শিরোনাম

পানিকচু চাষে নিউটনের সফলতা

2016_04_21_13_01_07_Gi39MWxLeX2G5sZgMiZVcI24t1CqDU_originalআজকের বিডি রিপোর্ট : পানিকচুর চাষ করে ভাগ্য খুলেছে খুলনার চাষী নিউটনের। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষীদের মাধ্যেও দেখা দিয়েছে কচু চাষের ব্যাপক আগ্রহ। বিল ও ঘেরের পাড় থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজস্ব পদ্ধতিতে রোপন ও পরিচর্যার মাধ্যমে এ কচুগুলোর উচ্চতা হয়েছে প্রায় ১০ ফুট। এ বছর মাত্র ৭৫ শতক জমিতে তার কচু চাষের সাফল্য নিউটনের পরিবারের স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে।

স্বল্প ব্যয়ে এবং স্বল্প সময়ে এ কচু চাষে অধিক টাকা লাভবান হওয়ায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ঘোনা মাদারডাঙ্গা এলাকার কৃষক নিউটন মণ্ডলের দেখা দেখি এ অঞ্চলের অনেকে ইতোমধ্যে কচু চাষ শুরু করেছে।

কৃষক নিউটন মণ্ডল আজকের বিডি ২৪ কে জানান, ‘একটি বেসরকারি জুট মিলের কাজ ছেড়ে দিয়ে ৩৪ শতক জমি বর্গা নিয়ে প্রাথমিকভাবে ধান চাষ শুরু করেন তিনি। ধান চাষে তেমন লাভবান না হওয়ায় স্ত্রীর পরামর্শে জমির এক অংশে স্থানীয় কিছু পানি কচুর চারা রোপন করেন। তারপর থেকে আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ৮ বছর ধরে তিনি পানিকচু চাষ করছেন। গত বছর তিনি কচু চাষ করে লক্ষাধিক টাকা লাভ করেছেন। এবার আরও বেশি জমিতে সে কচু চাষ করছেন।

তিনি বলেন, ‘এ বছর ৭৫ শতক জায়গাতে কচু চাষ করা হয়েছে। মাত্র ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫ মাসে কচুগুলো প্রায় ১০ ফুট লম্বা হয়েছে যেগুলোর প্রতিটির ওজন হয়েছে ২০ থেকে ৩০ কেজি। ইতোমধ্যে কচুর লতি বিক্রি করে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা আয় করেছি। আর ক্ষেতের কচু ও ফুল আরও লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি হবে।’

তিনি আজকের বিডি ২৪ কে বলেন, ‘ঘেরের পাড় থেকে দেশি জাতের কিছু পানিকচুর চারা সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে চারা রোপন করা হয়। তারপর এতে সরিষার খৈল, গোরোজিন দস্তা, ড্যাব, এমপি সার, গুটি ইউরিয়া ও থিয়বিট ব্যবহার এবং সপ্তাহে একদিন পানি দিয়ে নিজ হাতে অত্যন্ত যত্নে করে সর্বোপরি পরিচর্যার মাধ্যমে তার এই কচু চাষ। কচু চাষ করার পর থেকে আমার পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এখান থেকে উপার্জিত অর্থ জমিয়ে এবার গরুর খামার করেছি। সেই সঙ্গে বাগদা চিংড়ি এবং পানের বরজও করতে সক্ষম হয়েছি। আশা রাখি আর ফিরে তাকাতে হবে না।’

তিনি জানান, তার দেখাদেখি এলাকার কৃষক ব্রজলালের বিশ্বাস, কেশব লাল, রিপন, কার্তিক, সুব্রত, বিশ্বজিৎ গুরুপদ মল্লিক, রবি ও অমল, ধিমান এখন কচু চাষে নেমেছেন। তারাও এবার লাভবান হবে বলে নিউটন আশাবাদী।

নিউটনের স্ত্রী প্রীতিলতা মণ্ডল আজকের বিডি ২৪ কে জানান, এখান থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে মেয়ের লেখাপড়াসহ পরিবারের সকল ব্যয় মেটানো হয়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভিন্ন কিছু চাষের চেষ্টা থেকেই এই কচু চাষের ধারণা ও সাফল্য অর্জন। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কচু চাষের সাফল্যগাঁথা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ায় প্রতিনিয়ত অনেকেই আসছে কচুক্ষেত দেখতে।

কৃষক ব্রজলাল বিশ্বাস আজকের বিডি ২৪ কে বলেন, ‘জমিতে ধানের চাষ করতাম। কিন্তু তেমন লাভবান না হওয়ায় এবার নিউটনের সহযোগিতা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রায় এক বিঘা জমিতে কচু চাষ করছি।’ কচু চাষে এবার লাভবান হবেন বলে তিনিও আশাবাদী।

কৃষক কেশব লাল আজকের বিডি ২৪ কে জানান, নিউটনের দেখাদেখি এবার কচু চাষ শুরু করেছি। ভালো ফলন হয়েছে। এতে খরচও কম হয়।

ডুমুরিয়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ হারুন অর রশিদ আজকের বিডি ২৪ কে জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিউটন মণ্ডলের দেখাদেখি এবার এলাকার অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে কচু চাষ করছেন। তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কচু চাষে তিনটি ফসল আসে। এর মধ্যে কচুর লতি, ফুল এবং কচু। যা মানবদেহের জন্য পুষ্টিকর একটি খাদ্য। কচু চাষে এখানকার অনেকের ভাগ্য খুলেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল লতিফ আজকের বিডি ২৪ কে জানান, ‘পানিকচু মানবদেহের পুষ্টি ও কৃষকের আর্থিক চাহিদা পূরণে সক্ষম। এবার বাণিজ্যিকভাবে কৃষকরা কচু চাষ করছেন। পানি কচু চাষে স্বল্প ব্যয় হওয়ায় নিউটনের দেখাদেখি অনেকে কৃষক এবার কচু চাষে আগ্রহী হয়েছে। জেলায় এবার ৪৯ হেক্টর জমিতে শুধুমাত্র পানি কচু চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ৩০ টন কচু আবাদ হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: কৃষি খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*