

জিল্লুর রহমান সাগর, মাগুরাঃ মাগুরার শ্রীপুরে বারোমাসী সিডলেস চায়না-৩ লেবু চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কামাল হোসেন। পেশায় একজন পল্লী পশু চিকিৎসক হয়েও ইউটিউব দেখে শুরু করেন কৃষি কাজ। বর্তমানে তিনি ৫৫ শতক জমিতে বারোমাসী সিডলেস চায়না-৩ জাতের লেবু এবং সাথী ফসল হিসেবে বারোমাসী ভিয়েতনামী মালটা, বেগুন, লাউ এবং শাকসবজীর চাষ শুরু করে বর্তমানে তিনি বারোমাস অর্থ উপার্জন করছেন। ইতোমধ্যে এলাকার শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার যুবকরা কামাল হোসেনকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
জানা গেছে, উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের অন্তর্গত বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন। তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাড়ির পাশে ৫৫ শতক জমিতে উচ্চ ফলনশীল বারোমাসী সিডলেস চায়না-৩ জাতের ৩’শ ৫০ টি লেবু ও ৫০ টি বারোমাসী ভিয়েতনামী মালটা গাছের চারা রোপণ করেন। লেবুর চারা, বাগান বেড়া দিয়ে ঘেরা এবং শ্রমিকের মজুরী বাবদ তার মোট খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। মাত্র ৪ মাস পর থেকে গাছে ফুল ধরা শুরু হয় ৭ মাসের পর থেকেই বাণিজ্যিকভাবে ওই বাগান থেকে লেবু বিক্রি শুরু হয়েছে। এবং আগামী কয়েক মাসের পর থেকে এ সকল গাছ থেকে কলম বিক্রি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে বাজারে লেবুর যথেষ্ট চাহিদা এবং দাম ভাল পাওয়া যায়৷ চাষে তেমন শ্রম দিতে হয়না। তাছাড়া এর রোগ বালাই অনেক কম। সহজে যে কেউ লেবু চাষ করতে পারে। বর্তমানে তার বাগানের গাছে থোকায় থোকায় লেবু ধরেছে। একদিকে লেবু উঠানো হচ্ছে অন্যদিকে প্রচুর ফুল আসছে।
কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, চারা ক্রয়, গর্ত তৈরি, সার ও অন্যান্য খরচ মিলে তার প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। চারা রোপণের এক বছরের পর থেকেই তার স্বপ্নের লেবু গাছে ফল ধরা শুরু হয়। বাগানে এসেই কিনছেন লেবুর গাছের কলম। তাই বাজারজাত করার বাড়তি ঝামেলা নেই। প্রতি পিস লেবু তিনি ৩ টাকা করে বিক্রি করেছেন। লেবুর ভালো দাম পেয়ে কৃষক কামাল হোসেন অনেক খুশি। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী চাষিরা তার এ বাগান দেখে লেবু চাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় লেবু। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রতিটি গাছে ২০০-২৫০টি করে ফল ধরেছে।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হুমায়ন কবির বলেন, সীডলেস লেবুর প্রচুর রস এবং সুগন্ধী। রমজানে লেবুর চাহিদা বেশি থাকায় আশা করছি আসছে রমজানে ওই কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন। কৃষি বিভাগ থেকে প্রযুক্তিগত দিকসহ তাকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এ অঞ্চলের জন্য এটি একটি আদর্শ লেবু বাগান।
আপনার মতামত লিখুন :