শিরোনাম

বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে লেখা বইগুলো অসম্পূর্ণ: অর্থমন্ত্রী

ef7b4d0b69e3ef88547719e72a9ae53f-25নিজস্ব সংবাদদাতা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে লেখা বইগুলো অসম্পূর্ণ। এই বইগুলো পড়ে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে তাঁর নিজের লেখা হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ: আ সাব-কন্টিনেন্টাল সিভিলাইজেশন শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের বইগুলোতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস নিয়ে লেখা হয়। বিষয়টা এমন যেন এর আগে এখানে কোনো ভূখণ্ড ছিল না। এ কারণে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে একটি বই লেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক ইতিহাস বিষয়ে বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে বাংলাদেশ অংশের মানুষের ভূমিকা ছিল বেশি। কিন্তু দেখা গেল পাকিস্তানের রাজধানী হলো করাচি। ভাষা হলো উর্দু। নেতাও সেখানকার। ওই সময় এই বাংলার মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানিদের বেশি ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের এই উৎসর্গের পরও পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানিদের সঙ্গে ঐক্য তৈরি করতে পারেনি, বরং বৈষম্য তৈরি করেছে। এর ফলই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম।
বইটিতে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এর পরের, বিশেষ করে নব্বই পর্যন্ত নেই, আলোচকদের এমন সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই সময়ের ইতিহাস নিয়ে বলার পর পর্যাপ্ত গবেষণা করা সম্ভব হয়নি। বইটিতে বেশ কিছু অসংগতি, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে বলে ইতিহাসবিদদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। এগুলো পরবর্তী সময়ে সংশোধন করা হবে।
প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী বইয়ে উল্লিখিত বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস অংশের কিছু ভুলত্রুটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেশ কিছু বিষয় মন্ত্রী তাঁর বইয়ে লিখেছেন, যে ইতিহাসগুলো এখনো মীমাংসিত নয়। তা ছাড়া ব্যাখ্যারও প্রয়োজন ছিল। তবে তিনি বলেন, বইটি সমাদৃত হবে। ভবিষ্যতে যাঁরা ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করবেন, তাঁদের কাজে সহায়ক হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, লেখক বইয়ে কাল বিভাজন করেছেন। কিন্তু এই বিভাজনের ব্যাখ্যা দেননি। এটা থাকলে ভালো হতো। বইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের গৌরবময় যুগ ও আধুনিক যুগ সম্পর্কে বলা হয়েছে। কিন্তু এটা কেন গৌরবময় ও কেন আধুনিক, তা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এটি থাকলে বইটি আরও সমৃদ্ধ হতো। তিনি আরও বলেন, এই বইটি পড়লে লব্ধ জ্ঞানের সঙ্গে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা পাঠককে সমৃদ্ধ করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের আরেক অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমীন বলেন, ‘বইটিতে বাকশাল নিয়ে লেখা অংশে লেখক তাঁর নিরপেক্ষতা রাখতে পেরেছেন। সরকারের একজন মন্ত্রী হয়ে তিনি সেটা পারবেন কি না, তা নিয়ে একটি সংশয় আমার মধ্যে ছিল।’ তিনি আরও বলেন, বইটিতে রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি ও সমাজনীতি বেশ ভালোভাবে এসেছে। এখানে লেখকের অভিজ্ঞতা ভালো কাজে দিয়েছে।
সোনিয়া আমীন বলেন, ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীর লেখা একপেশে হতে পারে। তবে এখানে লেখকের লেখায় সেটা আসেনি। লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বইটিকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি আরও বলেন, তবে এটি ঠিক যে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা থাকলে ভালো হতো।
আবুল মাল আবদুল মুহিতের লেখা বইটিতে পাঁচটি অংশ আছে। প্রথম অংশে ভারত উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাস থেকে মোগল সময় পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের শেষ সময় পর্যন্ত উল্লেখ আছে। তৃতীয় অংশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার সময় পর্যন্ত, চতুর্থ অংশে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের ইতিহাস এবং পঞ্চম অংশে স্বাধীনতার পরের কয়েক বছরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বইটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) পরিচালক মারুক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। ৪৮০ পৃষ্ঠার এই বইটির দাম ৮০০ টাকা। এটি ইউপিএলের বিক্রয় কেন্দ্র ছাড়াও প্রথমা প্রকাশন, পাঠক সমাবেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, কিয়স্ক প্রভৃতি বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জাতীয় খবর, সাহিত্য

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*