শিরোনাম

নাটোরে ঝড়ে ধান-আম-লিচুর ব্যাপক ক্ষতি

2016_04_02_13_29_18_bO0ryzHkGAf19WJp6pk0TxDXDumShR_originalজেলা সংবাদদাতা:  নাটোরের হালতিবিলের ঝড়ে উঠতি পাকা বোরো ধান ও গুরুদাসপুরে বৃহস্পতিবার শিলাবৃষ্টিতে আম-লিচু বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা।

খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. আলহাজ আহমেদ, নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার আমিরুল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ক্ষেত পরিদর্শন করেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবারের রাতের ঝড়ে হালতিবিলের অধিকাংশ জমির প্রায় ৮০ ভাগ ধান পাক ধরেছে। এ সমস্ত পাকা ধান ঝড়ের কবলে মাটিতে লুটে পড়েছে। পাকা ধানগুলো শীষ থেকে ঝরে পড়েছে মাটিতে। আধা-পাকা ধানগুলো নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। কেউ কেউ আধা-পাকা এসব ধান মাটিতে ঝরে পড়ার আগেই কেটে নিচ্ছে।

খোলাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আশরাফুল, খাজুরা গ্রামের কৃষক সাদেকুর রহমান, মহিবুর রহমান জানান, ঝড়ের কারণে বিলের অধিকাংশ জমির পাকা ধান মাটিতে পড়ে গেছে। এ অবস্থায় বিঘা প্রতি অন্তত ৩ থেকে ৪ মন ফলন কম হবে। যদি দু’একদিনের মধ্যে আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় আর রোদ হয়, তাহলে কৃষকের কিছুটা ক্ষতি কম হবে।

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার আমিরুল ইসলাম জানান, জিরাশাইল ও মিনিকেট জাতের ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ব্রি-২৮, ২৯সহ অন্যান্য জাতের ধানের অবস্থা ঠিকই আছে।

তিনি আরো জানান, এই উপজেলায় ৮ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বোরোর চাষ হয়েছে। ঝড়ের কবলে ১০ থেকে ১২ ভাগ জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিঘা প্রতি দুই থেকে আড়াই মন ধান ফলন কম হবে। তাতে কৃষকদের শঙ্কার কিছু নেই।

2016_04_02_13_30_11_LhDb6kn1z3V0cyN1GCtkzid2fXbmOk_original

অপরদিকে, জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলায় আম লিচু বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার নাজিরপুর, বিয়াঘাট ও চাপিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন আম ও লিচু বাগান ছাড়াও সংলগ্ন সিংড়ার চামারী ইউনিয়নের শতাধিক আম লিচু বাগানের অধিকাংশ গাছের আমের কুঁড়ি ও লিচুর গুটি পড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট বাগান মালিকরা ব্যাপকভাবে লোকসানের শিকার হয়েছেন।

কুমারখালির লিচু বাগান ব্যবসায়ী ইউনুস আলী জানান, তার বেশ কয়েকটি বাগানের লিচু গুটি শিলাবৃষ্টিতে ঝড়ে পড়েছে। এতে করে বাগানের পরিচর্যা খরচ ওঠাই কঠিন হবে।

সোনাপুরের আম বাগান মালিক আব্দুল মালেক জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে তার ৫ বিঘা জমির আম বাগানের প্রায় অর্ধেকাংশ আম কুঁড়ি ঝড়ে পড়েছে। এতে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, ‘উপজেলার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির আম লিচু বাগানের ওপর দিয়ে যে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি বয়ে গেছে তাতে বাজার মূল্য বেশি গেলে চাষীরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তবে আবহাওয়া অনুকুলে এলে গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সার প্রয়োগ করা জরুরি বলে মনে করি।’

Be Sociable, Share!
বিভাগ: কৃষি খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*