শিরোনাম

আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন করলে রেজাল্ট কি হবে তা জানেন ইনু : ওবায়দুল কাদের

266964_17নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন করলে তার ফলাফল কি হবে তথ্যমন্ত্র হাসানুল হক ইনু তা ভালো করে জানেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তিনি এ মন্তব্য করেন।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্পিচ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি (ইনু) নিজেও জানেন আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন করলে এর ফলাফল কী হবে। সেটা তিনি আগেও ‘টেস্ট’ করেছেন। তিনি অভিমান থেকে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি আমাদের ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমকে জানিয়েছি। এটা নিয়ে আর বেশি কিছু এখানে না বলাই ভালো। ইনু সাহেব হয়তো এমন বক্তব্য দিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলতে চাচ্ছেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় তাদের জবাব জাতিসংঘ দিয়েছে। স্বাধীনতা নিয়ে জিয়াউর রহমানের একটি লেখা রয়েছে। যেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে স্বাধীনতার গ্রিন সিগন্যাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তারপরেও বিএনপি বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়ায়।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে যত্রতত্র বাজোনো উচিত নয় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যে ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে আমরা এটিকে সম্মানের সাথে ব্যবহার করব। বিশেষ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস, জাতীয় দিবস, ফেব্রুয়ারি মাস, মার্চ মাস, ডিসেম্বর মাসে এবং ক্ষেত্র বিশেষে এটির ব্যবহার করা উচিত।

ছাত্রলীগের বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে ছাত্রলীগের পরিমাণগত ব্যাপকতা অনেক বেড়েছে। কিন্তু গুণগত গভীরতা, চারিত্রিক গভীরতা বাড়েনি। এটাকে বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে যা হচ্ছে তা কোনো তথ্য সন্ত্রাস নয়। সত্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে না। তথ্য সন্ত্রাসের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেরা আত্মতৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ নেই। বরং সেটি হবে আত্মবিনাশী সিদ্ধান্ত। সত্যকে স্বীকার করতে হবে এবং সমস্যা সমাধানের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ছাত্রলীগকে কোনো ফাঁদে পা না দেয়ার জন্য সতর্ক করে দেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন অভিযোগ তোলো তাদেরকে সমাবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে না। আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন আমরা দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও অনুমতি পাইনি। কত মিছিল লাঠিচার্জ করে ভেঙে দেয়া হয়েছে। অফিসের সামনেও মিছিল করতে দেয়া হয়নি।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব আপনারা সমাবেশের অনুমতি পাচ্ছেন এটাই সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি সহযোগিতা।

বিএনপি নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ভয় পায় আপনাদের সমাবেশের অনুমতি দিতে। নিজেরা মারামারি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি, বিশৃংখলা করে কতো সভা পণ্ড করেছেন। আপনারা নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ। নিজেরা মারামারি করে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাবেন। এবার কোনো বিশৃংখলা করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকার, পুলিশ চুপ করে বসে থাকবে না। যা যা করার তারা তা করবে। এই পরিবেশ যদি আপনাদের কারণে বিঘ্ন হয় তবে আপনাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না।

সংগঠনের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জাতীয় খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*