শিরোনাম

মেসির রাজসিক ঝলক, জুভেন্টাসকে উড়িয়ে দিলো বার্সা

251378_117খেলার খবর ডেস্ক: জুভেন্টাসকে উড়িয়ে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় দারুণ সূচনা করল বার্সেলোনা। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর মঙ্গলবার রাতে জোড়া গোল। সেইসুবাদে ন্যু-ক্যাম্পে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে জুভেন্টাসকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা।

এ দিন প্রায় জুভেন্টাসের রক্ষণকে অবশ্য খুব একটা পরীক্ষায় পড়তে হয়নি প্রথমার্ধে। ৪৫ মিনিটে মেসি-মুহূর্তের আগপর্যন্ত। মাঝমাঠের একটু পরে ডেমবেলের কাছ থেকে বল পেলেন মেসি। সেটা নিজে অনেকটা টেনে নিয়ে ডি-বক্সের সামনে এসে সুয়ারেজের সঙ্গে ‘ওয়ান-টু’ করে ঢুকে পরলেন বক্সে। বাঁ দিক থেকে তাঁর ডানদিকের পোস্টঘেষা গড়ানো শট আটকানো সম্ভব ছিল না বুফনের পক্ষে। শুধু এমন এক মুহূর্তের কারণেই প্রথমার্ধটা জুভেন্টাস নয়, এগিয়ে থেকে শেষ করল বার্সেলোনা।

অথচ ম্যাচের শুরু থেকেই সুযোগ সৃষ্টি করেছে বেশি ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। বলের দখলে বার্সা এগিয়ে থাকলেও বারবার শটের সামনে পড়তে হয়েছে টের-স্টেগানকেই। ১৯ মিনিটে গিয়ে প্রথম শট নিতে দেখা গেছে সুয়ারেজকে। এর আগেই তিনটি গোলের সুযোগ পেয়েছে জুভেন্টাস। বাকী সময়টা দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেও কাজে লাগাতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফিরতে পারত জুভেন্টাস। ৪৭ মিনিটে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেছেন পাওলো দিবালা। ৫২ মিনিটে মেসির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় কিছুক্ষণের জন্য স্বস্তি পায় জুভেন্টাস।

এর মাঝে ৫৪ মিনিটে ঘটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ঘটনা। পিয়ানিচ মেসিকে ফাউল করলে বাঁশি বাজান রেফারি। মেসি এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে হলুদ কার্ডের দাবি জানিয়ে রেফারির ঘাড়ে হাত দেন। এতে হলুদ কার্ড জোটে মেসির। মিনিট খানেক পরেই নিজের ক্ষোভ অন্যভাবে প্রকাশ করলেন মেসি। ডান প্রান্ত দিয়ে একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে পাস দেন মেসি। সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে রাকিটিচের পায়ে বল তুলে দেন বদলি নামা ডিফেন্ডার স্তুরারো। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সা।

ব্যবধানটা ৩-০ হলো ৬৯ মিনিটে। মেসির আরেকটি রক্ষণ ধ্বংস করে দেওয়া দৌড়ে বুফনকে ফাঁকি দিলেন মেসি। তবে সে শট নেওয়ার সুযগ করে দেওয়ার দায় বারজাল্লিকে নিতে হবে। মেসিকে আটকানোর কোনো চেষ্টাই দেখা যায়নি এই ডিফেন্ডারের মাঝে। এ গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯৯ তম গোলটি হয়ে গেল মেসির।
এরপরও ম্যাচে ফেরারর চেষ্টা করেছে জুভেন্টাস। ৮০ মিনিটে দিবালার শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন টের-স্টেগান। সে শট থেকে পাওয়া কর্নার থেকেও গোল পেতে পারত জুভেন্টাস। কিন্তু বেনেশিয়ার হেড প্রশ্নবিদ্ধভাবে ঠেকিয়ে দেন পিকে। অন্য কোনোদিন হলে, বলটা কি ইচ্ছা করে হাতের উপরের অংশ দিয়ে ঠাকালেন পিকে-এ প্রশ্ন উঠত। কিন্তু কাল দ্বিতীয়ার্ধের জুভেন্টাসের খেলা দেখে সে প্রশ্ন তোলার সুযোগ কোথায়?

মেসিই যে সে সব প্রসঙ্গ ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছেন ম্যাচ শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের অন্য ম্যাচগুলোতেও গোলবন্য হয়েছে। কারাবাগকে ৬ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে চেলসি। সেল্টিককে তাদেরই মাঠে ৫ গোল দিয়েছে নেইমার-এমবাপ্পে-কাভানির পিএসজি। গোল পেয়েছেন ত্রয়ীর সবাই। বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও নিজেদের ম্যাচে পেয়েছে তিন গোলের জয়।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: খেলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*