শিরোনাম

ফুটবলার গড়ার ভাস্কর জিলানী

2adadb4efcb310805664d48dbcc0b07b-Golam-Zilani-imageএত কিছুর পরেও সৈয়দ জিলানীর কণ্ঠে সেই বিনয়ীই, ‘আমি আর এমন কী করেছি। সব কৃতিত্ব আমার দলের ছেলেদের। ওরা প্রতিভাবান। মাঠে সেই প্রতিভার প্রয়োগটাই ওরা করেছে।’
সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল প্রতিযোগিতায় গৌরবের শিরোপাটা হাত দিয়ে ছুঁয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মালিকানা নিজেদের করে নেওয়ার পরেও এর নেপথ্য নায়ক গোলাম জিলানী মনে করেন, সাফের শিরোপাটা কেবল শুরু। পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ। এই দলটাকেই ঘষে-মেজে তৈরি করতে হবে এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই করার লক্ষ্যে।
এক সময় দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছেন। খেলা ছেড়ে দিয়ে কোচিংয়ে মনোযোগী হয়েছেন তা বেশ অনেক দিনই। প্রয়োজনীয় পড়াশোনাও করেছেন ফুটবল কোচিং বিষয়ে। দেশের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নতুন খেলোয়াড় তৈরির কারিগর হিসেবে। অনূর্ধ্ব-১৩, ১৪ দলসহ দায়িত্ব সামলেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের। জাতীয় ফুটবল দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন বেশ কয়েকজন বিদেশি কোচের সঙ্গে। কোচিং অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ জিলানী একটি বিষয় সব সময়ই মানেন, ‘এ দেশে ফুটবল প্রতিভার অভাব নেই। দরকার কেবল প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও বিনিয়োগ।’ সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকায় চোখের সামনে দেখেছেন অজস্র প্রতিভার অকালে ঝরে যাওয়া। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ প্রতিযোগিতা বিজয়ী দলের জন্য আলাদা করেই পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তিনি। সুখের বিষয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবারের অনূর্ধ্ব-১৬ দলটিকে নিয়ে সুচিন্তিত লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। জিলানীর মতে, ‘বাফুফে যদি এদের গড়ে তুলতে পারে, তাহলে সেটা হবে এ দেশের ফুটবলের জন্য দারুণ ইতিবাচক এক ব্যাপার।’
জিলানী এখনো মনে করেন বাংলাদেশের ১ নম্বর খেলা ফুটবল। নিজের কোচিং অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন, এ দেশে ফুটবল প্রতিভার অভাব নেই। সিলেটে বাফুফের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ফুটবল একাডেমিতে যেসব ছেলে ট্রায়াল দিতে আসছে, তারা প্রায় সবাই প্রতিভাবান। ফুটবলের জনপ্রিয়তার কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আঞ্চলিক একাডেমিও ফুটবলার উঠিয়ে নিয়ে আসছে দারুণভাবেই।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলটিকে এ দেশের ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা বয়সভিত্তিক দল মনে করেন সৈয়দ গোলাম জিলানী, ‘এটা দারুণ একটা দল। এই দলে বেশ কিছু খেলোয়াড় আছে যারা আগামীতে দেশের ফুটবলকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যাবে। এরা দারুণ প্রতিভাবান।’
এই দলটির গঠন-প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন আগাগোড়াই। কিছু দিন আগে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইপিলিয়ন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশব্যাপী আয়োজিত ‘সেইলর অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল প্রতিযোগিতা’ এ দেশের ফুটবলের জন্য দারুণ আশীর্বাদ হয়েই এসেছে। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে ২০০ খেলোয়াড়কে বাছাই করে একটি ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই ২০০ জন থেকে প্রথমে ৬০ এবং পরে ৩০ জনে নামিয়ে নিয়ে আসা হয় সেই ক্যাম্প। সেই ৩০ জনের নয়জনই এবারের অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে ছিল। বাকি ছয়জন এসেছে সিলেটের ফুটবল একাডেমি থেকে।
এ ধরনের প্রতিযোগিতা যদি প্রতিবছর নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের ফুটবলের চেহারাই পাল্টে যাবে বলে মনে করেন জিলানী, ‘সেইলর প্রতিযোগিতার মতো প্রতিযোগিতা প্রতিবছর হতে হবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতাই দেশের ফুটবলের খেলোয়াড় জোগানের পাইপলাইনটা গড়ে দেবে।’
সাফ জিতে সৈয়দ জিলানীর লক্ষ্য এখন সেপ্টেম্বরের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সত্যিকারের অগ্নিপরীক্ষা। জিলানী মনে করেন, ‘সাফের সাফল্য বাছাইপর্বে শক্তিশালী দুটি দলের বিপক্ষে আমাদের ভালো করতে অনুপ্রেরণা এনে দেবে। আমরা টক্কর দেব ওই দুটো দলের বিপক্ষে। আমার দলের খেলোয়াড়েরাও নিজেদের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েই এই বাছাইপর্বের মাধ্যমে আগামীর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে তুলবে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: খেলার খবর, সর্বশেষ খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*