শিরোনাম

ভারতের বনাম বাংলাদেশ খেলাটাই যেন কিসের একটা প্রতিবন্ধকতা !

বুলবুল আহমেদ সোহেল : ভারতের বনাম বাংলাদেশ খেলাটাই যেন কেমন হয়। কোথায় যেন বাংলাদেশের একটা দুর্বলতা।কিসের যেন একটা প্রতিবন্ধকতা। না যেন কেমন একটা ভয় ভয় নিয়ে খেলা। আবার মনে হয় ছাড় দিচ্ছে নাতো। যদি তাই না হয় তাহলে এ খেলায় কোন মতে হার মানার নয়। জয় ছাড়া বিকল্প শব্দটাই যেন পাতানো মনে হয়। ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খোলায় যেন আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন কোন ভাবে জেতা যাবেনা যে করেই হক হার মানতে হবে। না হয় এমন তীরে এসে তরি ডোবার কথা নয়।এই হার দুঃখজনক বলেই এক কথায় ভাব প্রকাশ করতে চাই।Mashrafi-Out

শফিকের দুটি বাউন্ডারিতে শেষ ওভারের শঙ্কা অনেকটাই দূর হয়ে যাওয়ার পরও এই হার মেনে নেওয়া কঠিন। কিন্তু মেনে নিতে বাধ্য হলাম। টি-টোয়েন্টিতে এ ধরনের খেলা আশাই করা যায় না।  কিন্তু মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকের মতো সিনিয়র ব্যাটসম্যান উইকেটে থাকার পরও  এ রকম হবে কেন ?এটাই আমার প্রশ্ন।
উপরের কথাগুলো ক্ষোভের হলেও এটা বলব যে,টসের সময় টেলিভিশনে দেখে বোঝার উপায় ছিল না গত ম্যাচের উইকেটের সঙ্গে কালকের ম্যাচের উইকেটের পার্থক্য কী ছিল। পরে বুঝলাম, এই উইকেটে টসে জিতে ভারতের মতো দলকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানানো কতটা সাহসী কাজ ছিল। সম্ভবত টুর্নামেন্টেরই সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্তটা নিলেন আমাদের অধিনায়ক।
ফিল্ডিং সাজানোটা ছিল অসাধারণ। আরও ভালো লেগেছে বোলারদের সে অনুযায়ী বল করতে দেখে। ভারতের ব্যাটসম্যানদের বারবারই ফিল্ডারদের কাছে বল পাঠাতে বাধ্য করছিলেন তাঁরা। শুভাগত হোমের কথা আলাদা করে বলতে হয়। ভারতের বিপক্ষে নতুন বলে বল করার সাহসই শুধু দেখাননি তিনি, অধিনায়কের প্রত্যাশা মিটিয়েছেন দারুণভাবে। শুভাগতর সবচেয়ে বড় সাফল্য বিরাট কোহলির উইকেট নেওয়া। ওই সময় কোহলিকে ফেরানো না গেলে হয়তো আমরা ভারতকেও ১৪৬ রানে আটকাতে পারতাম না।

ফিল্ডিংও আগের ম্যাচের তুলনায় অনেক ভালো ছিল। ফিল্ডার সৌম্য সরকার তো প্রতি ম্যাচেই নিজেকে একটু একটু করে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। প্রতি ম্যাচেই একটা না একটা দুর্দান্ত ক্যাচ নিচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে কালকেরটিই আমার চোখে সেরা।
সাকিবকে খুব স্বতঃস্ফূর্ত মনে হলো মাঠে। উইকেট পাওয়ার পর তাঁর যে উদ্‌যাপন দেখলাম, মনে হয়েছে ম্যাচটা তিনি জিততেই মাঠে নেমেছেন। পরে ব্যাট হাতেও দেখলাম আগ্রাসী মূর্তি। ফিল্ডিং সাজানো থেকে শুরু করে সবকিছুতেই দলের সঙ্গে সাকিবকে অনেক বেশি সম্পৃক্ত মনে হয়েছে।
শতভাগ মনে হয়েছে পুরো টুর্নামেন্টে যেভাবে খেলে এসেছেন,  ভারতের বিপক্ষে হয়তো আরও বেশি কিছু দেয়ার কথিা ছিল। কিন্তু ফিল্ডিং ছড়িয়ে দেওয়ার পর যখন সিঙ্গেল নেওয়া খুব সহজ ছিল, তখন জাদেজাকে ওভাবে ডাউন দ্য উইকেটে খেলার কোনো দরকার ছিল না। বল একটু নিচু হলেও জায়গায় দাঁড়িয়ে খেললে ওটা তিনি ব্যাটেই পেতেন। সবচেয়ে দুঃখজনক ছিল সাব্বিরের আউট। ধোনি স্টাম্প ভেঙে দিয়ে যে সুযোগটা নিয়েছেন, খেলায় এই অভ্যাসটাকে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। কিন্তু ধোনি দেখালেন একজন উইকেটকিপারকে কেন এই অভ্যাসটা রপ্ত করতে হয়।
সর্বশেষ ক্ষোভ, হার মানার মতো কোন ব্যাপার নেই এ খেলাটিতে। জেতাটাই আশা করেছে গোটা জাতি। ##

Be Sociable, Share!
বিভাগ: খেলার খবর, মুক্ত কলাম

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*