• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

খুলনা ওয়াসায় অচলাবস্থা : উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ চলমান


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ন / ১৩৬
খুলনা ওয়াসায় অচলাবস্থা : উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ চলমান

খুলনা অফিসঃ শোক দিবস ও সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকে খুলনা ওয়াসা ভবনের সব দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়ন।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ওয়াসা ভবন। এ সময় অধিকাংশ কর্মকর্তাকে অফিসে অনুপস্থিত দেখা যায়।
খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়ন ও শ্রমিকদের অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে বুধবার সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি থাকলেও সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে খুলনা ওয়াসা ভবন খোলা রাখা হয়।

তাদের আরও অভিযোগ, ওই দিন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালা সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেন। তিনি নিজে ও তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় শোক উপেক্ষা করে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করেননি।

এমনকি জাতীয় পতাকাও অর্ধনমিত রাখা হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, শোক দিবসের দিন গোপনে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রক্রিয়া শুরু করা হয় এবং অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ভুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়। এসব ঘটনায় শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াসা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বুধবারের ঘটনার প্রতিবাদে প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

খুলনা ওয়াসার সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কবির হোসেন। বক্তব্য দেন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিএম আ. গফ্ফার, সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, দুলাল উদ্দিন খান ও মুকুল হোসেন।

সমাবেশে শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্য সচিব মুকুল অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা চলাকালে খুলনা ওয়াসায় ভুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে, যা শোকের মর্যাদার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের প্রমোশন দেওয়া হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদের দোসর ছাত্রলীগ ক্যাডারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি একজন সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, খুলনা ওয়াসার প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই সাতজন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং অবৈধ নিয়োগকে বৈধ করতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে।

কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও শোক দিবসকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালা।

শোক উপেক্ষা করে অফিস খোলা রেখে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। আমরা তার অপসারণ দাবি করছি।

এদিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের কারণে বৃহস্পতিবার অনেক কর্মকর্তাই অফিসে যাননি। উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুমুর বালাও অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।

খুলনা ওয়াসার সচিব মাহেরা নাজনীন বলেন, বুধবার আমি ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্যার ঢাকায় মিটিংয়ে রয়েছেন। তিনি রোববার অফিসে এলে বিষয়টি জানানো হবে।

খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, বেলা ১১টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তিনি নিজেও সেখানে যান। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।