

এম, এম, সাইফুর রহমান, চরভদ্রাসন, ফরিদপুরঃ নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৪তম জন্ম ও ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। রোকেয়া দিবস–২০২৫ উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এই বছরের প্রতিপাদ্য ‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।
আজ ৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় সকালে ১১ ঘটিকায় উপজেলা মিনি কনফারেন্স হল রুমে পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে নারীশিক্ষা ও চাকুরী, অর্থনৈতিক উন্নয়নে, সফল জননী, নির্যাতিত ও জীবন সংগ্রামে জয়ী এবং সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেওয়া হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ তালুকদার এর সঞ্চালনায় ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সারমিন আক্তার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানাল উদ্দিন । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জায়েদ হোসাইন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাফিজুর রহমান সহ প্রমূখ।
এ বছর রোকেয়া পদক পেয়েছেন- ফিরোজা বেগম ( অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন ), জাকিয়া সুলতানা (?( নারী শিক্ষা ও চাকরি ), সুফিয়া বেগ (সফল জননী ), রুমা বেগম ( নির্যাতিত ও জীবন সংগ্রামে জয়ী ), আনোয়ারা বেগম ( সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানে ) । উপজেলা পুরস্কার সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তাদের নাম চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে। পাঁচ জয়িতাকে সম্মান স্বরূপ তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট ও সম্মাননা পত্র।
নারী জাগরণের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তখনকার সমাজে নারীশিক্ষা প্রায় নিষিদ্ধ ছিল। তবুও পরিবারের অগোচরে বড় ভাইয়ের কাছে উর্দু, বাংলা, আরবি ও ফারসি শেখেন তিনি। স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সহায়তায় তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
নারী মুক্তি, শিক্ষা বিস্তার ও সমঅধিকারের ক্ষেত্রে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদান আজো অনুপ্রেরণার উৎস। তার আদর্শকে সামনে রেখে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে পালিত হচ্ছে এবারের রোকেয়া দিবস।
আপনার মতামত লিখুন :