শিরোনাম

সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আম ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেছে

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:  সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আমের উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেটজাতকরণ সবই হচ্ছে বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে। আর এই কাজগুলো করছেন মাঠ পর্যায়ের আম চাষীরা। ইউরোপের দেশগুলোতে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আমের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘সাতক্ষীরা ব্রান্ড’ নামের হিমসাগর, লেংড়া, আম্র্রপালিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু আম রফতানির জন্য সাতক্ষীরা এখন প্রস্তুত।দ্বিতীয় বছরের মতো এবারও সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আম ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এক মেট্রিকটনের হিমসাগর আমের একটি চালান পৌঁছেছে ইতালিতে। এ বছর ইউরোপের বাজারে ‘সাতক্ষীরা ব্রান্ড’ আম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫শ’ মেট্রিকটন। আর এ জন্য উন্নত দেশগুলোতে কিভাবে গাছ থেকে নিরাপদে আম সংগ্রহ করা হয়ে থাকে তার নানা কলা কৌশল শিখানো হয়েছে চাষীদের।mango এ ছাড়া আম প্যাকেজিং এবং তা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত করে রাখতে যা যা করণীয় তা নিয়েও প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন চাষীরা। এ ক্ষেত্রে তারা সনাতন পদ্ধতি এড়িয়ে চলেছেন। জোর দিয়েছেন বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির ওপর। নিরাপদ আম সংগ্রহে চাষীদের কাছে নির্দিষ্ট তাপে আমের পচনরোধে হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, হ্যান্ডগ্লোবসসহ নানা সরঞ্জামও তুলে দেয়া হয়েছে। বিদেশে রফতানিযোগ্য আম সংগ্রহে কিভাবে নিরাপদ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে তাদের।

সাতক্ষীরা থেকে উৎপাদিত আম গত বছর প্রথম রফতানি করা হয় ইউরোপের বাজারগুলোতে। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরা সদর উপজেলা থেকে ২৩ মেট্রিক টন আম রফতানি করা হয়েছিল।, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো কলারোয়া উপজেলার হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্র্রপালি আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। এজন্য উপজেলার ৮০টি বাগান মালিকের সঙ্গে নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী মৌসুমের শুরুতেই বাগান পরিচর্যার কাজ শুরু হয়েছিল। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে আম উৎপাদনের পর ১৭ মে প্রথমবারের মতো ২ টন হিমসাগর আম ইতালি রফতানি করা হয়। ১৯ মে ৪ টন হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আম্রপালি রফতানিতে এখনও সময় লাগবে কিছু দিন। তখন আরও অন্তত ২৫ টন আম রফতানি করা সম্ভব হবে কলারোয়া থেকে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এবার সাতক্ষীরা জেলায় তিন হাজার নয় শ’ দশ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি করা হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারী সংস্থা উত্তরণ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান জানান, আম রফতানির পূর্ব পর্যন্ত পরিচর্যা করা হয়েছে। আম সংগ্রহ করে প্যাকেজিংয়ের পূর্ব পর্যন্ত মনিটরিং অব্যাহত রাখা হয়েছে। নিরাপদ আম উৎপাদনের জন্য সাতক্ষীরার দেড় শতাধিক চাষীকে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

কলারোয়া ইলিশপুর গ্রামের আম চাষী শিমুল বিশ্বাস জানান, তিনি এবার ত্রিশ বিঘা জমিতে আম চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার আমের মুকুলে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্য বারের তুলনায় এবার আমের ফলন কম হয়েছে। মুকুল থেকে গুটি পর্যন্ত তিন স্তরে স্প্রে করার পর থেকে আমে আর কোন রাসায়নিক অথবা কীটনাশক প্রয়োগ করেননি তিনি। ফলে আম হয়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বেসরকারী সংস্থা সলিডারিডাড ও উত্তরণের যৌথ সহায়তায় চাষীরা আম উৎপাদন করেছেন। জৈব সার, আর্সেনিকমুক্ত পানি এবং মাছি পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার করেছেন তারা। আম চাষে গুড এগ্রিকালচার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। হর্টিকালচার বিশেষজ্ঞ ড. নাজমুননাহার সাংবাদিকদের জানান, আম চাষীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী আবদুল মান্নান জানান, এবার সাতক্ষীরায় তিন হাজার নয় শ’ দশ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি করা হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। অচিরেই সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের ‘ম্যাংগো ক্যাপিটাল’ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ##

Be Sociable, Share!
বিভাগ: কৃষি খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*