

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদেরকে চাপ দিয়ে নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) অনুমোদিত পাঠ্যবই ছাড়া অন্য কোনো নোট, গাইড বা সহায়ক বই পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বা শিক্ষার্থীদের কিনতে উদ্বুদ্ধ করা নিষিদ্ধ থাকলেও সেই নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৬৮নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির অভিভাবক-শিক্ষক এসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের গাইড বই কেনার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে উদ্বুদ্ধ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের ওপর বই কেনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
অভিযোগকারী তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক-শিক্ষক এসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, “অনেক অভিভাবক আমার কাছে অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষকেরা প্রকাশনীর প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে গাইড বই কেনার জন্য চাপ দিয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।”
সরেজমিনে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, শিক্ষক ও গাইড বই কোম্পানির প্রতিনিধি তাদের ক্লাসে এসে গাইড বই কিনতে বলেন। শিক্ষকদের কথামতো তারা অভিভাবকদের দিয়ে বই কিনিয়েছে বলেও স্বীকার করে কয়েকজন শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কোটালীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, সরকার নোট-গাইড বা সহায়ক বই নিষিদ্ধ করেছেন। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বই কিনতে উদ্বুদ্ধ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে গাইড নির্ভর শিক্ষা শিশুদের সৃজনশীলতা ব্যাহত করে এবং সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
আপনার মতামত লিখুন :