শিরোনাম

রোববার সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি

272868_154নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ফের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনাকে সরকারের নিষ্ঠুর ও বন্য আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামী রোববার মহানগরসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

আজ বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, সরকারের নীল নকশার অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সরকারের বন্য আক্রোশের কারসাঁজিতে এই গ্রেফতারি আদেশ জারি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা এহেন আদেশ জারির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, আফরোজা আব্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বামদলগুলোর হরতাল থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ আদালতে হাজির হতে না পারায় আবারো তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে হাজির হয়ে সময়ও চেয়েছিলেন। এমনকি হরতাল শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চান বলে আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করলেও তা নাকচ করে দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী ও ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রধানের পাশবিক জিঘাংসার প্রতিফলন এটি। জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে হিংসাপরায়ণ সরকারের বিভীষিকাময় আস্ফালন। এ আদালতে বেগম খালেদা জিয়া যে ন্যায় বিচার পাবেন না, এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তা আরো পরিস্কার হলো।

তিনি বলেন, যেখানে প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তা নেই, যেখানে জোর করে অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশত্যাগে তাকে বাধ্য করা হয়, তারপর বিদেশে প্রধান বিচারপতির কাছে সরকারের লোকেরা গিয়ে হুমকি দিয়ে তাকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়, সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধান কিভাবে ন্যায় বিচার পাবেন? যেখানে প্রতিহিংসার বিষ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অন্তরে অম্লান থাকে, সেখানে জনগণের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের মুক্তি কঠিন হয়ে পড়ে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সরকারের নিষ্ঠুর ও বন্য আক্রোশেরই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহেই সরকার প্রধানের নির্দেশে খালেদা জিয়াকে হয়রানিমূলকভাবে আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনিও আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। তারপরও ফের বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়না জারি যে, সরকারের পরিকল্পিত ও নীলনকশার অংশ সেটা বুঝতে কারো বাকি নেই।

রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জান্তব হিংস্রতায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। মনে হয়-বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার জ্বালা সরকার প্রধানের মনের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলছে, এ আগুন যেন অনির্বাণ। নিপীড়ণের মাত্রা কত তীব্র হলে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালা মিটবে তা সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন। মিথ্যা মামলা দায়ের, গ্রেফতারী পরোয়ানা, অশ্রাব্য-কুশ্রাব্য গালিগালাজ, মিথ্যাচারের অবিরাম ধারাবর্ষণ ইত্যাদি প্রতিনিয়তই চলছে বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। এক্ষেত্রে এক শ্রেণীর ভাড়াটে বুদ্ধিজীবিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় ১০ বছর ও তাদের মদদপুষ্ট ১/১১ সরকারের দুই বছরসহ একযুগ ধরে বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। নিম্ন আদালতের একটি মামলায় তারেক রহমানকে খালাস দেয়া হলে সে বিচারককে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে সরকার। কিন্তু যতই অপচেষ্টা হোক সরকার পার পাবে না। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে কোটি কোটি জনতার ঢল দেখে সরকার বেসামাল হয়ে তার ওপর নানামুখী আক্রমণ চালানো হচ্ছে। আদালতকে কব্জায় নিয়ে এই আক্রমণ চালাতে কসুর করছে না। তবে আমরা সরকারকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই-জনমতই হচ্ছে সর্বোচ্চ রায়। এই রায়ে বেগম জিয়া দেশের মানুষের সত্যিকার ও ন্যায়সঙ্গত প্রধান প্রতিনিধি, আওয়ামী সরকার বা বর্তমান সরকার প্রধান নন। যারা হত্যা, বেআইনী গুম, খুনকে ব্রত করে সরকার চালাচ্ছেন তারা হাহাকারে বাতাস যে ক্রমশ: ভারী হয়ে উঠেছে সেটি তারা আন্দাজ করতে পারছে না। জনতার স্রোতে ভেসে যাবে সব ষড়যন্ত্র। দেশের জনগণ দুন্দুভি বাজিয়ে বর্তমান সরকারের পতন নিশ্চিত করবে।

এছাড়া যশোরের চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ আলী, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সদর পৌর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিদ্দিক হোসেন এবং ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম কাদের বাবলু, বেনাপোল পৌর কাউন্সিলর আব্দুল আহাদ, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলমগীর, জেলা ছাত্রদল সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, শার্শা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মশিউর, সদর উপজেলা বিএনপি নেতা শহীদ বিশ্বাসসহ ৬৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট, ভুয়া ও কাল্পনিক মামলা প্রত্যাহার করে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করেন রিজভী।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জাতীয় খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*