শিরোনাম

চৌহালীতে যমুনায় বিলীন ২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

251401_156সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : যমুনা নদীতে তৃতীয় দফায় পানি বৃদ্ধির ফলে প্রচন্ড ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে যমুনার পশ্চিম পাড় এনায়েতপুরের ৫ টি গ্রাম জুড়ে আবারো শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। এতে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এখনো শুরু হয়নি ভাঙনরোধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন।

যমুনার রাক্ষুসী থাবা থেকে ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলী জমি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি ভুক্তিভোগীদের।
জানা যায়, যমুনা বিধ্বস্ত চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের খাষদেলদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বুধবার ভোরে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। একই ইউনিয়নে বীরবাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রতি নদী গর্ভে চলে গেছে। এতে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ৫শ কোমলমতি শিক্ষার্থীকে দুর্ভোগে পড়ে চালিয়ে যেতে হচ্ছে পড়াশোনা। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চৌহালী উপজেলার প্রায় ১১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে বলে শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে।
খাষদেলদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেন বলেন, যমুনা নদীতে স্কুল ভবন, বাথরুম ও টিউবয়েল নদী গর্ভে চলে গেছে। সামনে সমাপনী পরীক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে মারাক্তক সমস্যায় পড়েছি। স্কুলটি স্থানান্তর করে নতুন ভবন নির্মান দাবি জানাচ্ছি।
তবে চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ফিরোজ বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া স্কুল দুটির শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে কথা চিন্তা করে অন্য স্থানে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। তবে নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান গুলোর নতুন ভবন নির্মানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মান হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমে যাবে।
এদিতে যমুনার পশ্চিম পাড় এনায়েতপুর থানা সদরের ব্রাহ্মণগ্রাম, আড়কান্দি চর, পাকুর তলা, বাঐখোলা ও পাচিল গ্রামের নদী তীরবর্তী এলাকায় চলছে ভাঙন। পানি বৃদ্ধির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার ঘর-বাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বহু ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো নেয়া ভাঙনরোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা। এলাকাবাসির অভিযোগ নদী ভাঙনরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়েও এনায়েতপুরের দক্ষিণ থেকে পাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকায় কোন জিওব্যাগ অথবা পাথর ফেলে কোন ব্যবস্থা নেয়নি পাউবো। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে দেশের সর্ববৃহৎ এনায়েতপুর কাপড়ের হাট, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, তাঁত কারখানা ও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ভাঙন রোধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে আড়কান্দি চরের বাসিন্দা ও এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম শামীম হক বলেন, দেশের প্রায় সকল ভাঙন কবলিত এলাকায় সরকারী ভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মান করা হচ্ছে। অথচ তাঁত শিল্প সমৃদ্দ এনায়েতপুর থানার দক্ষিণাঞ্চলটি শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় কোন জনপ্রতিনিধিই তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইমাম জানান, এনায়েতপুরের দক্ষিণাঞ্চলে নদী ভাঙনের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জেলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*