• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

খুলনায় জামায়াতে ইসলাম প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির দুই দায়িত্বশীল নেতা


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৩, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ন / ২৮২
খুলনায় জামায়াতে ইসলাম প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির দুই দায়িত্বশীল নেতা

খুলনা অফিসঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে খুলনা–২ আসনে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির দুইজন দায়িত্বশীল নেতার প্রকাশ্য ও হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি দলের ভেতরে ও বাইরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি রাজনৈতিকভাবে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে বলে মনে করছেন দলটির একাধিক নেতাকর্মী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল খুলনা–২ আসনের একটি এলাকায় জামায়াত প্রার্থীর প্রচার কার্যক্রম চলাকালে বিএনপির ৩১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং একই ওয়ার্ডের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক গাজী আফসার উদ্দিন ও সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক বর্তমান নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক শহিদ খানকে ওই সকল নির্বাচনী অনুষ্ঠানে সক্রিয় ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণভাবে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা বলেন, জামায়াত একটি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত। সেই দলের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অংশগ্রহণ দলীয় আদর্শের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এটি শুধু দলের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তারা আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নীরবতা মানেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি প্রশ্রয় দেওয়া।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন কর্মকাণ্ড দলের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই নেতার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বিএনপির ঘোষিত আদর্শের পরিপন্থী। ফলে এই ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান সাংগঠনিক পদক্ষেপ না নিলে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।

সদর থানা বিএনপির সভাপতি কেএম হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ওই দুই নেতা দলীয আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতিমধ্যে মহানগরের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ বলেন, আফসার উদ্দিন ও শহীদ খান যেটা করেছেন তা মোটেই সমর্থনযোগ্য না। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।