন্ট পার হয়ে পায়ে হেঁটে গত সোমবার ১৯ জনের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উখিয়া বালুখালী অস্থায়ী শিবিরের দিকে আসছেন জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম। বিধ্বস্ত ও নির্বাক খুদিজার কোলে দুই দিনের এক নবজাতক। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ পালিয়ে আসার পথে মিয়ানমার সীমান্তের জঙ্গলে এই শিশুর জন্ম হয়েছে। ছেলেটির এখনো নাম রাখা হয়নি, কিন্তু তার জীবন শুরু হয়েছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে, যেখানে নেই বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন বা বেঁচে থাকার মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

নবজাতক ছেলের মা মাজেদা বেগম জানান, ‘ঈদুল আজহার দিন আরকানের বুচিডং এলাকার তংবাজারে কয়েকজন বৌদ্ধ এসে আমাদের সাথে কথা আছে বলে সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে আমাদের গ্রামের ওপর দিয়ে হেলিকপ্টার থেকে মর্টারশেল নিক্ষেপ করে আমাদের গ্রামের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। এতে আমার বাড়ির সব কিছু পুড়ে যায়। সাথে কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। ১৩ দিন হেঁটে আসার পর সোমবার ভোরে সীমান্ত অতিক্রম করি। এরমধ্যে গত রোববারে সকালে সীমান্তের পাহাড়ি জঙ্গলে আমার সন্তানের জন্ম হয়। গত দুইদিন ধরে কিছুই খাইনি। তারপর হেঁটে এই পর্যন্ত আসলাম।

মাজেদা বেগম কোলে নেয়া শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে আরো বলেন, আসার সময় এক দিকে প্রাণ রক্ষার ভয়, অন্য দিকে আমার প্রসববেদনা। আশপাশে নেই কোনো ডাক্তার বা ধাত্রী। প্রতি পদে পদেই প্রাণ হারানোর ভয়ের মধ্যে আমার সন্তানের জন্ম হয়েছে। নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য পাহাড়-জঙ্গল বেয়ে আমরা শুধু ছুটছি। নিজ গ্রামে জ্বলছে আগুন। নিজের জীবনের চাইতে অনাগত সন্তানের চিন্তাই মাথায় বেশি। সন্তানকে বাঁচাতেই গর্ভাবস্থায় এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। মাজেদার সাথে পালিয়ে আসার সময় তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ১৯ জন সদস্য ছিল। তার স্বামী বলেন, প্রসব বেদনায় কাতর ছিল মাজেদা। প্রসব বেদনার যন্ত্রণা তাকে এবং আমাদের ভোগাচ্ছিল। ব্যথার সময়কার দৃশ্যগুলো বলে বোঝানো যাবে না। পাশে কোনো ডাক্তার নেই, কোনো ওষুধের ব্যবস্থা ছিল না।

সীমান্ত পেরিয়ে আসার সময় পথেই জন্ম হয়েছে এই রকম শতাধিক রাষ্ট্রহীন-নাগরিকতাহীন, আশা-স্বপ্ন-ভবিষ্যতহীন মানব শিশুর। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও গর্ভধারণী মা সন্তান জন্ম দিতে পেরে খুব খুশি।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জেলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*