শিরোনাম

মেধাবী কৃষকের আবিষ্কার,জামালপুরে পানির সঙ্গে ওঠা গ্যাসেই চলছে সেচপাম্প

krrisi jomiজামালপুর সংবাদদাতা: জামালপুরের মাদারগঞ্জে ৫ ইঞ্চি পাইপের ডবল বোরিং সেচপাম্পে পানির সঙ্গে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তিন বছর ধরে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করছেন এক কৃষক। ওই গ্যাস সরাসরি সেচযন্ত্রের জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগিয়ে প্রায় বিনা খরচে ১৬ একর জমিতে চাষ করছেন বোরো ধান। এ কৃষি প্রযুক্তিটি আবিষ্কার করেছেন মাদারগঞ্জ উপজেলার পূর্ব সুখনগরী গ্রামের মেধাবী কৃষক রবিউল ইসলাম(৫৩)।জানাগেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের চরসুখনগরী, জাঙ্গালিয়া, খিলকাঠি, শিংদহ, পলিশা ও তাড়তাপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ রয়েছে। ওই সব এলাকার খাল বিল ও পুকুর থেকে বুদবুধ আকারে গ্যাস উপরে উঠে। এতে বালিজুড়ি ইউনিয়নের বহু ফসলি জমিতে সেচযন্ত্র দিয়ে পানি উঠানো সম্ভব হয়নি বলে কৃষকরা ইতোপূর্বে তাদের ফসলি জমিতে শত চেষ্টা করেও সেচ দিতে ব্যর্থ হয়। ২০১০ সনে মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব সুখনগরী গ্রামের মেধাবী কৃষক রবিউল ইসলাম তাঁর ফসলি জমিতে বিভিন্ন কৌশলে সেচযন্ত্র লাগানোর চেষ্টা করেন। প্রথমে তাঁর জমিতে ৯০ ফুট দীর্ঘ ৫ইঞ্চি পাইপ দিয়ে দুটি বোরিং করেন। পরে বোরিংয়ের মাথায় ডিজেল ইঞ্জিন লাগিয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি উত্তোলনের চেষ্টা করলে সেচপাম্পে প্রাকৃতিক গ্যাস ঢুকে পড়ে। ওই গ্যাসে আগুন ধরিয়ে দিলে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠায় তিনি কয়েকদফা সেচযন্ত্রে পানি ওঠাতে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে বোরিং-এর পাইপের মাঝে বিশেষ প্রযুক্তিতে দেড় ইঞ্চি পাইপের একটি পৃথক লাইনের সাহায্যে পানি পাম্পে প্রবেশের আগেই গ্যাস বাইরে বের করে দিয়ে পানি উত্তোলনে সফল হন। তখন থেকে রবিউল ইসলাম ডিজেল চালিত ইঞ্জিনে শুরু করেন বোরো চাষ। ২০১২ সনে তাঁর সেচযন্ত্রের বাইরে বের করে দেয়া প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়। প্রথমে তাঁর সেচপাম্পে পেট্রোলইঞ্জিন লাগিয়ে সেটাতে তার পাম্পের বাইরে বের করে দেয়া প্রাকৃতিক গ্যাস লাইনের সংযোগ দিয়ে ইঞ্জিনটি চালাতে সমর্থ হয়। এরপর ৫ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে পাশাপাশি দুটি বোরিংয়ের মাথায় পাম্প লাগিয়ে বিশেষ কায়দায় একটি মিনি টয়োটা গাড়ির পেট্রোলইঞ্জিন লাগিয়ে সেটাতে প্রাকৃতিক গ্যাস লাইনের সংযোগ দিয়ে ইঞ্জিনটি চালাতে সমর্থ হন। এর পর থেকে কৃষক রবিউল ইসলাম ডবল বোরিং সেচপাম্পে পানির সঙ্গে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করেন। আবার ওই গ্যাস দিয়েই সেচ যন্ত্রটি চালিয়ে প্রায় বিনা খরচে ১৬ একর জমিতে বোরো চাষ করেন। গত দুই বছর ১৬ একর জমিতে বোরো চাষ করতে প্রতি মৌসুমে তাঁর সেচ যন্ত্রে দুই বার তিন লিটার করে মবিল দেয়া ছাড়া আর কোন প্রকার জ্বালানি খরচ লাগেনি। এতে পর পর দুই মৌসুমে ১৬ একর জমিতে বোরো চাষ করতে তাঁর সেচযন্ত্রে জ্বালানি খরচ হয়েছে মাত্র ২হাজার ৪ শ’ টাকা। এ বছরও তাঁর ১৬ একর জমিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগের যন্ত্রটি সেচকাজে ব্যবহার হচ্ছে পুরোদমে।মেধাবী কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের প্রাকৃতিক গ্যাস কাজে লাগাতে তাঁর আবিষ্কৃত কৃষি প্রযুক্তিটি অত্যান্ত পরিবেশ বান্ধব। তাঁর সেচ যন্ত্রে কোন প্রকার কালো ধোঁয়া বের হয়না এবং অতিমাত্রার শব্দদুষণ নেই। সেচ পাম্পে পানির সঙ্গে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাসই তাঁর সেচ যন্ত্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শব্দ দূষনমুক্ত তাঁর ওই পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তিতে মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ এলাকার প্রায় ২ হাজার একর জমিতে বোরো চাষের জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব। এ ছাড়াও উচ্চ মাত্রার ইঞ্জিন দিয়ে বিদ্যুত উৎপাদন করে ব্যাটারি চার্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার বহু গ্রাম বৈদ্যুতিক আলোয় আলোকিত করা যাবে বলে তিনি দাবী করেন। মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ তানভীর আহম্মেদ জানান, কৃষক রবিউল ইসলামের পানির সঙ্গে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি সেচ যন্ত্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার প্রক্রিয়া তিনি পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও তিনি রবিউলের সেচপাম্পে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি সেচযন্ত্রে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াটি দেশের সর্বপ্রথম আবিষ্কার বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
Be Sociable, Share!
বিভাগ: গ্রাম গঞ্জের খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*