শিরোনাম

ইসলামপুরে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে একের পর এক পানি প্রবাহ

indexজামালপুর সংবাদদাতা: জামালপুরের ইসলামপুরে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে একের পর এক পানি প্রবাহ। কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নিরবতায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে বেদখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি খাল-বিল। এতে নালা বন্ধ হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টিসহ বন্যা মওসুমে রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা করছেন এলাকবাসী।
সম্প্রতি সময়ের মধ্যে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করে উপজেলার চর পুটিমারী ও চরগোয়ালীনি ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদ কান্দারচরসহ কয়েক কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি ব্রিজকার্লভাট ভরাট করে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, চরগোয়ালীনি ইউনিয়নের কান্দারচর এলাকার একটি কুচক্রি মহল নিজেদের স্বার্থের জন্য পুরাতণ ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদ স্থানীয় নাম শিয়ালদহের পানি প্রাবাহ বন্ধ করে নদী ভরাট করে বাজার বসিয়েছে। এতে সংযুক্ত দশআনী নদী ও শিয়ালদহ নদের সাথে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের সংযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উপজেলার গোয়ালেরচর, গাইবান্ধা, চরগোয়ালীনি, চর পুটিমারী এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার সাথে তিন লক্ষাধিক মানুষের নৌ পথ চির দিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে পরির্দশনে দেখা গেছে, কান্দারচর-চরপুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের চিনারচর গ্রামে মাত্র ২০০ মিটার দুরত্বের মধ্যে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি নির্মিত দুইটি কার্লভাট মাটি দিয়ে অবৈধ ভাবে ভরাট করা হয়েছে। এ ছাড়া ডেফলা- বেনুয়ারচর সড়কের চিনারচর খালের ওপর তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি ব্রিজ দশআনী নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে ভরাট করা হচ্ছে। ওই সড়কের বেনুয়ার চর খালের ওপর প্রায় তিন কোটি টাকার আরো একটি ব্রিজ ও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ খালটি ইতিমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। এতে বিস্তৃর্ণ এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধাতর সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বন্যা মওসুমে স্বাবাবিক পানি প্রবাহ বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
চরপুটিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ মাষ্টার বলেন- উপজেলা প্রকৌশলীর নিকট এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা প্রকৌশলী তাকে থানায় অভিযোগ করতে বলেছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী আহসান আলী জানান, তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন- এটি স্থানীয় ও রাজনৈতিক বিষয়। তাই স্থানীয় এমপি ও উপজেলার চেয়ারম্যানের হস্থক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সদ্য যোগদান করছি। জেনে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলার চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ খান বিপুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব এলাকার উন্নয়ন কাজ এনে দেয়া। আর উপজেলার কোথায় কি কাজ হলো, কোথায় কি সমস্যা হচ্ছে এ গুলো দেখার দায়িত্ব উপজেলার চেয়াম্যানের। সেও তো জনপ্রতিনিধি তার কি কোন দায়িত্ব নেই বলে প্রশ্ন রাখেন এমপি।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জেলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*