শিরোনাম

আবার ‘বিদ্যুৎ’ চমকাল বেইজিংয়ে

818c01ec0df7afbdb29e7eaa6619b8f4-8তিনি ট্র্যাকে নামবেন, জিতবেন এবং জেতার পর ছবির জন্য ‘লাইটনিং বোল্ট’ পোজ দেবেন। এটাই তো নিয়ম বানিয়ে ফেলেছিলেন উসাইন বোল্ট। যে নিয়মের শুরুটাও এই বেইজিং থেকেই, সাত বছর আগে অলিম্পিকে। সেই বেইজিংয়ে ট্র্যাকে নামার আগে কি না প্রশ্ন শোনা যাচ্ছিল, ‘এবার বোল্ট না জাস্টিন গ্যাটলিন?’ অস্বাভাবিক বৈকি! ১০০ মিটারের হিট এবং সেমিফাইনাল, দুটোতেই গ্যাটলিনের চেয়ে বোল্ট পিছিয়ে থাকার পর সেই প্রশ্নটা আরও জোরালো হলো।
জবাবটা বোল্ট দিলেন ফাইনালে। যে বার্ডস নেস্ট স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে ২০০৮ অলিম্পিকে তিনটি সোনা জয়ের পর বোল্ট-রাজত্বের শুরু হয়েছিল, সেখানেই কাল তাঁর মুকুটে যোগ হলো আরও একটি পালক। বেইজিংয়েই আরও একবার ‘বিদ্যুৎ’ চমকাল। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতে ধরে রাখলেন বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব। বোল্ট সময় নিয়েছেন ৯.৭৯ সেকেন্ড। সেকেন্ডের এক শ ভাগের এক ভাগ সময় পরে দৌড় শেষ করে দ্বিতীয় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাটলিন।
শুধু ট্র্যাকেই নয়, কথার লড়াই-ও ছিল! সব ভুলে সোনা জেতার পর জাস্টিন গ্যাটলিনকে আলিঙ্গনে বাঁধলেন উসাইন বোল্ট l রয়টার্সসাত বছর পর এবার বোল্টের একনায়কীয় রাজত্বে গ্যাটলিন হানা দিতে পারেন—এমন ভাবনা আসার কারণ ছিল মূলত দুটো। প্রথমটা যদি জ্যামাইকান কিংবদন্তির কোমরের চোট হয়, দ্বিতীয়টা গ্যাটলিনের দুর্দান্ত ফর্ম। বেইজিংয়ে ট্র্যাকে নামার আগে টানা ২৮টি দৌড়ে অপরাজিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩ বছর বয়সী স্প্রিন্টার। এ মৌসুমে ১০০ মিটারে সেরা সময়টাও (৯.৭৪) তাঁর। অন্যদিকে চোটের কারণে বোল্ট ট্র্যাকের বাইরেই ছিলেন ছয় সপ্তাহ। ফাইনালের আগে এ মৌসুমে ১০ সেকেন্ডের কম সময়ে দৌড়েছেন মোটে দুবার, গত মাসে ডায়মন্ড লিগে। হিট কিংবা সেমিফাইনাল, কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি চেনা বোল্টকে। কাল সেমিফাইনালে তো শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিলেন। ধারাভাষ্যকাররাও তখন বলছিলেন, শুধু বোল্ট বলেই সেটা সামলে ফাইনালে জায়গা করে নিতে পেরেছেন। অন্য কারও পক্ষে এটা সম্ভব হতো না। সেমিফাইনালে বোল্টের সময় লেগেছিল ৯.৯৬ সেকেন্ড, গ্যাটলিনের ৯.৭৭।
কিন্তু বোল্ট যে বরাবরের মতোই নিজের সেরাটা তুলে রেখেছিলেন ফাইনালের জন্য। না, একটু ভুল হলো। এ ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ডটা (৯.৫৮) যার দখলে, তাঁর কাছে কি আর ৯.৭৯ সেরা হতে পারে! সোনা জিতেও তাই বোল্টের কণ্ঠে অসন্তুষ্টি, ‘এটাও আমার সেরা নয়। আমি আবারও টলে গিয়েছিলাম।’
বোল্টের এবারের সাফল্যের ভিন্ন তাৎপর্য আছে। ২০০৬ থেকে ২০১০—এ পাঁচ বছরে দুবার ডোপ পাপে নিষিদ্ধ হয়েছেন গ্যাটলিন। ফিরে আসার পর দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও অ্যাথলেটিকস-বিশ্বে তাঁর ভাবমূর্তিটা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল খলনায়কের। আর বোল্ট তো সব সময়ই ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। কেউ কেউ তাই এটাকে দেখছিলেন ভালো আর মন্দের চিরাচরিত লড়াই হিসেবে। যে লড়াইয়ে ‘ভালো’কে জেতানোর দায় চেপে গিয়েছিল বোল্টের কাঁধে। জয়ের পর বোল্ট অবশ্য এসব বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাননি, ‘আমি নির্ভার হয়েই নেমেছিলাম, কোনো চাপ ছিল না। আমার লক্ষ্য, অবসরের আগ পর্যন্ত এক নম্বর হয়েই থাকা।’
এমন লক্ষ্যের কথাও শুধু বোল্টের মুখেই মানায়। এএফপি, স্টার স্পোর্টস।
০.০১ সেকেন্ড
অলিম্পিক ও বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে ১০০ মিটারের পাঁচটি ফাইনালে এবারই সবচেয়ে কম ব্যবধানে জিতলেন বোল্ট। এর আগে ২০১৩ সালে গ্যাটলিনকে হারিয়েছিলেন ০.০৭ সেকেন্ডের ব্যবধানে।

যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল লুইস, মাইকেল জনসন ও অ্যালিসন ফেলিক্সকে ছাড়িয়ে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বেশি সোনাজয়ী অ্যাথলেট এখন উসাইন বোল্ট
১১
৯ সোনা, ২ রুপা—মোট ১১টি পদক। বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বেশি পদকজয়ী পুরুষ অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট। পেছনে ফেলেছেন ১০টি পদক জয়ী কার্ল লুইসকে

Be Sociable, Share!
বিভাগ: খেলার খবর, সর্বশেষ খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*