শিরোনাম

মহাজোটের শরিকদের নৌকাই ভরসা

250268_181একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে সরকার ও সরকারবিরোধী সব দল ও জোটে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটেও নির্বাচনী তোড়জোড় চলছে। তবে নিজেদের ভোটব্যাংক যাই থাকুক না কেন অতীতের মতো আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ঘাড়ে ভর করে বৈতরণী পার হওয়ার মনোভাব নিয়েই কাজ করছে মহাজোটের শরিকরা। তারা আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভরসা পাচ্ছেন। ফলে জাতীয় সংসদে পাল তোলার মনোবাসনা পূরণে অতীতের মতো দলীয় প্রতীক ছেড়ে নৌকা মার্কা নিয়েই নির্বাচন করতে আগ্রহ শরিকদের।

এতে অনেক আসনেই জোট প্রধান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও এলাকায় জনপ্রিয় বেশ কিছু প্রার্থী মনোনয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার দলের অবস্থান নড়বড়ে হলেও কোনোমতে নৌকায় উঠতে পারলেই পার পাওয়া যাবে এমন আশা জিইয়ে রেখেছে জোটের একাধিক নামসর্বস্ব দল। ওই দলগুলো আপাতত নির্বাচনী প্রস্তুতির ধারেকাছেও নেই বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের বিনাভোটের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের ১৪টি দলের মধ্যে জোট প্রধান আওয়ামী লীগসহ মাত্র পাঁচটি দলে এমপি-মন্ত্রী ভাগাভাগি হয়েছে। এরমধ্যে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিকে একজন সংরক্ষিত মহিলা এমপি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। শক্ত প্রার্থী থাকলেও অন্য শরিক দলগুলো জোট প্রধান আওয়ামী লীগের সাথে দরকষাকষি করেও সরকারে জায়গা হয়নি। তবে শরিক দলগুলোর মধ্যে যারাই এমপি হয়েছেন নৌকার ওপর ভর করেই তাদের সংসদে যেতে হয়েছে। ক্ষমতাসীন জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়া হয় দুইভাবে। প্রথমত জোটগতভাবে, দ্বিতীয় দলগতভাবে। নির্বাচনের এখনো এক বছরের বেশি সময় থাকায় জোটগতভাবে নির্বাচনের কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়নি।

আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এটা মাথায় রেখেই দলগতভাবে প্রার্থীরা এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। যখন আসন ভাগাভাগি হবে তখন থেকেই জোটগতভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। এ ছাড়া আসন ভাগাভাগিতে আশাতীত সমন্বয় না হলে দলগতভাবেও কিছু প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকবেন।

জানা গেছে, জোটের অন্যতম শরিক জাসদ। বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এ ছাড়া পাঁচজন এমপি ও একজন সংরক্ষিত মহিলা এমপি রয়েছেন এ দলটির। এরমধ্যে চারজনই নৌকার ওপর ভর করে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মশাল প্রতীকে নির্বাচন না করে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে সরকারের অংশীদার এ দলটি। অবশ্য সম্প্রতি অভ্যন্তরীণভাবে বনিবনা না হওয়ায় সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়াসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী বিভক্ত হয় যান।

জাসদের একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর অংশে বর্তমানে রয়েছেন তিনজন এমপি। এবার প্রায় ৬০ জন সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার  বলেন, এটা তো একটা নির্বাচনী জোট। জোট গঠনের পর আমরা দলীয় প্রতীকেও নির্বাচন করেছি এবং নৌকা প্রতীক নিয়েও নির্বাচন করেছি। জোটের অন্য দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে আমাদের দলের স্বকীয়তা নষ্ট হবে বা প্রভাব পড়বে এমনটা নয়।

আমি মনে করি না, এর মাধ্যমে দলের স্বকীয়তার ওপর কোনো প্রভার পড়ে। মহাজোটের অন্যতম আরেক শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি। ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী হন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা এমপিসহ পাঁচজন এমপি সংসদে জায়গা পেয়েছেন এ দলটির। তাদের দলীয় প্রতীক হাতুড়ি বাদ দিয়ে নৌকায় চড়ে এমপি হয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

জোটের আরেক শরিক তরিকত ফেডারেশন আওয়ামী লীগের সাথে জোট গঠনের পর থেকে দলীয় প্রতীক ফুলের মালা বাদ দিয়ে নৌকা মার্কার ব্যানারে নির্বাচন করে। ৫ জানুয়ারির বিনা ভোটের নির্বাচনেও তরিকত ফেডারেশনের দুইজন এমপি নৌকায় চড়ে সংসদে যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে। জোটের আরেক শরিক সাম্যবাদী দল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার ওপর ভর করে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া। তবে গত বিনা ভোটের নির্বাচনে বর্তমান সরকারে তার দলের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও আগামী নির্বাচনের জন্য দলের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দিলীপ বড়ুয়া।

আরেক শরিক গণতন্ত্রী পার্টি। সাম্যবাদী দলের মতো একই অবস্থা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১০ জনের এমপি প্রার্থীর তালিকা দিলেও লাভ হয়নি। জোট প্রধানের মন গলাতে পারেননি তারা। এবারো ওই ১০ জন নেতা সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এবার নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন না করে নৌকায় চড়ে সংসদে যাওয়ার তীব্র আকাক্ষা রয়েছে দলটির। গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা: শাহাদাত হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, গত নির্বাচনে মনোনয়ন পাইনি ঠিকই। তবে আমরা আশা করছি আগামী নির্বাচনে জোটপ্রধান আমাদের মূল্যায়ন করবেন। তিনি বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করার সুযোগ পেলে তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আমরা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করব, নাকি দলীয় প্রতীকে করব।

মহাজোটের অন্যতম আরেক শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ। বর্তমান সরকারে একজন সংরক্ষিত মহিলা এমপি রয়েছে এ দলটির। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জোটগতভাবে পাঁচজন এমপি দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউই নির্বাচিত হননি। এবার ১০ জনের মতো সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন। গতবার দলীয় প্রতীকে ফসকে গেলেও এবার নৌকায় চড়বেন তারা। দলটির সহসাধারণ সম্পাদক মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, জোটগতভাবে এখনো কোনো কিছু নির্ধারণ হয়নি। তাই আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের দলীয় প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে জোরাল প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। আসন ভাগাভাগি হলে তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কোন প্রতীকে আমরা নির্বাচন করব।

এ ছাড়া শরিক বাসদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণ আজাদী লীগ ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির মতো জোটের ভঙ্গুর দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতির তেমন ধারেকাছেও নেই। এরমধ্যে কয়েকটির রাজনৈতিক নিবন্ধন তো দূরের কথা নিজস্ব কার্যালয় পর্যন্ত নেই। এমনকি ওই দলগুলো ঢিমেতালে আওয়ামী লীগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে বলে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি নয়া দিগন্তকে বলেন, জোটের শরিক দলগুলোর নৌকার ওপর শত ভাগ ভরসা আছে। আর এ জন্য তারা অতীতে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জাতীয় খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*