শিরোনাম

মেসি-মেইসার-সুয়ারেজ নয়, নতুন জুটি ‘সিএনএম’

251394_182খেলার খবর ডেস্ক: বার্সার বিখ্যাত ত্রয়ী ‘মেসি-মেইসার-সুয়ারেজ’ জুটি ভেঙে গেছে অনেক আগেই। যাদের সবাই এসএসএন জুটি বলেই জানতেন। রিয়াল মাদ্রিদের বিবিসি ভেঙে না গেলেও জিদানের রোটেশন পলিসিতে ভাঙন প্রায় স্পষ্ট। এই অবস্থায় বিশ্বফুটবলে মাতাতে এসেছে নতুন জুটি সিএনএম!

কাভানি-নেইমার-এমবাপে। ফুটবল দুনিয়ায় নতুন যুগের শুরু করতে চলেছে এই জুটি। প্যারিস সাঁজার নতুন জুটিতেই মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠেই ৫-০ হার মানল সেল্টিক। কাভানি-নেইমার-এমবাপে প্রত্যেকেই গোল করেছেন এই ম্যাচে।

এই মৌসুমের শুরু থেকেই দল বদলে চমক জাগিয়েছিল পিএসজি। কারণ তাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। সেই জন্য ২২০ মিলিয়ন ইউরো খরচা করে বার্সা থেকে নেইমার ও ১৮০ মিলিয়ন ইউরো খরচা করে মোনাকো থেকে এমবাপেকে দলে ভিড়িয়েছে সাঁজার কাতারি মালিকরা। তাই মাঠের পারফরম্যান্সে উপর চোখ ছিল ফুটবল মহলের। সেল্টিক ম্যাচের এই ত্রয়ীর পারফরম্যান্সে খুশি তারা।

এদিন ম্যাচের পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ফরাসি দলটি। ডান দিক থেকে দানি আলভেসের নিচু ক্রসে এডিনসন কাভানি পা লাগাতে পারেননি। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ তাদের অপেক্ষা করতে হয়নি।

১৯ মিনিটে আদ্রিয়ান রাবিয়টের থ্রু-বল ধরে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে ছুঁড়েন নেইমার। মিনিট চারেক পর প্রায় সমতা ফিরিয়ে ফেলেছিল সেল্টিক। গ্রিফিথের ফ্রি-কিক ফিস্ট করে বের করে দেন পিএসজি গোলকিপার আরেওলা।

১৫ মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুন করেন ফরাসি ওয়ান্ডার কিড এমবাপে। ভেরাত্তির ক্রস নেইমার হেড করে নামিয়ে দেন কাভানির পায়ে। কাভানি বল না মেরে ‘ফলস’ দেন। ফলে বল যায় এমবাপের পায়ে। সেখানে থেকে বল জালে রাখতে ভুল করেননি তিনি।

৪০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন কাভানি। বিরতিতে ৩-০ এগিয়ে ছিল ফ্রান্সের দলটি।

বিরতির পর ম্যাচে দাপট থাকলেও সেভাবে গা ঘামাননি নেইমাররা। ৮৩ মিনিটে মিকায়েল লুস্তিগের আত্মঘাতী গোলে ৪-০ এগিয়ে যায় পিএসজি।

দুই মিনিট পর লেইভিন কুরজাওয়ার ক্রসে ডাইভ দিয়ে হেড করে দলের পাঁচ নম্বর ও নিজের দুই নম্বর গোলটি করেন কাভানি।

পিএসজির পরের ম্যাচ জার্মান চ্যাম্পিয়ন বার্য়ানের সাথে। সিএনএম জুটির আগুনে ফর্ম যে ব্যাভারিয়ান জায়ান্টদের চিন্তায় রাখবে সেটা বলাই বাহুল্য।

অন্য একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডও। গত মৌসুমে ইউরোপা লিগ জিতে প্রায় চারবছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ম্যান ইউ। প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচেই অনায়াসে জয় পেল রেড ডেভিলস। সুইস ক্লাব এফসি বাসেলকে ৩-০ গোলে হারাল মরিনহোর দল। গোলগুলি করেছেন ফেলাইনি, লুকোকু ও রাশফোর্ড।

নেইমারকে কী কী লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল পিএসজি?
২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে নেইমারকে দলে ভিড়িয়েছে পিএসজি। এটা ফুটবলের দলবদলের ইতিহাসে একটি রেকর্ড তো বটেই, এর আগের সর্বোচ্চ যে রেকর্ডটি ছিল তা এর থেকে অর্ধেকেরও কম।

গোল ডট কম খবর দিচ্ছে, পিএসজিতে নেইমারের মূল বেতন হবে বছরে ৩০ মিলিয়ন ইউরো।

বার্সেলোনায় এর এক তৃতীয়াংশ পেতো নেইমার।

মূল বেতনের সাথে নেইমার পাবেন বেশ কয়েকটি বোনাস। আর থাকবে একটি প্রাইভেট জেট বিমান।

এই বিমানে চড়ে ইচ্ছে হলেই নেইমার উড়ে চলে যেতে পারবে ব্রাজিল, এমনই কথা।

এখানেই শেষ নয়। চমক আছে আরো।

জানা গেছে, পিএসজির বোর্ডের মালিকানাধীন হোটেল থেকে যে আয় হবে, তার একটা অংশও নেইমারকে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কেন বার্সেলোনা ছাড়লেন নেইমার?

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ একটা বড় কারণ। ইতিহাসে এত দাম এখনো কোনো ফুটবলারের ওঠেনি। নেইমার বেতনও পাবেন আকাশচুম্বী।

আরেকটি কারণ লিওনেল মেসি।

নেইমার অনেক ভালো ফুটবলার, কিন্তু লিওনেল মেসি এখনো বার্সেলোনায় এক নম্বর। সেই স্থান, মর্যাদা যে সহসা বদলাবে সে সম্ভাবনা নেইমার দেখছেন না। কিন্তু তিনি জানেন পিএসজিতে গেলে তিনি হবেন সেখানকার মধ্যমণি।

কিন্তু পিএসজিই বা নেইমারকে নিতে তহবিল উজাড় করতে প্রস্তুত কেন?

ক্রীড়া বিশ্লেষক মিহির বোস বলছেন, “ক্লাবগুলো এখন আর শুধু ফুটবল খেলেনা, তারা এখন একেকটি কোম্পানি।”

“এমন নয় যে নেইমারকে নিয়ে পিএসজি রাতারাতি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্লাব হয়ে যাবে, চ্যাম্পিয়নস লীগ জিতে যাবে। কিন্তু এত পয়সা নিয়ে নেইমারের মত একজন ফুটবলারকে বার্সিলোনা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিএসজি এটাই জানান দেবে যে তারাও শ্রেষ্ঠ ক্লাব হতে চায়, এবং সেই অর্থ শক্তি তাদের রয়েছে।”

তাছাড়া, নেইমারের মত ফুটবলারকে নিয়ে পিএসিজ এশিয়াতে নিজেদের পরিচিতি বিস্তৃত করতে চায়। নেইমারের নাম লেখা শার্ট বিক্রি করেও প্রচুর পয়সাও করতে পারবে পিএসজি। সুতরাং নেইমারের পেছনে রেকর্ড বিনিয়োগ থেকে যথেষ্ট মুনাফা করতে পারবে পিএসজি।

পিএসজিতে গিয়ে যা বললেন নেইমার

ট্রান্সফার জটিলতার কারণে পিএসজির লীগ ওয়ানের প্রথম ম্যাচে খেলেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। তবে পার্ক ডি প্রিন্সেসে তাকে স্বাগত জানানোর সুযোগটি হাতছাড়া করেনি পিএসজির সমর্থকরা।

নিজের নামে সমর্থকদের এত উচ্ছ্বাস দেখে নেইমার নিজেও দারুণ মুগ্ধ। তাইতো ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেয়া এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘প্যারিসে যাদু আছে।’

চ্যাম্পিয়নস লীগে শিরোপা জয়ের প্রত্যাশায় নেইমারকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে দলে ভিড়িয়েছে পিএসজির কাতারি মালিক। এ সম্পর্কে কোচ উনাই এমেরি বলেছেন, এই চুক্তি উভয় দলের লক্ষ্যকেই সামনে নিয়ে এসেছে। আমরা প্রতিনিয়ত উন্নতির চেষ্টা করছি। নেইমারকে এই বিষয়টি আরো সামনে নিয়ে যাবে। শিরোপা জয়ই এবারের মৌসুমে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি অন্যতম।

বিরতির তিন মিনিট আগে গত মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলতাদা এডিনসন কাভানি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। একপেশে ম্যাচটিতে ৮০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জেভিয়ার পাস্তোর।

পিএসজি কোচ বলেছেন, পুরো পরিবেশটাই দারুণ ছিল, সমর্থকরা আমাদের জয়ের জন্য অনুপ্রাণীত করেছে। আশা করছি পুরো মৌসুমেই এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবো। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও আমরা বেশ ভালোভাবেই নিয়েছিলাম। তবে আরো স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়, আরো বেশি গোল হয়ত হতে পারতো। আর তাতে জয়টাও সহজ হতো।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: খেলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*