• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

খুলনা ওয়াসায় ক্ষোভ-অস্থিরতা চরমে : নিয়ম ভেঙে ২৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তাকে পিডি নিয়োগ


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ন / ২০৪
খুলনা ওয়াসায় ক্ষোভ-অস্থিরতা চরমে : নিয়ম ভেঙে ২৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তাকে পিডি নিয়োগ

খুলনা অফিসঃ নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২)’ বাস্তবায়নের আগেই খুলনা ওয়াসায় দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা ও ক্ষোভ। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তদ্বির, নিয়ম লঙ্ঘন ও অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, যা পুরো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

হঠাৎ নিয়োগ, বোর্ড মিটিং ছাড়াই সিদ্ধান্ত
গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. ইবাদত হোসেন স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগপত্র খুলনা ওয়াসায় পৌঁছায়। এতে বলা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অনুরোধে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে পিডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো—মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বোর্ড সভা ছাড়াই এই নিয়োগ জারি করা হয়। অথচ অর্থ বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্প পরিচালক হতে হলে ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া বাধ্যতামূলক।

নিয়ম উপেক্ষা করে ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা পিডিঃ নিয়ম অনুসারে খুলনা ওয়াসায় ৪র্থ গ্রেডের উপযুক্ত কর্মকর্তা না থাকায় প্রেষণে পিডি নিয়োগের সুপারিশ থাকার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা করা হয়নি। বরং সব নিয়ম উপেক্ষা করে একজন ৬ষ্ঠ গ্রেডের প্রভাবশালী প্রকৌশলীকে পিডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওয়াসার একাধিক সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী খুলনার একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অতীতে তিনি আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে আবার সাবেক ছাত্রশিবির পরিচয় সামনে এনে নতুন রাজনৈতিক মহলে তদ্বির চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

৫ কোটি টাকার ‘মিশন’-এর অভিযোগঃ ওয়াসা ভবনের ভেতরে চাউর রয়েছে—এই পিডি নিয়োগের পেছনে প্রায় ৫ কোটি টাকার একটি ‘মিশন’ পরিচালিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত হয়নি, তবে অভিযোগের ব্যাপকতা ওয়াসার ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ‘সমন্বয়ক’–রাজনৈতিক নেতৃত্ব–বোর্ড সদস্য যোগসূত্র

সূত্র মতে, ঢাকার এক আলোচিত ‘সমন্বয়ক’, নতুন রাজনৈতিক দলের এক নারী নেত্রী এবং খুলনা ওয়াসার ছাত্র প্রতিনিধি বোর্ড সদস্য ইব্রাহিম খলিল—এই তিন পক্ষের সমন্বয়েই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হয়েছে বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য, ইব্রাহিম খলিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াসার বোর্ডে যোগ দেন। অন্যদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রেজাউল করিম অতীতে আইইবি নির্বাচনে আওয়ামী ঘরানার প্যানেল থেকে অংশ নিয়েছিলেন।
ওয়াসার ভেতরে চাপা আগুনঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান,কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন— এই নিয়োগ বাতিল না হলে বড় ধরনের প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।