শিরোনাম

দ. আফ্রিকা সিরিজ : আজ দল ঘোষণায় বড় চমক

250857_13খেলার খবর ডেস্ক: দুই দিন ধরেই আলোচনায় সাউথ আফ্রিকা সফরের দল কেমন হবে। অনেকেই নিজের মতো করেই দল সাজিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে এতদিন স্পিননির্ভর উইকেট থাকলেও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তাদের মাটিতে পেস উইকেট থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। সেটি মাথায় রেখেই প্রাধান্য দেয়া হবে পেসারদের। এ মাসের শেষ সপ্তাহেই সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে থাকছে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। অর্থাৎ টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ থাকছে। ২৮ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রমের সিউজ পার্কে প্রথম টেস্টে প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। ১৮ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়বে মুশফিক বাহিনী। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে সিরিজের প্রস্তুতি।

সে লক্ষ্যে দল ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল গত শনিবার। স্কোয়াড হবে ১৫ জনের। দেশের মাটিতে স্লো, লো ও টার্নিং উইকেটে অসিদের সাথে খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট এবং বাউন্সি উইকেটে প্রোটিয়াদের সাথে খেলা, দলে পরিবর্তন আসাই স্বাভাবিক। দেশে তিন স্পিনার ছিলেন। সফরে ফাস্ট ও বাউন্সি ট্র্যাকে পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টকে সমৃদ্ধ করে সাজানো হবে দল। ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে ৬০ ভাগ বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। তন্মধ্যে প্রথম পাঁচজনই বাঁ-হাতি। সেই জায়গায়ও আসতে পারে পরিবর্তন। ডানহাতি ব্যাটসম্যানও খুঁজে পেয়েছে বিসিবি।

বোর্ড সভাপতি গত শনিবার প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, হেড কোচ হাথুরুসিংহে, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খানসহ বোর্ডের নীতিনির্ধারক মহলের আরো ক’জন শীর্ষ পরিচালককে নিয়ে গুলশানে নিজ বাসায় দল গঠন নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করলেও গোপন থাকে ঘোষণা। অবশ্য বিসিবি প্রধান বলেন, তিনি অধিনায়ক মুশফিককে তার পছন্দের দল সাজাতে বলেছেন।

সূত্র মতে, নির্বাচক ও কোচের পছন্দের দল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর দল নির্বাচনী প্রক্রিয়া মোটামুটি শেষ। ক্রিকেটার বাছাই ও দল নির্বাচনে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিশেষ বিবেচনায় এসেছে। আজই দল ঘোষণা করা হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট ও বাউন্সি ট্র্যাকের কথা মাথায় রেখে স্পিন শক্তি কমিয়ে পেস ডিপার্টমেন্টকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। তাই ১৫ জনের টেস্ট দলে পাঁচ পেসারের অন্তর্ভুক্তি মোটামুটি নিশ্চিত। তার মানে অস্ট্রেলিয়ার সাথে হোম সিরিজে দলে থাকা তিন পেসার মোস্তাফিজ, শফিউল ও তাসকিনের সাথে আরো দু’জন পেসারকে দলে নেয়া হবে। রুবেল হোসেন ও কামরুল ইসলাম রাব্বির নামও থাকতে পারে। এ ছাড়া টপ অর্ডার ব্যাটিংয়ে বর্তমানে সৌম্য সরকার আর ইমরুল কায়েসের সাম্প্রতিক ফর্ম ভালো না। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে উভয়েই ব্যর্থ। অবশ্য তাদের সাথে আরো যুক্ত হয়েছে চার নম্বর পজিশন। মুমিনুল নিয়মিত খেললে এ পজিশন নিয়ে সমস্যা ছিল না। সমস্যা হলো তাকে নিয়ে পরিক্ষা-নিরীক্ষা। এর বাইরে টপ ও মিডল অর্ডারে খুব বেশি বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। এখানে একজন ডানহাতি ঢুকানো নিয়েও হয় আলোচনা।

যেকোনো সময় স্কোয়াডে অটোমেটিক চয়েজ বলতেও একটা কথা থেকে যায়। তামিম ইকবাল, অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান তেমনি বাংলাদেশ স্কোয়াডে অটোমেটিক চয়েজ। মুশফিকের সাথে একজন রিজার্ভ উইকেটকিপার থাকবেন এটাও শতভাগ নিশ্চিত। এখানে লিটন দাসের সম্ভাবনাই বেশি। তবে নুরুল হাসান সোহানও আছেন আলোচনায়। সৌম্য রান পায়নি বলে যে স্কোয়াডে থাকবে না, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। মুমিনুল হককে নিয়েও সংশয় নেই।

তুলনামূলক ফাস্ট ও বাউন্সি পিচে সৌম্যর ব্যাট সচল, তার ট্র্যাক রেকর্ডও ভাল। তাই সৌম্যকে দলে রাখতে সবাই একমত। পাপনের বাসায় আলোচনায় কেউ সৌম্যের ব্যাপারে নেতিবাচক কথা বলেননি। কারণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রান না পেলেও ‘ওপেনার’ সৌম্যের পরিসংখ্যান ভালো। ৯ টেস্টে ১৭ ইনিংসে ৩২.১১ গড়ে ৫৪৬ রান। সর্বোচ্চ ৮৬। অর্ধশতক চারটি। আর ওপেনার হিসেবে ছয় টেস্টের ১২ ইনিংসে তার সংগ্রহ ৪৩৯ রান। সেখানে ছয় নম্বরে এক টেস্টে তার রান ৩৭, আর সাত নম্বরে ২ টেস্টে ৭০। অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার ইনিংসে মাত্র ৬৫ (৮+১৫+৩৩+৯)।

ইমরুল কায়েসকে নিয়ে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট প্রতিকূল পরিবেশে অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করতে চাচ্ছেন। তিন নম্বরে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও ওপেনার ইমরুলের রেকর্ড বেশ ভালো। ২৫ টেস্টে ৪৮ ইনিংস রান ১২৫৮। গড় ২৭.৩৪। তিনটি সেঞ্চুরির দুইটিই এবং সব কটি হাফ সেঞ্চুরি ওপেন করতে নেমে। তিন নম্বর পজিশনে তার রেকর্ড খারাপ। ৫ টেস্টে ৯ ইনিংসে ২২৭ রান।
বাঁ-হাতির ভিড়ে ডানহাতি খোঁজার চিন্তায় এনামুল হক বিজয়ের কথা উঠে এসেছে। তবে সূত্র মতে নির্বাচকেরা এবং হেড কোচ বিজয়ের বিষয় মোটেই উৎসাহী নন।

আর ওপরের দিকে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তেমন প্রভাব ফেলবে না। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় অফ স্পিনার নেই। মোকাবেলা করতে হবে ফাস্ট বোলারকে। এখানে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সেঞ্চুরি করে প্রমাণ দিয়েছেন রিয়াদ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি এসেছে তার ব্যাট থেকে। এ জন্য তাকে আবার টেস্ট দলে ফেরানোর কথা ভাবা হচ্ছে। আলোচিতই থেকে যেতে পারেন নাসির। দুই বছর পর টেস্টে ফিরে চট্টগ্রামে সুবিধা করতে পারেননি। কোচ, টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচক- কারোরই মন জয় করতে না পারায় তার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বাড়তি পেসারের অন্তর্ভুক্তিতে খুব স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়তে পারেন বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামও।

সব কিছু মিলে গেলে হয়তো আজ দল ঘোষণায় থাকতে পারেন মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, লিটন দাস/নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও কামরুল ইসলাম রাব্বি।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: খেলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*