• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খবরে শতাধিক দোকানপাট সরিয়ে নিলো দখলকারীরা


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩০, ২০২৫, ৭:৫৬ অপরাহ্ন / ৯৭
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খবরে শতাধিক দোকানপাট সরিয়ে নিলো দখলকারীরা

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের আগেই শতাধিক দোকানপাট নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিয়েছেন দখলকারীরা।

বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান টিম কোটালীপাড়া উপজেলার জিরো পয়েন্ট, পশ্চিমপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এমন চিত্র দেখতে পান।

এ সময় হোটেল ব্যবসায়ী নাসির শেখ বলেন, ১৪ লক্ষ টাকা অগ্রীম দিয়ে ২০ বছর ধরে এখানে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছি। এই উচ্ছেদে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। শুধু আমি নই, আমার মত অনেক ব্যবসায়ীরাই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়লো। মিষ্টির দোকানঘরের মলিক দেলোয়ার শেখ বলেন, প্রতি মাসে ১৪ হাজার টাকা পেতেন দোকান ঘর ভাড়া থেকে। আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। এই দোকান ভাড়া ছিলো আমার আয়ের একমাত্র উৎস। তারপরও সরকরি নির্দেশনা মেনে নিজেই দোকনঘর সরিয়ে নিয়েছি।

এর আগে অভিযানের নোটিশ পেয়ে নিজ উদ্যোগে ঘর সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয় অবৈধ দখলদাররা। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসনের ৩টি বুল্ডোজার দ্বারা অবশিষ্টাংশে চলে ভাংচুরের কাজ। ওয়াপদার হাট, ঘাঘর বাজারের পর অত্র উপজেলায় এটাই ৩য় ধাপের বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। উচ্ছেদের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ভিড় জমায় শত-শত উৎসুক জনতা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত ছিলো চোখে পড়ার মত। ঠান্ডা শেখ, শীপ্রা ওঝা, মিজানুর রহমান তুহিন, বিপ্লব রায় সহ একাধিক ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের বলেন- আমরা এই ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই সরকার আমাদের উচ্ছেদ করে দিলো, ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করে ছিলাম, আমরা এখন কিভাবে বাঁচবো, সরকারের কাছে পুনর্বাসনের জোর দাবি জানাই।

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সামিউল কাদের খান বলেন, পশ্চিমপাড়া এলাকায় সড়কের সাথে জায়গা দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত শতাধিক স্থাপনা (ব্যবসা প্রতিষ্ঠান) সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত ২৬ জুলাই মৌখিকভাবে জানানো হয়। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুসারে আজ উচ্ছেদ অভিযানে এসে দেখতে পাই বেশিরভাগ স্থাপনাগুলো নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিয়েছে। বাকিগুলো সরানোর কাজ চলছে। তিনি আরো বলেন, সড়কের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কের আশপাশে যেকোনো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চলবে। আমরা সকলকে অনুরোধ করছি, মহাসড়কের জায়গা দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করবেন না।

উচ্ছেদ অভিযানে নের্তৃত্ব দেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমীরুল মোস্তফা। এ সময় গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্ভেয়ার শামীম আহমেদ ও কোটালীপাড়া থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।